ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ২০ মিনিট ৫১ সেকেন্ড

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ , হেমন্তকাল, ৫ রবিউস-সানি, ১৪৪০

জাতীয়, লিড নিউজ প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার বিষয়টি নতুন নয়, যুগ যুগ ধরেই চলে আসছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার বিষয়টি নতুন নয়, যুগ যুগ ধরেই চলে আসছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

নিরাপদনিউজ:  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার বিষয়টি নতুন নয়, যুগ যুগ ধরেই চলে আসছে। কিন্তু কখনো তা প্রচার হতো, কখনো হতো না। এটাই হলো বাস্তবতা।

ইতালির রোমে আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (আইএফএডি) পরিচালনা পর্ষদের ৪১তম বৈঠকের বিষয়ে জানাতে ১৯ ফেব্রুয়ারি, সোমবার সন্ধ্যায় গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নোত্তর পর্বে মাছরাঙা টেলিভিশনের রেজোয়ান আহমেদ প্রশ্ন করে বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস গত কয়েক বছর ধরে হচ্ছে। শুধু পাবলিক পরীক্ষা নয়, ভর্তি পরীক্ষা, নিয়োগ পরীক্ষা এমনকি প্রাইমারি স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষাতেও প্রশ্ন ফাঁস হয়ে গেছে। এবার যে এসএসসি পরীক্ষা চলছে, তাতে সব মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। প্রত্যেকটি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। কয়েক দিন আগে শিক্ষাসচিব বলেছেন, বর্তমান শিক্ষা পদ্ধতিতে প্রশ্ন ফাঁস ঠেকানো সম্ভব নয়। তাহলে কী যারা প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের কোনো শাস্তি হবে কি না?’

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস, এটা কিন্তু নতুন কিছু না। এটা কিন্তু যুগ যুগ ধরেই চলে। কখনো প্রচার হয়, কখনো প্রচার হয় না। এটা কিন্তু বাস্তবতা। তারপরও এবার যেটা হচ্ছে, সমস্যা হয়ে গেছে প্রযুক্তি আমরা ব্যবহার করছি। আর এই প্রযুক্তি আমাদের সুযোগও করে দেয়, সমস্যাও করে। আমি একটা প্রশ্ন করি, এই যে প্রশ্নগুলি যে ফাঁস হয়েছে, এটা কত দিন আগে হয়েছে, বলতে পারেন? কতদিন আগে?’

ওই সময় সামনে থেকে ‘২০ মিনিট আগে’ জানালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কুড়ি মিনিট আগে। এখন কিন্তু আমার একটা প্রশ্ন আছে, যখন প্রশ্নগুলো যায় যে হলে বা প্রতিষ্ঠানে, সে প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পর সেগুলো খোলা হয় এবং সেগুলো বিতরণ করার জন্য সব কিছু খুলে রাখা হয়। এখন যদি সেখানে কেউ চট করে একটা ফটো নিয়ে, মোবাইল ফোন তো সাথে থাকেই, সেটা যদি নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে দেয়, তাহলে আপনি কী করবেন?’

প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন করে বলেন, ‘আরেকটা প্রশ্ন মনে আমার জাগে, সেটা হলো, এই যে কুড়ি মিনিট বা আধা ঘণ্টা, ধরলাম এক ঘণ্টা বা দুই ঘণ্টা আগেই যদি প্রশ্ন ফাঁস হয়ে থাকে। এখানে একটা প্রশ্ন আমার যে, আমাদের এত বেশি ট্যালেন্টেড কে আছে, কারণ এক ঘণ্টা আগে সাধারণত পরীক্ষার হলে যাওয়ার জন্য ছাত্ররা প্রস্তুতি নেয়, হয় পথে থাকে বা যায়। সেখানে এই প্রশ্ন ফাঁস ঠেকানোর জন্য আধা ঘণ্টা আগে যাওয়ার কথা। আধা ঘণ্টা আগে যাওয়ার কথা। আধা ঘণ্টা আগে তারা গিয়ে বসল। তখন দেখা গেছে যে, পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়ে গেছে এবং কারো কারো কাছে চলে গেছে। এই যে আধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টা আগে, আপনি বললেন ২০ মিনিট, আচ্ছা ২০ মিনিট আগে প্রশ্ন দেখার পর ওই প্রশ্ন অনুযায়ী বই খুলে সেই প্রশ্নের উত্তর মুখস্ত করে সেই অনুযায়ী খাতায় লেখার মতো এ রকম ট্যালেন্টেড কোন ছাত্র আছে, আমাকে একটু বলেন।’

‘এই প্রশ্নের উত্তরটা আমি খুঁজছি, কিন্তু পাচ্ছি না যে এত ট্যালেন্টেড কে আছে, যে একবার দেখেই সব উত্তরগুলো ফটাফট লিখে ফেলে দিল। হ্যাঁ, একটা আছে, সেটা ওই যে শুধু টিক মারতে হয়। সেখানে হয়তো কয়েকটা হয়তো যদি উত্তরটা পায়, কিন্তু ওই সময় বই খুলে উত্তরটা বের করা, কয়েকশ উত্তরসহ বইয়ের ভেতরে সেটা কীভাবে বের করে কীভাবে লিখে?’এই প্রশ্নটার উত্তর কেউ দিতে পারবে কি না, এটা আমার জানা দরকার।’

শাস্তির বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটা লোকের নাম বলেন যে, একটা লোক দায়ী। মন্ত্রী কী নিজে প্রশ্ন ফাঁস করতে গেছে? সচিব করেছে? শিক্ষক করেছে, হ্যাঁ কিছু হয়তো আছে, যারা ছড়িয়ে দিয়েছে।’

লাখ লাখ পরীক্ষার সেন্টার থেকে কে প্রশ্ন ফাঁস করেছে, তা বের করে দিতে সাংবাদিকদের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বের করতে পারলে ফাঁসকারীদের যথাযথ শাস্তি দেওয়া হবে।

‘এখন প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে হলে ডিজিটাল মাধ্যম বন্ধ করে দিতে হবে। কিন্তু সবকিছুই তো ডিজিটালে হয়’, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

‘এটা কোনোদিন ঠিক না। এরপরও আমরা দেখব। কিন্তু এ জন্য মন্ত্রীকে গালি দিতে হবে, তার রিজাইন দিতে হবে বা সচিব কী বলল, তাকে চলে যেতে হবে, সচিব আর মন্ত্রী যেহেতু প্রশ্ন ফাঁস করে আসে নাই’, যোগ করেন সরকারপ্রধান।

প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে প্রয়োজনে নৈর্ব্যক্তিক পদ্ধতি বন্ধ করার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)