আপডেট ডিসেম্বর ২৬, ২০১৮

ঢাকা শনিবার, ৬ মাঘ, ১৪২৫ , শীতকাল, ১২ জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪০

সম্পাদকীয় পিইসি ও জেএসসির ফল

পিইসি ও জেএসসির ফল

নিরাপদ নিউজ : জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) এবং প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা (পিইসি) ও ইবতেদায়ি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। একই দিনে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৫ম শ্রেণির প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় এবার পাসের হার ৯৭.৫৯ শতাংশ। ইবতেদায়িতে পাসের হার ৯৭.৬৯ শতাংশ। প্রাথমিকে জিপিএ ৫ পেয়েছে তিন লাখ ৬৮ হাজার ১৯৩ জন। ইবতেদায়িতে পূর্ণ জিপিএ পেয়েছে ১২ হাজার ২৬৪ জন। প্রাথমিক সমাপনী ও ইবতেদায়ি উভয় ক্ষেত্রেই এবার পাসের হার ও জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি।

অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় এবার পাস করেছে ৮৫.৮৩ শতাংশ শিক্ষার্থী। জিপিএ ৫ পেয়েছে ৬৮ হাজার ৯৫ জন শিক্ষার্থী। প্রাথমিক ও ইবতেদায়ির মতো গতবারের চেয়ে এবার জেএসসি-জেডিসিতে পাসের হার বাড়লেও পূর্ণ জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। অবশ্য এবার চতুর্থ বিষয়ের নম্বর যোগ করা হয়নি। এ বিষয়ের নম্বর যোগ করলে হয়তো জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাবে।

জিপিএ ৫ কিংবা পাসের হার নয়, একজন শিক্ষার্থী কতটা মানসম্পন্ন হয়ে গড়ে উঠতে পারছে, সেটাই হচ্ছে মূল বিবেচ্য বিষয়। আমাদের দেশে মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবার শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে গেলে প্রয়োজন মানসম্পন্ন শিক্ষক। আমাদের দেশে, বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষায় মেধাবীরা আসতে চায় না। এর পেছনে কারণও রয়েছে। এখন পর্যন্ত শিক্ষকদের জন্য আলাদা বেতনকাঠামো করা যায়নি। শিক্ষকদের আকৃষ্ট করার মতো বেতনকাঠামো অনেক বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নেই।

ফলে মেধাবীরা এ পেশার প্রতি আকৃষ্ট হতে পারছে না। অন্যদিকে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করা যায়নি। অনেক জায়গাতেই সারা বছর খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করা হয়।

আবার শিক্ষার্থীদের ওপর অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষার আগে প্রাথমিকের সমাপনী পরীক্ষা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। গ্রাম ও শহরের শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে এখনো বিস্তর ফারাক। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে না পারলে শিক্ষার সুফল সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া যাবে না।

শিক্ষার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকতে হবে। আগামি দিনের বাংলাদেশ বিনির্মাণে উপযোগী প্রজন্ম গড়ে তোলার দায়িত্ব সবার। সেই লক্ষ্যে সবার আগে নিশ্চিত করতে হবে মানসম্পন্ন শিক্ষা। বই উৎসবের মধ্য দিয়ে ভালো ফলের আনন্দ উপভোগ করুক শিক্ষার্থীরা। কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জানাই অভিনন্দন।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)