আপডেট ৪১ মিনিট ৩০ সেকেন্ড

ঢাকা শনিবার, ২২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ৯ রবিউস-সানি, ১৪৪১

সম্পাদকীয় প্রাথমিক ও জুনিয়র পর্যায়ের পাবলিক পরীক্ষা ফলের সঙ্গে শিক্ষার মানোন্নয়ন আবশ্যক

প্রাথমিক ও জুনিয়র পর্যায়ের পাবলিক পরীক্ষা ফলের সঙ্গে শিক্ষার মানোন্নয়ন আবশ্যক

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

মঙ্গলবার প্রকাশিত জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি), জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) এবং প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফলের বিষয়টি এরই মধ্যে পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণ করে থাকবে। সার্বিকভাবে পাসের হার আশাপ্রদ। জিপিএ ৫ প্রাপ্তদের সংখ্যা কম নয়। তবে গতবারের তুলনায় বর্তমান ফলের কিছু গুণগত পার্থক্য রয়েছে বৈকি! উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, এবার জিপিএ ৫ প্রাপ্তদের সংখ্যা কম; আবার বিশেষত জেএসসিতে পাসের হার বিশেষভাবে কমেছে। শুরুর দিন থেকেই ব্যাপক অভিযোগ ছিল, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত অনেকে এর সত্যতা বিষয়ে অস্বীকৃতি জানানো সত্ত্বেও সাধারণভাবে একটা সন্দেহ ছিল যে, কিছু একটা নিশ্চয়ই ঘটেছে। সে দৃষ্টিকোণ থেকেও সমাপনী পরীক্ষার ফল জানার আগ্রহ ছিল কারো কারো। অন্যান্য বছর উত্তরপত্র মূল্যায়নে সরকারের ‘উদারতা’র প্রতি ইঙ্গিতও করেন অনেকে। সে ধারাবাহিকতায় এবার ‘ছন্দপতন’ ঘটেছে বলা যায়। এ অবস্থায় শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকার বাড়-ক, এমন প্রত্যাশা করেন সবাই।
খেয়াল করার মতো বিষয়, মানহীন ফল গ্রহণে (যে সংখ্যায়ই হোক) অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে। এটি সুলক্ষণ বটে। প্রাথমিক ও জুনিয়র পর্যায়ে অনিয়ম-উদাসীনতার জন্য শিক্ষার্থীদের ওপর মূল দায় চাপানোর সুযোগ নেই। সেখানে প্রধানত ভূমিকা পালন করতে হবে সরকার, শিক্ষক ও অভিভাবকদের। এক্ষেত্রে কোনো এক পক্ষের গাফিলতি কাক্সিক্ষত ফল অর্জনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। ফলে নির্দেশনা অনুসরণে কেবল শিক্ষকদের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি না করে এবং প্রাথমিক-জুনিয়র শিক্ষার মানোন্নয়নকে অভিভাবকের সচেতনতার ওপর ছেড়ে না দিয়ে এগিয়ে আসতে হবে সরকারকেই। শিক্ষা প্রত্যক্ষভাবে অলাভজনক খাত এবং তা সত্ত্বেও মূল ধারার অর্থনীতিবিদদের অভিমত হলো, এর ভালো-মন্দ নিশ্চিতে সরকারি হস্তক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে। বিষয়টি নীতিনির্ধারকদের মাথায় থাকা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে বাস্তবায়নের দুর্বলতার চেয়ে আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ত্রুটিই বেশি বলে কারো কারো কাছে প্রতীয়মান। সুসংবাদ হলো, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সেসব নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে চিন্তা-ভাবনা করছে বলে জানা যায়। আমরা তাদের সাফল্য কামনা করি। পাশাপাশি এ প্রত্যাশাও করি যে, আজকের তরুণ যে মুখগুলো ফলের আনন্দে উদ্ভাসিত, আগামী কর্মসংস্থান নিয়েও তারা তৃপ্ত হোক এবং বিশ্বের বুকে উজ্জ্বলতর করে তুলুক বাংলাদেশের ভাবমূর্তি।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)