ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট জুন ২০, ২০১৯

ঢাকা মঙ্গলবার, ২ শ্রাবণ, ১৪২৬ , বর্ষাকাল, ১৩ জিলক্বদ, ১৪৪০

সংগঠন সংবাদ ‘প্রত্যাশা ২০২১ ফোরাম’সহ অন্যান্য নাগরিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে মানববন্ধন পালিত

‘প্রত্যাশা ২০২১ ফোরাম’সহ অন্যান্য নাগরিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে মানববন্ধন পালিত

নিরাপদ নিউজ:  স্বেচ্ছাব্রতী নাগরিক সংগঠন ‘প্রত্যাশা ২০২১ ফোরাম’ ও অন্যান্য ১৬টি নাগরিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে ২০ জুন ২০১৯, বৃহস্পতিবার সকাল ১১.০০ জাতীয় প্রেসক্লাব এর মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ মিলনায়তনে বৈষম্য হ্রাস, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রান্তজন সহায়ক বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবীতে সাংবাদিক সম্মেলন ও পরে একই দাবীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়।

প্রত্যাশা ২০২১ ফোরাম এর সভাপতি এস এম আজাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ও সাবেক মন্ত্রী, দেশের অন্যতম শীর্ষ আইনবিদ ব্যারিস্টার এম, আমীর-উল- ইসলাম। সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন ফোরামের সদস্য সচিব রুহি দাস, সহসভাপতি শামসুন নাহার আজিজ লীনা, কার্যনির্বাহী সদস্য আতাউর রহমান মিটন , হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ডের ইয়ূথ কো অর্ডিনেটর গাজী আনিকা আসলাম ও এ্যাডঃ আলেয়া বেগম লাকী।

সাংবাদিক সম্মেলনে ব্যারিষ্টার আমীর উল ইসলাম নাগরিক সমাজের পক্ষে ১৬টি দাবী তুলে ধরেন। তিনি তাঁর লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, জনগণের অনগ্রসর অংশ তথা দরিদ্র ও অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়নকে ‘জাতীয় অগ্রাধিকার’ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। জাতীয় অগ্রাধিকার এর আলোকে দেশের সকল সরকারী-বেসরকারী ও উন্নয়নশীল সংস্থা, প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির সমন্বয়ে সর্বস্তরে ‘দারিদ্র্য নির্মূল বিশেষ কর্মসূচী’ (ক্রাশ প্রোগ্রাম) গ্রহণ করতে হবে। ইউনিয়নভিত্তিক দারিদ্র্য নির্মূল পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করে দেশের সকল ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনকে নিজ নিজ এলাকায় হতদরিদ্র ব্যক্তিদের সঠিক তালিকা প্রণয়ন করে তা সংশ্লিষ্ট এলাকাভিত্তিক ওয়েব সাইটে প্রকাশ করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচীর পরিধি ও পরিমাণ উভয়ই বৃদ্ধি করে হতদরিদ্র ও দরিদ্র মানুষদের সহায়তা বাড়াতে হবে। খাদ্য, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসহ সকল মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় সহায়ক আইন প্রণয়ন করতে হবে। আত্ম কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক গ্রামীণ উদ্যোগগুলিতে ৫% সুদের নীচে ঋণ সহায়তা সহজলভ্য করে বিভিন্ন পেশায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং নারী উদ্যোক্তা তৈরীতে সহায়তা আরও জোরদার করতে হবে। যুব সমাজের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সমতলের আদিবাসী, দলিত, চা শ্রমিক,হরিজন ও অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অধিকার ও মর্যাদা সমুন্নত রেখে এমনভাবে কর্মসূচী গ্রহণ করতে যাতে তারা কোন বিপত্তি ছাড়াই প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ ও জীবনমানের উন্নতি করতে পারে। প্রত্যেক এলাকায় বঙ্গবন্ধু’র জন্মশতবার্ষিকী ও মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটি গঠন করে সেই কমিটিকে দারিদ্র্য নির্মূল কর্মসূচীর মনিটরিং এর দায়িত্ব দিতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে পরিবেশ সুরক্ষা এবং তথা প্রাকৃতিক সম্পদের সংরক্ষণ ও সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। দারিদ্র্যমুক্ত ও শোষণমুক্ত সমাজ গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে গবেষণা কার্যক্রমে সহায়তা বৃদ্ধি করে দারিদ্র্য নির্মূল কর্মসূচীতে সহায়তাদানকে ‘ট্যাক্স রিবেট’ প্রদানের ঘোষণা করতে হবে। মানবতাবাদী সমাজ গঠনের জন্য সতের কোটি মানুষের জন্য সর্বস্তরের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহ্ণ করতে হবে। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার জন্য সর্বস্তরে সৎ,শিক্ষিত ও বিজ্ঞানমনস্ক জনগোষ্টি গড়ে তুলতে হবে।

