ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট এপ্রিল ৮, ২০১৮

ঢাকা শনিবার, ৫ কার্তিক, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ২০ সফর, ১৪৪১

বিনোদন প্রাণবন্ত আয়োজনে তারকা জুটি ওমর সানি-মৌসুমীর স্পন্দিত একটি সন্ধ্যা উপহার

প্রাণবন্ত আয়োজনে তারকা জুটি ওমর সানি-মৌসুমীর স্পন্দিত একটি সন্ধ্যা উপহার

নিরাপদনিউজ : তারকা জুটি ওমর সানি ও মৌসুমী। দীর্ঘ চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে সাফল্যের শিখরে ছিল তাদের অবস্থান। পেশার প্রতি নিবেদিত প্রাণ এই জুটির তিন দশকের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে অর্জনও কম নয়। এর মধ্যে চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার ২৯ বছরের। বললেন আগামী বছর ঘটা করেই ৩০ বছর পালন করবো ইনশাল্লাহ। তার জন্য সবার দোয়া। অন্যদিকে চিত্রনায়িকা মৌসুমীর চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে ২৫ বছর পূর্ণ করলেন এ বছর। ১৯৯৩ সালের ২৫ মার্চ তার অভিনয়ে সোহানুর রহমান সোহানের পরিচালনায় ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবিটি মুক্তি পায়। সালমান শাহ-মৌসুমী জুটির প্রথম ছবিটি সেসময় তুমুল ঝড় তুলে বক্স অফিস মাত করে ব্যবসায়িক সফলতা পায়। চলচ্চিত্র শিল্প মেধাবী এক শিল্পী। ১৯৯৩ থেকে ২০১৮-এই সময়ে মৌসুমী উপহার দিয়েছেন অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্র। ২৫ বছর পূর্ণ উপলক্ষে মৌসুমী ফ্যান ক্লাবের আয়োজনে বিশেষ এক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়। তবে এবার ওমরসানী-মৌসুমীর আয়োজনে সাংবাদিকদের নিয়ে বিশেষ রজত জয়ন্তী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় গত ৬ এপ্রিল। রাজধানীর উত্তরাস্থ প্রিয়াংকা সিটিতে এই সফল তারকা দম্পতি’র বাসভবনে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অবশ্য ওমরসানী মৌসুমীর ভাষ্যমতে এটা ছিলো গেট-টুগেদার। তাদের আহ্বানে এই আয়োজনে অনেক সাংবাদিকই উপস্থিত হয়েছিলেন। আবার অনেকেই উপস্থিত হতে পারেননি তাদের ব্যস্ততার কারণে। কিংবদন্তী ফটোগ্রাফার ফিরোজ এম হাসান, বিনোদন বিচিত্রা’র প্রকাশক-সম্পাদক দেওয়ান হাবিবুর রহমান, বাচসাস এর সাবেক সহসভাপতি লিটন এরশাদ, মনিরুল ইসলাম, তুষার আদিত্য, আব্দুল্লাহ জেয়াদ, সৈকত সালাহউদ্দিন, অভি মঈনুদ্দীন, দাউদ হোসাইন রনি, নিপু বড়ুয়া, মনজুর কাদের জিয়া, মীর সামী, কামরুজ্জামান মিলু, ডিআরইউর সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ জামাল উপস্থিত ছিলেন। সেদিন সকল নিয়মের বাইরে জীবনের নানান রকম খোশ গল্পে মেতে উঠেছিলেন সবাই।

ওমরসানী বলেন,‘ আগেতো প্রায়ই এমন আড্ডা হতো সাংবাদিকদের সঙ্গে। কিন্তু এখন এমন আড্ডা হয়ই না। তাই মৌসুমী আর আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, এমন একটি অনুষ্ঠানের। তাছাড়া মানুষের মৃত্যুর কথা কেউই বলতে পারে না। আমরা সবাই একই পরিবারের, আমরা মিলে মিশে একসঙ্গে পথ চলবো।’

মৌসুমী বলেন, ‘আজ ভীষণভাবে মিস করছি আওলাদ ভাই ও জুটনকে। দু’জন থাকলে আরো বেশি প্রাণবন্ত হতো এই আড্ডা। যারা আমাদের আহ্বানে এই অনুষ্ঠানে এসেছেন, সবার প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।

