আপডেট জুলাই ৫, ২০১৯

ঢাকা রবিবার, ২৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১০ রবিউস-সানি, ১৪৪১

অপরাধ, ঢাকা ফতুল্লায় ১২ শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ, মাদরাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার

ফতুল্লায় ১২ শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ, মাদরাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার

নিরাপদ নিউজ: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০ শিক্ষার্থীকে স্কুলশিক্ষকের ধর্ষণের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ফতুল্লার লাকায় মাদরাসার ১২ শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। কোমলমতি শিশুদের ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের এই ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মাওলানা মো. আল আমিন নামে এক মাদরাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার হয়েছে। এই বর্বরোচিত ঘটনার প্রতিবাদ ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী।

ফতুল্লার মাহমুদপুর পাকার মাথা এলাকায় ‘বায়তুল হুদা মাদরাসা’ নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গতকাল সকালে অভিযান চালায় র‌্যাব-১১। গ্রেপ্তার হওয়া আল আমিন ওই মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক। আটকের সময় তার মোবাইল ফোন ও মাদরাসা অফিসের কম্পিউটার থেকে অসংখ্য পর্নো ভিডিও জব্দ করা হয়েছে।

র‌্যাব-১১-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিন জানান, গত ২৭ জুন সিদ্ধিরগঞ্জের কান্দাপাড়া এলাকার অক্সফোর্ড স্কুলের ২০ শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষক আরিফের খবর ও ভিডি ফুটেজ র‌্যাব-১১-এর ফেসবুক পেজে আপ করার পর তা ভাইরাল হয়। সেই ভিডিওচিত্র ও নিউজ ফতুল্লার মাহমুদপুর এলাকার বায়তুল হুদা মাদরাসার তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী ও তার মা দেখতে পান। ওই সময় তৃতীয় শ্রেণির ওই ছাত্রী তার মাকে বলে, ‘আমার মাদরাসার হুজুরকে যদি টিভিতে দেখা তো তাহলে আমার ভালো লাগত।’ তখন মা তাকে প্রশ্ন করলে সে বলে, ‘আমার মাদরাসার হুজুরও আমার সঙ্গে বাজে কাজ করেছে।’ এরপর ওই ছাত্রীর মা ফেসবুকে ঘটনাটি র‌্যাবকে জানান।

তিনি জানান, শিশু শিক্ষার্থীর মায়ের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েই মাঠে নামে র‌্যাব। তদন্তে বেরিয়ে আসে লোমহর্ষক সব তথ্য। শিক্ষক মাওলানা আল আমিন দেড় বছর ধরে বিভিন্ন সময় তৃতীয় শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়া ওই মাদরাসার ১২ জন শিক্ষার্থীকে নানা প্রলোভন ও ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন করেছে।

আলেপ উদ্দিন জানান, আল আমিনের মোবাইল ফোন ও অফিসের কম্পিউটারে অসংখ্য পর্নো ভিডিও পাওয়া গেছে। মূলত এগুলো দেখিয়েই সে শিশুদের উত্তেজিত করার চেষ্টা করত বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। আরো জিজ্ঞাসাবাদ করে বিস্তারিত তথ্য উদ্ঘাটনে কাজ চলছে। এর সঙ্গে আরো কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে দুটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।

দুপুর সাড়ে ১২টায় ঘটনাস্থলে আসেন র‌্যাব-১১-এর অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল কাজী শামসের উদ্দিন, ফতুল্লা থানার ওসি আসলাম হোসেন ও পরিদর্শক (ইন্টেলিজেন্স) আজিজুল হক।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী শামসের উদ্দিন বলেন, ‘দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, এই লোক সংশ্লিষ্ট এলাকার একজন প্রতিষ্ঠিত ইমাম এবং সে বিভিন্ন মসজিদে নামাজ পড়ায়। তার প্রতিষ্ঠিত একটি মাদরাসা রয়েছে। ওই মাদরাসা ভবনেরই একটি কক্ষে সে পরিবার নিয়ে থাকত। সেখানে তার একটি অফিস কক্ষও রয়েছে। এর সঙ্গে লাগোয়া কয়েকটি ক্লাসরুমে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের সে পড়াত। তার স্ত্রী পর্দানসীন নারী। তিনি কক্ষের বাইরে খুব একটা আসতেন না। আল আমিন এই ফাঁকে বিভিন্ন ছোটখাটো কাজের নাম করে শিশু শিক্ষার্থীদের নিজ কক্ষে ডেকে এনে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণ করত। এসব ঘটনার তথ্য-প্রমাণ আমরা পেয়েছি। তার ডেস্কটপ কম্পিউটারে প্রচুর পর্নোগ্রাফি পাওয়া গেছে। আর ফটোশপ প্রোগ্রামের মাধ্যমে এসবের কিছু কিছু সে নিজেও তৈরি করেছে। পরবর্তী সময়ে ওই সব ছবি সংশ্লিষ্ট শিশু ছাত্রীকে দেখিয়ে সে ব্ল্যাকমেইল করে বারবার ধর্ষণ করেছে।’

এদিকে ওই মাদরাসা শিক্ষকের এমন বর্বরতার খবরে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। র‌্যাব গতকাল গ্রেপ্তার করার পর এলাকাবাসী তার ফাঁসির দাবি জানিয়ে স্লোগান দেয়। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন উপস্থিত অভিভাবকরা। তাঁরা বলেন, ‘প্রায়ই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রীদের যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনার খবরে আমরা আতঙ্কিত। আমরা শিক্ষক নামধারী এসব নরপিশাচের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। ফাঁসিই এদের উপযুক্ত শাস্তি।’

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)