আপডেট জানুয়ারি ২৫, ২০১৬

ঢাকা রবিবার, ৫ কার্তিক, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ২০ সফর, ১৪৪১

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, দুর্ঘটনা সংবাদ, লিড নিউজ, সিলেট ফলোআপ: সেই সড়ক দুর্ঘটনায় আহত স্কুল ছাত্রীকে বাঁচিয়ে বিরল মানবিকতার নজির স্থাপন করলেন অালিম

ফলোআপ: সেই সড়ক দুর্ঘটনায় আহত স্কুল ছাত্রীকে বাঁচিয়ে বিরল মানবিকতার নজির স্থাপন করলেন অালিম

 নিজের মোটরসাইকেল অরক্ষিত রেখে মুমূর্ষু স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার করে  হাসপাতালে ভর্তির পর মোবাইল ফোন বন্ধক রেখে ওষুধ ক্রয় এবং মেয়েটির জ্ঞান ফেরা ও তার মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে অতঃপর হাসপাতাল ছাড়েন আলিম


নিজের মোটরসাইকেল অরক্ষিত রেখে মুমূর্ষু স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তির পর মোবাইল ফোন বন্ধক রেখে ওষুধ ক্রয় এবং মেয়েটির জ্ঞান ফেরা ও তার মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে অতঃপর হাসপাতাল ছাড়েন আলিম

রকিবুল ইসলম, ২৫ জানুয়ারি ২০১৬, নিরাপদনিউজ : শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গত শনিবার অধ্যাপকের গাড়িচাপা দেওয়ার ঘটনায় আহত স্কুল ছাত্রীকে বাঁচিয়ে মানবিকতার নজির স্থাপন করলেন দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক যুবক।  দুর্ঘটনাস্থলে নিজের মোটরসাইকেল অরক্ষিত রেখে মুমূর্ষু স্কুল ছাত্রী রাহিবাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান আবদুল আলিম নামের ওই যুবক। হাসপাতালে ভর্তির পর নিজের মোবাইল ফোন বন্ধক রেখে ফার্মেসি থেকে জরুরি ওষুধ ক্রয় এবং মেয়েটির জ্ঞান ফেরা ও তার মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে অতঃপর হাসপাতাল ছাড়েন আলিম।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে গাড়িচাপায় এই স্কুল ছাত্রীর বাবা কলেজ শিক্ষক আতাউর রহমানসহ দুজনের মৃত্যুর ঘটনার পর সপরিবারে আত্মগোপনে চলে গেছেন অবৈধভাবে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আরিফুল ইসলাম। তিনি কোথায় গেছেন তা বলতে পারছে না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও। পুলিশ একাধিকবার ওই শিক্ষকের খোঁজে গেলেও তাঁকে পায়নি। তাঁর মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। এদিকে রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি।

নিহত পরিবার থানায় মামলা না করলেও পুলিশ নিজে বাদী হয়ে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। জালালাবাদ থানার ওসি আক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, মেয়েকে বিশ্ববিদ্যালয় দেখানোর জন্য গত শনিবার সকালে ছাতক ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক আতাউর রহমান শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন।
অন্যদিকে শনিবার রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আমিনুল হক ভুঁইয়াসহ একদল শিক্ষক নিহত আতাউর রহমানের সিলেট নগরের মজুমদারী এলাকার বাসায় যান। এ সময় তাঁরা পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান এবং সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীর মানবিকতা যুবক আবদুল আলিম পেশায় একজন ব্যবসায়ী। বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকায় তাঁর বাসা। তিনি বলেন, শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনি মোটরসাইকেলযোগে বাসায় ফিরছিলেন। তিনি দেখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটক পেরিয়ে এক কিলোমিটার এলাকায় একটি প্রাইভেট কার এলোমেলোভাবে চলছে। একপর্যায়ে প্রাইভেট কারটি সড়কের পাশে থাকা এক বৃদ্ধকে চাপা দেয়। এ সময় ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

এরপর প্রাইভেট কারটি আরো দ্রুতগতিতে পাশে থাকা কলেজ শিক্ষক আতাউর রহমানসহ তাঁর মেয়েকে গাছের সঙ্গে চাপা দেয়। এ সময় আবদুল আলিম দ্রুত আহত স্কুল ছাত্রী রাহিবাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। তবে হাসপাতালে যাওয়ার মতো কাউকে পাননি আলিম। একপর্যায়ে তিনি তাঁর মোটরসাইকেল ক্যাম্পাসে অরক্ষিত অবস্থায় রেখেই আহত মেয়েটিকে অটোরিকশায় করে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে দ্রুত চিকিৎসার জন্য তিনি নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র পরিচয় দেন। এ কথা শুনে হাসপাতালের ডাক্তাররা দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
একপর্যায়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, রাহিবার জন্য ওষুধের প্রয়োজন। তিনি একটি লিস্ট ধরিয়ে দিয়ে আবদুল আলিমকে ওষুধ আনতে বলেন। এ সময় আলিমের কাছে কোনো টাকা ছিল না। তাই তিনি নিজের মোবাইল ফোনটি ওষুধের দোকানে বন্ধক রেখে ওষুধ ক্রয় করে তা হাসপাতালে চিকিৎসকদের হাতে পৌঁছে দেন। পরে আবারও ওই ছাত্রীর এক্স-রেসহ অন্যান্য ব্যবস্থা করেন। এ সময় তিনি জানতেন না ওই ছাত্রীর পরিচয় কী।
চিকিৎসার পর দুপুর ২টার দিকে ওই ছাত্রী কিছুটা সুস্থ হয় এবং মায়ের মোবাইল ফোন নম্বর দেয়। আবদুল আলিম সেই নম্বরে যোগাযোগ করে দুর্ঘটনার বিষয়টি ছাত্রীর মাকে জানান।

আলিম জানান, ওই ছাত্রীর মা একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে শিক্ষকতা করেন। পরে তিনি হাসপাতালে এলে মেয়েকে বুঝিয়ে দিয়ে বিদায় নেন যুবক আবদুল আলিম। এ সময় ওই শিক্ষক তাঁর স্বামীর কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি সুস্থ আছেন এমন আশ্বাস দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)