প্রাণবন্ত আড্ডায় উঠে সকলের পেশাগত জীবনের নানা দিকের ইতিকথা। উঠে আসে সাম্প্রতিক সময়ে একটি চ্যানেলে প্রচারিত অনুষ্ঠানের বিতর্কিত দিকটি। অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া চলচ্চিত্রের দুই তারকার দায়িত্বজ্ঞান প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে তাদের মেধাও। মৌসুমী বললেন যে কোন অনুষ্ঠানে বোধহীনতা অন্তত সুন্দর মনের পরিচয় বহন করে না। সমাজে ধীকৃত একটি বিষয় কখনই ফান হতে পারে না, যা সামাজিক অবক্ষয় ও বিকৃতি মানসিকতা মাত্র। এখানে সবার দায়িত্ববান হওয়া উচিত ছিল। তবে আমি বলবো নিন্দনীয় এই বিষয়টির দুঃখ প্রকাশ করে ব্যাখ্যা প্রদান অনুষ্ঠান সংশ্লিষ্ট সকলের দায়িত্ব। তাদের বলতে হবে যা প্রচার করা হয়েছে তা নীতি নৈতিকতা বিবর্জিত। আশা করি দেশজুড়ে বিতর্ক অবসানে দ্রুত তারা দায়িত্ববান হবেন।

এক পর্যায়ে রাতের খাবারের সময় হয়। মৌসুমীর নিজ হাতের সেই রান্না সবাইকে নিজ হাতেই পরিবেশন করেন মৌসুমী। তারপর গানের পর্ব শুরু হয়। শুরুতেই অভি মঈনুদ্দীন কিশোর কুমারের ‘বহুদূর থেকে এ কথা দিতে এলাম উপহার’ গানটি গেয়ে শুনান। এরপর মৌসুমী ও অভি ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’, ‘ভালোবাসিয়া গেলাম, ফাসিয়া’, ‘এখানে দু’জনে নিরজনে সাজাবো প্রেমেরও পৃথিবী’, মৌসুমী ও সৈকত সালাহ উদ্দিন ‘ও আমার বন্ধুগো চিরসাথী পথচলার’ এবং মৌসুমী সানী ‘অনেক সাধনার পরে আমি পেলাম তোমার মন’।

সবশেষে মৌসুমীর ভীষণ প্রিয় গান অ্যান্ড্রু কিশোরের গাওয়া ‘আমার সারা দেহ খেয়োগো মাটি’ গানটি পরিবেশন করেন অভি মঈনুদ্দীন। তখন অনেক রাত। বাইরে বৃষ্টি হচ্ছিলো। কিন্তু সবারই বাসায় ফেরার তাড়া। তাই সানী মৌসুমীর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সবাই যার যার ঘরে ফিরে যান। তবে যাবার আগে সবাই বলে যান, দীর্ঘদিন পর এমন আড্ডায় সবার মধ্যেই ভালোলাগা ছুঁয়ে গেছে।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ এই নায়িকার অভিনীত ও উত্তম আকাশ পরিচালিত ‘আমি নেতা হব’ ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। পারিবারিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের এ ছবিতে তার বিপরীতে ছিলেন ওমর সানি। তার হাতে এ কে সোহেলের ‘পবিত্র ভালোবাসা’, ইস্পাহানী আরিফ জাহানের ‘নায়ক’, রাশেদ রাহার ‘নোলক’, হাবিবুল ইসলাম হাবিবের ‘রাত্রির যাত্রী’সহ বেশ কয়েকটি ছবি রয়েছে। এছাড়াও কাজী হায়াত পরিচালিত ‘আমার স্বপ্ন আমার দেশ’ ছবিতে অভিনয় করতে যাচ্ছেন তিনি। ১৯৯৭ সালে কাজী হায়াতের নির্দেশনায় প্রথম অভিনয় করেন মৌসুমী। প্রয়াত নায়ক মান্না প্রযোজিত-অভিনীত ‘লুটতরাজ’ নামের এ ছবিতে অভিনয়ের পর একই পরিচালকের নির্দেশনায় ১৯৯৯ সালে ‘আম্মাজান’, ২০০০ সালে ‘কষ্ট’, ‘বর্তমান’, ‘ইতিহাস’ এবং সর্বশেষ ২০০৩ সালে ‘মিনিস্টার’ ছবিতে অভিনয় করেন। অভিনয় জীবনে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, বাচসাস, মেরিল প্রথম আলো, বিসিআরএ, ট্রাব পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার অর্জন করেছেন। তারকা এই দম্পত্তির জন্য শুভকামনা।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)