আপডেট ১ মিনিট ১০ সেকেন্ড

ঢাকা মঙ্গলবার, ২ আশ্বিন, ১৪২৬ , শরৎকাল, ১৭ মুহাররম, ১৪৪১

স্বাস্থ্য কথা পাইলস চিকিৎসা

পাইলস চিকিৎসা

নিরাপদনিউজ: পাইলস কি? পাইলস বা গেজ হলো মলদ্বারে এক ধরনের রোগ যেখানে রক্তনালিগুলো বড় হয়ে গিয়ে ভাসকুলার কুশন তৈরি করে। বিশ্বব্যাপী এই রোগের প্রাদুর্ভাব খুব বেশি। এক গবেষণায় দেখা যায় লন্ডনের প্রায় ৪০% অধিবাসী এই রোগে আক্রান্ত। আমাদের দেশে এ-সংক্রান্ত কোনো তথ্য উপাত্ত না থাকলেও, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি, বিভিন্ন কারণে আমরা যে সব রোগীদের কোলোনোস্কোপি পরীক্ষা করে থাকি তাদের প্রায় ৮০%ই এ রোগে আক্রান্ত। শিশুসহ যে কোনো বয়সের লোকই এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।

পাইলস কেন হয়?

পাইলস কেন হয় এ প্রশ্নের উত্তর এখনো চিকিৎসা শাস্ত্রে অজানা। তবে আগেই যেমনটি বলা হয়েছে, পাইলস হচ্ছে মলদ্বারের এক ধরনের ভাসকুলার কুশন যার মধ্যে শিরা ও ধমনি থেকে সরাসরি রক্ত প্রবাহিত হয়। বিশেষ ধরনের টিস্যু দিয়ে মোড়া থাকে বলে এই কুশনগুলো থেকে রক্তক্ষরণ হয় না। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অথবা অন্য কোনো কারণে যেমন, কষা পায়খানার জন্য এই কানেকটিভ টিস্যু আবরণটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে রক্তক্ষরণ শুরু হয়।

পাইলস কত ধরনের?

মলদ্বারের পেকটিনেট লাইনের ওপরে যে সব পাইলস থাকে সেগুলোকে বলা হয় ইন্টারনাল পাইলস, আর অন্য দিকে এই লাইনের নিচের পাইলসগুলোকে বলা হয় এক্সটারনাল পাইলস। তবে পাইলসের এড়ষরমযবৎ ক্লাসিফিকেশনটি বেশি প্রচলিত, যেখানে পাইলসকে ফার্স্ট, সেকেন্ড, থার্ড ও ফোর্থ ডিগ্রি এই চার ভাগে ভাগ করা হয়।

পাইলসের লক্ষণ কি?

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পাইলসের রোগীদের কোনো লক্ষণ থাকে না। অন্য কোনো কারণে কোলোনোস্কপি পরীক্ষা করতে গিয়ে রোগীরা প্রথমবারের মতো জেনে অবাক হন যে তাদের পাইলস আছে।

সিমটোমেটিক রোগীরা সাধারণত পায়ু পথে তাজা রক্ত যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন। কখনো কখনো রোগীদের অন্য রকম কমপেস্ননও থাকতে পারে। এর মধ্যে আছে পায়ু পথে চুলকানি, রস নিঃসরণ, ফুলে যাওয়া কিংবা কিছু একটা নেমে আসা। কারো কারো পায়ু পথে তীব্র ব্যথাও হয়ে থাকে।

তবে মনে রাখতে হবে যে, পায়ু পথের সমস্যা মানেই পাইলস নয়। ফিশার, ফিস্টুলা, ওয়ার্ট, পলিপ, প্রলান্স আর এমনকি ক্যান্সারেও একই রকম লক্ষণ দেখা যেতে পারে।

কখন পাইলসের চিকিৎসা করবেন?

শুধুমাত্র রক্তক্ষরণ হলেই পাইলসের চিকিৎসা করতে হবে এমন ধারণাটি ঠিক নয়। বরং এতে অনেক সময় বেশি দেরি হয়ে যায় এবং বিনা অপারেশনে হেমোরয়েড ব্যান্ড লাইগেশনের মাধ্যমে এ রোগে চিকিৎসা করা তখন আর সম্ভব নাও হতে পারে। অতএব, পাইলস আছে জানতে পারলে রোগের লক্ষণ দেখা দেয়ার জন্য অপেক্ষা না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

হেমোরয়েড ব্যান্ড লাইগেশন কি?

আমাদের দেশে তুলনামূলকভাবে নতুন হলেও হেমোরয়েড ব্যান্ড লাইগেশন পাইলসের একটি প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসা পদ্ধতি। ১৯৬৩ সালে প্রথম এই চিকিৎসা পদ্ধতি সফলভাবে প্রয়োগ করা হয়। কালের বিবর্তনে এই পদ্ধতিটি অনেক আধুনিক হয়েছে। এখন এ পদ্ধতিতে এক সঙ্গে তিনটি পর্যন্ত পাইলসে রিং পরনো সম্ভব। ২০০৫ সালে উরংবধংবং ড়ভ ঈড়ষড়হ ধহফ জবপঃঁস নামের একটি শীর্ষস্থানীয় মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত এক মেটা-এনালাইসিসে দেখা যায়, হেমোরয়েড ব্যান্ড লাইগেশন পাইলসের সবচাইতে কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি।

এ পদ্ধতিতে পাইলসের চিকিৎসায় সুবিধা বহুমাত্রিক। এতে সময় লাগে খুবই কম-বেশি হলে ১-২ মিনিট। রোগীর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। রোগী হেঁটে হাসপাতালে আসেন এবং হেমোরয়েড ব্যান্ড লাইগেশন শেষে হেঁটেই হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরেন। এর খরচও খুব কম যা অপারেশনের তুলনায় বলতে গেলে কিছুই না। সবচেয়ে বড় কথা এ পদ্ধতিতে চিকিৎসায় সাফল্যের হার ৮০% এরও বেশি। কমপিস্নকেশন প্রায় নেই বললেই চলে। হাতে গোনা দুই-একটি ক্ষেত্রে রোগীরা মামুলি ব্যথা বা রক্তক্ষরণের কমপেস্নন করে থাকেন।

বাংলাদেশে হেমোরয়েড ব্যান্ড লাইগেশন

আশার কথা দেরিতে হলেও বাংলাদেশে এখন হেমোরয়েড ব্যান্ড লাইগেশন হচ্ছে এবং এতে সাফল্যের হারও খুব ভালো। আমাদের সেন্টারে আমরা এখন পর্যন্ত যে শতাধিক রোগীর হেমোরয়েড ব্যান্ড লাইগেশন করেছি তাতে সাফল্যের হার শতভাগ আর সাময়িক অসুবিধা হয়েছে মাত্র দুজন রোগীর।

অতএব, একথা অবশ্যই বলা যেতে পারে যে, হেমোরয়েড ব্যান্ড লাইগেশন পাইলসের চিকিৎসায় আসলেই একটি অসাধারণ চিকিৎসা পদ্ধতি।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)