ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৫৭ সেকেন্ড

ঢাকা শনিবার, ৭ আশ্বিন, ১৪২৬ , শরৎকাল, ২২ মুহাররম, ১৪৪১

জাতীয়, লিড নিউজ পাকিপ্রেমে হাবুডুবু যারা তারা ডুবেই যাক: গণহত্যা দিবসে প্রধানমন্ত্রী

পাকিপ্রেমে হাবুডুবু যারা তারা ডুবেই যাক: গণহত্যা দিবসে প্রধানমন্ত্রী

গণহত্যা দিবসে প্রধানমন্ত্রী

নিরাপদনিউজ :  বাংলাদেশে বসে যারা এখনো পাকিস্তানের প্রতি অনুরাগী, তাদের উপযুক্ত ‘শিক্ষা’ দেওয়ার কথা বলেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘পাকিপ্রেমী যারা, তাদের শিক্ষা আমরা দিতে পারব। আমরা যখন উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি তখন যারা পাকিপ্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে তারা ডুবেই যাক, সেটাই আমরা চাই।’

‘২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষে গতকাল রবিবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনাসভায় শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশের উল্টোযাত্রার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পঁচাত্তরের পর পুরো ইতিহাসই বদলে গিয়েছিল। এমনকি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী, এটাও বলা যাবে না। পাকিস্তান যে হানাদার ছিল, সেটাও ভুলিয়ে দেওয়ার জন্য শুধু হানাদার বাহিনী বলা হতো। পাকি প্রেম এমন পর্যায়ে ছিল।’ তিনি বলেন, ‘তখন পাকি প্রেমে যারা হাবুডুবু খেয়েছে, তাদেরও উপযুক্ত জবাব বাংলার মানুষকে দিতে হবে। তাদেরও শাস্তি দিতে হবে। তাদের ওই পাকি প্রেম ভুলিয়ে দিতে হবে। এই বাঙালি যদি এটা না পারে, তাহলে নিজেদের অস্তিত্ব থাকবে না।’

বিএনপির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধী, গণহত্যায় জড়িতদের মদদ দিয়েছে বিএনপি। তাদেরকেই মন্ত্রী-উপদেষ্টা বানিয়েছেন জিয়া ও খালেদা জিয়া। তাঁরা আর লোক খুঁজে পাননি। ওই গণহত্যাকারীরাই ছিল তাঁদের পেয়ারের লোক। কারণ তাঁদের পেয়ারে পাকিস্তান।’ তিনি বলেন, ‘যারা যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দিয়েছে তারাও সমান অপরাধী। তাদেরও বিচার হওয়া উচিত। তারা দেশের স্বাধীনতা চায়নি।’ আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, পঁচাত্তরপরবর্তী জিয়া, এরশাদ ও খালেদার সরকারের মূল লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানকে খুশি রাখা। তাই তারা এ দেশের উন্নতি চায়নি।

যুদ্ধ শুরুর সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গ্রেপ্তারের স্মৃতিচারণা করে তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী হতে চাননি বলেই ২৫শে মার্চ রাতে পালিয়ে যাননি বঙ্গবন্ধু। স্বাধীনতার আন্দোলন বিচ্ছিন্নতাবাদী রূপ পেলে আন্তর্জাতিক সমর্থন পাওয়া যাবে না, তা জানতেন তিনি (বঙ্গবন্ধু)। একতরফাভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিলে সেটা আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃতি পায় না। পয়লা মার্চ থেকে ২৫শে মার্চ পর্যন্ত জাতির পিতার যে নিয়ন্ত্রণ ছিল, সেটা থেকে ইয়াহিয়া খান বুঝতে পেরেছিলেন এই নিয়ন্ত্রণ আর ফিরে পাবেন না। তাঁরা এটাও চাচ্ছিলেন যে একটা কিছু ঘটুক, যাতে তাঁরা শেখ মুজিবুর রহমানকে বিচ্ছিন্নতাবাদী বলতে পারেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ই মার্চের ভাষণে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। যুদ্ধ পরিচালনার জন্য যা কিছু দরকার সব ছিল ওই ভাষণে। ২৫ মার্চের নির্মমতার চিত্র তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের বাড়ির আশেপাশে সব বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দেয়। জাতির পিতা স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ৩২ নম্বরের বাড়িতে আক্রমণ করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। জাকির খান সাহেব এসে আমাকে, রেহানাকে নিয়ে যান।’

পাকিস্তানি হানাদারদের বীভৎস গণহত্যার বর্ণনা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “‘মানুষ নয়, মাটি চাই’-এ নীতিতে গণহত্যা চালিয়েছে পাকিস্তান। এত অল্প সময়ে এত মানুষ হত্যা দুনিয়ার আর কোনো যুদ্ধে ঘটেনি।” তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান গণহত্যার হুকুম দেন, মেজর জেনারেল টিক্কা খানকে পূর্ব বাংলার গণহত্যার দায়িত্ব দেন। আলবদর, আলশামস, রাজাকার বাহিনী এই বিভিন্ন বাহিনী গড়ে তুলে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া আর গণহত্যা চালানো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়া নিজেই সন্দিহান ৩০ লাখ লোক নাকি মরেনি, তাদের নাকি মারেনি। তারা তো নিজেরাই মানুষ খুন করে অভ্যস্ত, নিজেরাই মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে। তাদের পক্ষে এটা বলাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশের স্বাধীনতায় আদৌ তারা বিশ্বাস করে কি না? আমার সন্দেহ। অথচ সেই গণহত্যা গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডেও উঠে এসেছে। এটা ছিল সব থেকে ভয়াবহ, মারাত্মক এবং অধিক সংখ্যার গণহত্যা। ইন্টারনেটে ইউটিউবে গিয়ে সার্চ করলে অনেক তথ্য এখনো পাওয়া যায়। পৃথিবীর এমন কোনো পত্রিকা নেই যেখানে এই গণহত্যার কথা ওঠেনি।’

২৫ মার্চের নির্মম চিত্র তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা যখন বের হই তখন রাস্তায় রাস্তায় লাশ পড়ে থাকতে দেখেছি। ধানমণ্ডি, মিরপুর রোড থেকে শুরু করে ঢাকা শহরে শুধু লাশ আর লাশ। বস্তিতে আগুন দিয়েছিল, মানুষের চিৎকার আর এদিকে দাউদাউ করে আগুন। সমস্ত জায়গায় বাড়িতে বাড়িতে ছিল বাংলাদেশের পতাকা, যে বাড়িতে পতাকা দেখেছে সে বাড়িতেই হামলা করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২৫ মার্চ থেকে শুরু করে পুরো ৯টা মাস গণহত্যা চালিয়েছে। আত্মসমর্পণ করার আগে আমাদের আটক করা হয়। মিত্র বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করার পর অনেকেই ভেবেছিল আমরা বুঝি মুক্ত হয়ে গেছি।’

আলোচনাসভায় আরো বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম প্রমুখ।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)