ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৪১ মিনিট ২০ সেকেন্ড

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ , হেমন্তকাল, ৫ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০

খুলনা পাইকগাছা প্রেসক্লাবে দুই সন্তানের জননীর সংবাদ সম্মেলন

পাইকগাছা প্রেসক্লাবে দুই সন্তানের জননীর সংবাদ সম্মেলন

এইচ,এম,শফিউল ইসলাম,নিরাপদনিউজ: দীর্ঘ ৯ বছর স্বামীর সংসারে সুখী দম্পত্ত্বির জীবন কাটলেও সম্প্রতি চাকুরীজীবি ভাসুর, শশুর, শাশুড়ির ষড়যন্ত্রের কারনে তছনছ হতে বসেছে এমন অভিযোগে গতকাল সন্ধায় পাইকগাছার কপিলমুনি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে স্বামীর স্বীকৃতি সহ সংসার ফিরে পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নাজমা খাতুন নামে এক গৃহবধু। ৬বছরের প্রতিবন্ধি ছেলে নাইম ও ৩বছরের মেয়ে লামিয়া সহ গত ৩মাস পূর্বে নাজমাকে তাড়িয়ে দিয়েছে শশুর পরিবারের লোকজন। এরপর থেকে দু’সন্তান নিয়ে এলাকার বিত্ত্ববানদের দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও অসহায় গৃহবধু নাজমার প্রতি এতটুকু হৃদয় টলেনি শশুর শাশুড়ি ভাসুরকে। একপর্যায় কপিলমুনি প্রেসক্লাবের কর্মরত সাংবাদিকদের নিকট আকুতি জানান নাজমা। স্বামীর স্বীকৃতি পেতে ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে চাইলে গত ৫ নভেম্বর সন্দ্যায় কপিলমুনি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সাংবাদ সম্মেলনে কান্না জড়িত কন্ঠে অসহায় গৃহবধু নাজমা তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, দীর্ঘ ৯ বছর পূর্বে পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালী ও সোনাতনকাটি গ্রামের মীর রাজ্জাক আলীর ছোটপুত্র মীর লিয়াকত আলীর সাথে আমার বিবাহ হয়। আমার পিত্রালয় ঢাকার আশুলিয়া (সাভার) থানার জিরাবরের তয়ৈবপুর গ্রামে। আমার বিয়ের পর দাম্পত্ত্ব জীবন সুখেই কাটছিল। আমার সুখের জন্য আমার পিতা আমাদের অর্থনৈতিক সহযোগীতা করে আসছিল। এরই মধ্যে আমার পিতা মৃত্যুবরণ করেন। আমার মা স্বামী মৃত্যুর শোক সহ্য করতে না পেরে তিনিও মারা যান। আমি বর্তমানে এতিম। আমাকে দেখার মত অবশিষ্ঠ কেউ নাই। নাজমা বলেন, আর এ সুযোগে আমার ভাসুর মীর শওকত আলীর পরামর্শে শশুরবাড়ির লোকজন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় স্বামী সংসার থেকে আমাকে তাড়িয়ে দিতে। শুরু করে অমানবিক নির্যাতন। পিতামাতা হারা বিধায় আমি সব নির্যাতন মুখবুজে সহ্য করতে থাকি। কিন্তু পরপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায়, গত ঈদে ভাসুর শওকত আলী চাকুরী থেকে বাড়িতে এসে আমাকে বেদম প্রহর করে। তার একটাই কথা’ বাড়ি তোকে ছাড়তেই হবে। আমি সন্তান দুটোর কথা ভেবে কাউকে কিছু বলিনি। এরপর ক্ষ্যান্ত হয়নি তারা। পশুর মত আচারনের এক পর্যায় আমার শশুর রাতের আঁধারে আমার ঘরে ঢুকে শ্লীতহানী করে যা পরদিন আমি আমার শাশুড়িকে জানালে তিনিও শশুরের মতে চলতে পরামর্শ দেন। এরপর আমি আরো নিরুপায় ও অসহায় হইয়া পড়ি। এক পর্যায় আমার চাচাশশুর মীর সাজ্জাদ আলী রাতের আঁধারে আমার ঘরে ঢুকে পড়ে ঘুমন্তাবস্থায় আমাকে জড়িয়ে ধরে, তখন ধস্তাধস্তির এক পর্যায় আমার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কামড়ে ক্ষতবিক্ষত করে দেয়। উপায়ন্তু না পেয়ে পরিত্রাণ পেতে আমি একটি মামলা করি। যার নাং সিআর-৭৫০/১৮। এই মামলা এখন কাল হলো আমার জন্য। আমি দীঘর্ দিন বাড়ি ছাড়া হয়ে দুটি সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। এ ব্যাপারে প্রশাসনের সুদৃষ্টি চেয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অসহায় গৃহবধু নাজমা।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)