আপডেট ১ মিনিট ২১ সেকেন্ড

ঢাকা শনিবার, ১০ চৈত্র, ১৪২৫ , বসন্তকাল, ১৬ রজব, ১৪৪০

অপরাধ, খুলনা প্রধানমন্ত্রীকে ছাগল উপহার দিতে চাওয়া ইসমাইল গ্রেফতার

প্রধানমন্ত্রীকে ছাগল উপহার দিতে চাওয়া ইসমাইল গ্রেফতার

নিরাপদ নিউজ: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের মহিষকুন্ডি বাজার থেকে ইসমাইল হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গতকাল বুধবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সম্প্রতি ইসমাইল হোসেন নিজের ১০০ কেজি ওজনের একটি ছাগল প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিতে চেয়েছিলেন। সেই খবর একাধিক গণমাধ্যমে প্রচারের পর আলোচনায় আসেন দৌলতপুরের গ্রাগপুর ইউনিয়নের মহিষকুন্ডি গ্রামের এই বাসিন্দা। পরে ছাগলটি দেখার জন্য বিভিন্ন এলাকার মানুষ তার বাড়িতে ভিড় করতে থাকেন।

ইসমাইল হোসেনকে গ্রেফতার প্রসঙ্গে দৌলতপুর থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ইসমাইলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরও তদন্ত চলছে। সে অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্থানীয় এলাকাবাসীদের ভাষ্য, ছোট থেকেই ছাগলটি লালন-পালন করলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দেওয়ার কথাটি আগে কখনো শোনা যায়নি। হঠাৎ করে কথাটি শোনা যাচ্ছে। ইসমাইল ও তার মা কেন হঠাৎ করে প্রধানমন্ত্রীকে ছাগল উপহার দিতে চান, তা নিয়েও তাদের মনে প্রশ্ন জাগে।

পুলিশ বলছে, ছাগল উপহারের উদ্যোক্তা ইসমাইল একজন চা বিক্রেতা। স্থানীয় বাজারে তিনি চা বিক্রি করেন। মা লতিফুননেছা ও স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ইসমাইল একই বাড়িতে থাকেন। চা বিক্রি করে তিনি জীবিকা নির্বাহ করে।

পুলিশ দাবি করছে, ইসমাইল একজন মাদক ব্যবসায়ী। তিনি চায়ের ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে মাদকের ব্যবসা করে আসছে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মোটরসাইকেল যোগে মাদকসেবীরা তার দোকানে এসে মাদক ক্রয় ও সেবন করে। এর আগে ইসমাইল ফেনসিডিলসহ পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন এবং তার নামে দৌলতপুর থানায় মাদকের মামলা আছে।

যদিও এ বিষয়ে ইসমাইল জানান, ছাগলটি তার বাড়িতে জন্ম হয়েছে। তার মা ছাগলটি লালন-পালন করেন। তিনি ও আমার মা ১০০ কেজি ওজনের এই ছাগলটি প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিতে চান।

মাদক ব্যবসার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি মাদক ব্যবসা করি না। আমার চা একটু ভালো হয়, তাই বিভিন্ন জেলা বা থানা থেকে লোক আসেন।’

ইসমাইলের বিরুদ্ধে মাদক বিক্রির অভিযোগ উঠলে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম ও থানার উপপরিদর্শক সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দলকে বিষয়টি তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রায় ১০ দিন তদন্তের পর বিষয়টির সত্যতা পাওয়ায় মঙ্গলবার রাতে তাকে গ্রেফতার করেন।

দৌলতপুর থানার উপপরিদর্শক সাইফুল ইসলাম বলেন, তার নামে মাদকের একটি মামলা রয়েছে। তিনি মামলায় পরোয়ানাভুক্ত আসামি হওয়ায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। তাই কোনো কৌশল করেও মাদক ব্যবসায়ীরা বাঁচতে পারবেন না।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)