ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯

ঢাকা শনিবার, ৭ আশ্বিন, ১৪২৬ , শরৎকাল, ২২ মুহাররম, ১৪৪১

ভ্রমন পাহাড়ী রাজ্য মেঘালয় এবং শিলংয়ের এলিফ্যান্ট ফলস: অপূর্ব সৌন্দর্যের লীলাভুমি

পাহাড়ী রাজ্য মেঘালয় এবং শিলংয়ের এলিফ্যান্ট ফলস: অপূর্ব সৌন্দর্যের লীলাভুমি

কুদ্দুস আফ্রাদ, নিরাপদ নিউজ: মেঘালয়ের পূর্ব খাসিয়া পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়ছে এলিফ্যান্টস ফলস। ভারতের খাসিয়া রাজ্যে এ ঝরনা ধারাকে বলা হতো, ‘কা খাসাইদ লাই পাতেং খোসিউ।’ যাকে বাংলায় বলা যায় তিন ধাপের ঝরনা। এখানে তিনটি ধাপে পাথর বেয়ে নামে পানি। পরবর্তীতে ব্রিটিশরা এ ঝরনার নাম দেয় এলিফ্যান্ট ফলস। ব্রিটিশরা এলিফ্যান্ট ফলস নাম দেওয়ার কারণ মূল ঝরনার বাম পাশে একটি বড় প্রস্তরখণ্ড ছিল, যা দেখতে হুবহু হাতির মতো। তবে ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে সেই প্রস্তরখণ্ড ভেঙে পড়ে। ঝরনাটি মেঘালয়ের রাজধানী শিলং থেকে বেশ কিছুটা দূরে। ঘণ্টাখানেক দূরত্বের পথ। তারপরেই এলিফ্যান্টস ফলস। এ ঝরনার সৌন্দর্য অবলোকন করতে বছরখানেক আগে এসেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও।
শিলং-এর বিখ্যাত চেরাপুঞ্জি ঝরনা ও এলিফ্যান্টস ফলস ঝরনাসহ আরও কিছু সৌন্দর্যময় জায়গা দেখতে মাস দেড়েক আগে এক সকালে (১৮ জুলাই, ২০১৯) গুয়াহাটি থেকে চারটি গাড়িতে আমরা রওনা হই। সঙ্গে ছিলেন ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের সহকারী হাই কমিশনার শাহ মো. তানভীর মনসুরসহ ৮জন সফরসঙ্গী সাংবাদিক। হাতি ঝরনায় আসার আগে আমরা মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ে চিফ মিনিস্টার কনরাড সাংমা (Conrad Sangma) এর সঙ্গে দেখা করি। শিলং এর একটি হোটেলে সকালের নাস্তা সেরে নেই। এখান থেকে বিদায় নেন সহকারী হাই কমিশনার শাহ মো. তানভীর মনসুর। তারপর ৮ জনের এ দলটি তিনটি গাড়ীতে আঁকাবাঁকা ও উঁচু-নিচু পাহাড়ি পথ, সেই সঙ্গে পথের দুপাশে পাহাড়ি সৌন্দর্য দেখতে দেখতে হাতি ঝরনায় যখন পৌঁছাই তখন পৌণে দুপুর। ঝরনা প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের ভিড় ব্যাপক। দর্শনার্থীদের অধিকাংশই ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে এসেছেন। আছেন বাংলাদেশসহ ভিন দেশের পর্যটকেরাও। ঝরনার প্রবেশ মূল্য ২০ রুপি। ঝরনার প্রবেশপথেই বেশ কয়েকটি দোকান আছে।

এ সব দোকানে স্থানীয় নারী-পুরুষের ঐতিহ্যবাহী আদি পোশাক, গহনা ও ঢাল-তলোয়ার ভাড়া পাওয়া যায়। মূলত এগুলো নমুনা। ঝরনা দেখতে আসা দর্শনার্থীরা এসব নমুনা পোশাক ও গহনা পরে কিংবা হাতে ঢাল-তলোয়ার নিয়ে ছবি তোলেন এবং অল্প সময়ের জন্য তারা হয়ে যান পাহাড়ের স্থানীয় আদিবাসী। এখানে রয়েছে তিনটি ঝরনা। একটি সমতলের মতো পাহাড় থেকে নেমে এসেছে পানির ধারা। অন্যটি তিনটি স্তরে নেমেছে। যেটিকে বলা হয় ‌’এলিফ্যান্ট ফলস’। তবে এলিফ্যান্ট ফলস দেখতে হলে নামতে হয় প্রায় ৩০০ সিঁড়ি বেয়ে নিচে। সেখানে নামলেই হিম শীতল অনুভূতি। চারদিকেই পাথর চুঁয়ে পড়ছে পানি।
আমরা প্রথমে আসি ঝরনার প্রথম স্তরে। ঝরনাটির দুপাশে বন। আর সেই বনের মধ্য দিয়ে গড়িয়ে আসছে পানি। হয়তো অন্য কোনো উঁচু পাহাড়ি ঝরনা থেকে এ পানি আসছে। কারণ পুরো মেঘালয় রাজ্যটি পাহাড়ি চূড়ায় অবস্থিত। তাই এক পাহাড়ের ঝরনার পানি গড়িয়ে গড়িয়ে মেশে আরেক পাহাড়ের ঝরনায়। এভাবে হয়তো মেঘালয়ের অধিকাংশ ঝরনারই একটার সঙ্গে আরেকটার মিল খুঁজে পাওয়া যাবে। প্রথম স্তর থেকে সিঁড়ি বেয়ে কিছুটা নিচে নামলে দ্বিতীয় স্তর। এ স্তরটি মূলত একটি সেতু। দুই পাহাড়ের মধ্য দিয়ে চলে গেছে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)