তিনি সংবিধানের ১৫.ক, ১৯ ও ২০ অনুচ্ছেদকে বাক্সবন্দী না রেখে তার আলোকে সরকার পরিচালনা ও প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে ফোরাম চেয়ারম্যান এস এম আজাদ হোসেন প্রধান অতিথি বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ও সাবেক মন্ত্রী, দেশের অন্যতম শীর্ষ আইনবিদ ব্যারিস্টার এম, আমীর-উল- ইসলামকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং নাগরিক সংলাপে গৃহীত সুপারিশমালা সাংবাদিকদের মাধ্যমে সরকার তথা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বাজেট উপস্থাপন করেছেন কিন্তু দারিদ্র্য বিমোচনে বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা খাতে যে বরাদ্দ রাখা হয়েছে তা অপ্রতুল।তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সভা সমাবেশে বলেছেন ২০২১ সালের মধ্যে দেশ দারিদ্র্যমুক্ত হবে।তিনি এটাও বলেছেন জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্মশতবার্ষিকী দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশে পালিত হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে প্রত্যাশা ২০২১ ফোরাম স্বাগত জানায়।তিনি বলেন, দেশ থেকে দুর্নীতি কমানো গেলে প্রবৃদ্ধি কমপক্ষে ১০% উন্নীত হবে।আর প্রবৃদ্ধি অর্জন দারিদ্র্য বিমোচনের অন্যতম নিয়ামক।তবে প্রবৃদ্ধি অর্জন হতে হবে অংশগ্রহণমূলক।দরিদ্র জনগোষ্টিকে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করে বেশী বেশী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে।তিনি সমাজের শিল্পপতি ও বিত্তবানদের প্রতি আহবান জানান, তারাও যেন তাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে দারিদ্র্য বিমোচনে এগিয়ে আসেন। এরপর প্রশ্নোত্তর পর্বে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন প্রধান অতিথিসহ অন্যান্যরা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আমরা বড় বাজেটের সাথে বড় বড় ‘বালিশ কাহিনী’ শুনতে চাই না। সরকারি কর্মসূচীগুলোর মনিটরিং জোরদার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হলে এবং লুটপাট, নির্যাতন ও দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করার মাধ্যমে সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে তোলা সম্ভব বলে বক্তারা মতামত দেন। বক্তারা বলেন, ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধু’র জন্ম শতবার্ষিকী ও ২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণজয়ন্তী কেমন বাংলাদেশে উদযাপিত হবে তা বহুলাংশে নির্ভর করছে এখনকার বাজেটে আমরা কি ধরণের বরাদ্দ দিচ্ছি তার উপর। দেশের বেশিরভাগ মানুষের স্বার্থে বাজেট প্রণয়ন করতে হবে, মুষ্টিমেয় ধনীক গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়। বাজেটে কৃষক, ক্ষেতমজুর, দিনমজুর, কর্মজীবী নারী, বেকার যুবকসহ অন্যান্য জনগোষ্ঠীর খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আয় ও বাসস্থান সুবিধা নিশ্চিত করার সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা থাকা প্রয়োজন। দারিদ্র্য দূর করার জন্য দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন ও তাদের সম্পৃক্ত করে কর্মসূচী গ্রহণ করা আবশ্যক। আমরা আশাকরি সরকার নাগরিক সমাজের দাবিগুলো বিবেচনা এবং বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করবেন।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)