আপডেট ৭ মিনিট ৮ সেকেন্ড

ঢাকা মঙ্গলবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ , গ্রীষ্মকাল, ১৫ রমযান, ১৪৪০

চট্টগ্রাম, নারী ও শিশু সংবাদ পাহাড়ের আলো শারীরিক প্রতিবন্ধী দীপা নন্দী

পাহাড়ের আলো শারীরিক প্রতিবন্ধী দীপা নন্দী

শফিক আহমেদ সাজীব,নিরাপদনিউজ:  দীপা নন্দী। শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও অদম্য মেধাবী। সে এবার এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়ে অসামান্য কৃতিত্ব দেখিয়েছে। পানছড়ি উপজেলায় গত তিন বছরে এসএসসি পরীক্ষায় প্রথম জিপিএ ৫ পেয়েছে সে।

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও অভাব-অনটন তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি তাকে। দীপার স্বপ্ন আরও পড়ালেখা করে সমাজের মানুষের সেবা করা।

পানছড়ি উপজেলা সদরের হাজারী টিলা এলাকায় মামা-মামির কাছে থেকে মানুষ হয়েছে দীপা। ছোটবেলায় দীপার মানসিক প্রতিবন্ধী মাকে ছেড়ে চলে যায় বাবা। সে থেকে দীপা ও তার মা মামা-মামির কাছে থাকেন। প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা ও জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়ে মেধার স্বাক্ষর রেখেছিল দীপা। সংসারে অভাব-অনটন থাকায় শ্রেণি কার্যক্রমের বাইরে প্রাইভেট পড়ার সুযোগ ছিল না। তাই পরীক্ষার আগ মুহূর্তে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাকে বিনা পারিশ্রমিকে পড়াতেন।

দীপা নন্দী বলে, আমার সফলতার পেছনে আমার মামা-মামির পরই আমার শিক্ষকদের অবদান স্মরণীয়। তারা যদি আমাকে অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতা না করতেন তবে আমি এতদূর আসতে পারতাম না। এখন আমার ইচ্ছে খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজে পড়ার। পড়ালেখা শেষ করে ভালো একটা সরকারি চাকরি করতে চাই। আমার মতো সমাজে যারা সুবিধাবঞ্চিত তাদের নিয়েও কাজ করতে চাই আমি।

দীপার মামি চুমকি বিশ্বাস বলেন, আমি ও আমার স্বামীর সামান্য আয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। আমাদের এক মেয়ে ও দীপার পড়ালেখার ব্যয় বহন করা আমাদের পক্ষে কষ্টসাধ্য। এখন যদি সে অন্যত্র পড়ালেখা করতে যায় তাহলে আমাদের পক্ষে তার স্বপ্ন পূরণে সহযোগিতা করা সম্ভব হয়। সমাজের বিত্তবানরা যদি দীপার পাশে দাঁড়ান, তাহলে তার পড়ালেখা চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

দীপা জানায়, পানছড়ির সাংবাদিক সাজু তার মেধা নিয়ে আগে প্রতিবেদন করেছেন। এতে স্থানীয় প্রশাসন তার কথা জানতে পারে। পানছড়ির সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বর্তমানে খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আবুল হাশেম দীপার পড়ালেখার ব্যয় বহনের প্রস্তাব দিয়েছেন।

আবুল হাশেম বলেন, এত প্রতিবন্ধকতার মাঝেও দীপার সফলতা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। শারীরিক প্রতিবন্ধিতা তার অদম্য মেধার কাছে বাধা হতে পারেনি। সে শুধু মেধাবী নয়, সৃজনশীল একজন মানুষও বটে। পানছড়িতে চাকরি করার সুবাদে আমি তার অনেক প্রতিভা দেখেছি। দীপা যাতে সমাজের অন্যদের সাথে প্রতিযোগিতা করে নিজের মেধার স্মারক রাখতে পারে সে জন্য আমি সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানরা যদি তার মতো সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে দাঁড়ান, তাহলে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন তা দ্রুত বাস্তবায়ন হবে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)