ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯

ঢাকা সোমবার, ৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ২০ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১

অর্থনীতি ‘পোশাক শিল্পে আগ্রাসন ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

‘পোশাক শিল্পে আগ্রাসন ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

নিরাপদ নিউজ: সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হলো প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) ও দ্য বিগ এ কমিউনিকেশন-এর যৌথ উদ্যোগে ‘পোশাক শিল্পে আগ্রাসন ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনার। সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশীয় পোশাক শিল্পের ডিজাইনার এবং ফ্যাশন হাউস মালিকগণ। এছাড়াও গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমের সাংবাদিকগণ। মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন শেখ সাইফুর রহমান, ডেপুটি এডিটর, প্রথম আলো ডিজিটাল ও ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি অ্যানালিস্ট। বৈঠকে বক্তরা দেশীয় ফ্যাশন শিল্পের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেন এবং সে সঙ্গে উঠে আসে ক্রমাগত বিদেশী পোশাক কিভাবে দেশীয় ফ্যাশন জগতকে ঘিরে রেখেছে সে চিত্র। দেশীয় পোশাক শিল্পের অগ্রগতির অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত হয় নিত্য নতুন ডিজাইনের স্বল্পতা, সুতার অপ্রতুলতা, ফ্যাশন হাউসের বছরান্তে দ্বিগুনেরও বেশি ভাড়া বৃদ্ধি, দেশীয় কাপড়ের অপর্যাপ্ততা ইত্যাদি। এছাড়াও দেশ প্রেম থেকে কাজ করে যাওয়ার তাগিদ দেন সবাই।
এ প্রসঙ্গে অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি কানিজ আলমাস খান বলেন, কয়েক বছর আগেও ভারতে বেড়াতে গেলে সেদেশের লোকজন বলতো আপা এর পরের বার আসলে আপনাদের দেশের এরোমেটিক সাবান, কিউট লোশন কিংবা জামদানি শাড়ি নিয়ে আসবেন। সেসব দিন পার করে ভারত আজ সেসব পণ্য উৎপাদনে স্বয়ং সম্পূর্ণ। অথচ সংকট থাকা স্বত্ত্বেও সে সময় অন্য কোন পন্য তারা তাদের দেশে ঢুকতে দেয়নি। সে ফল আজ তারা পাচ্ছে। সময়ের সঙ্গে নিজেদের আপডেট রেখে তারা আজ বিশ্ব বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে। তবে আমাদের দেশে যেভাবে অন্যান্য দেশের সংস্কৃতি এবং পণ্য ঢুকে গেছে সেটা আটকানো এখন আর সম্ভব নয়, তবে সময় এখন নিজেদের আপডেট করার। পরিবর্তন দরকার মানসিকতার। তবেই নিজ দেশের পণ্য মাথা তুলে দাঁড়াবে। তার এ কথার সঙ্গে একাত্বতা ঘোষণা করে প্রধান অতিথি বিবি রাসেল বলেন, বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের পণ্য মানুষ আজকে থেকে চেনে না। মাঝের কিছু সময় আমরা সৌখিন ব্যবসায়িদের কবলে পড়ে গুণগত মান কমিয়ে ফেলেছি। তবে এখন আবার সময় এসেছে ঘুরে দাঁড়াবার। দেশীয় সুতায় তৈরি জামদানি এখনও সৌরভ ছড়াচ্ছে। এখনও এদেশের তাঁতিদের হাতে জাদু রয়েছে। এদের যথাযত ব্যবহার ও পারিশ্রমিক নিশ্চিত করতে হবে।
দেশীয় সুতা ও কাপড়ের উৎপাদন বাড়াতে হবে। আরেক ধাপ বাড়িয়ে বিশেষ অতিথি চঞ্চল মাহমুদ বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে কয়েক দফা মোটা ফ্যাশনে ভেরিয়েশন এসেছে। এবং সেসব ছিল দেশীয় উদ্যোগে ফ্যাশন ট্রেন্ডের একটা পরিবর্তন। কিন্তু এখন অন্যান্য দেশের ফ্যাশন ট্রেন্ড দেখে এদেশের ফ্যাশন ট্রেন্ড পরিবর্তিত হয়। এটা দু:খজনক। ডিজাইনারদের এদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
এছাড়া দেশীয় পোশাক শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের ব্যাংকিং সুবিধা দিতে চেষ্টা করবে অগ্রণী ব্যাংক এ আশ্বাস দেন অগ্রণী ব্যাংকের হেড অব পিআরডি রুহিয়া আক্তার।
পরিশেষে ফ্যাশন সাংবাদিকতা এবং ফ্যাশন শিল্পের যে কোন কাজে পিআইবি’র সহযোগীতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান অনুষ্ঠানের সভাপতি পিআইবি’র মহাপরিচালক জনাব জাফর ওয়াজেদ। এছাড়াও সেমিনারে আগত অতিথি, সকল বক্তা, শ্রোতা ও স্পন্সরদের (অগ্রণী ব্যাংক,ডিমান্ড, রে কমিউনিকেশনস, আর্ট) প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে সভার ইতি ঘোষনাণা করেন তিনি। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দৈনিক জনকণ্ঠের সাংবাদিক তৌফিক অপু।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)