সংবাদ শিরোনাম

২৬শে জুন, ২০১৭ ইং

00:00:00 মঙ্গলবার, ১৩ই আষাঢ়, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ , বর্ষাকাল, ৩রা শাওয়াল, ১৪৩৮ হিজরী
ফিচার, লিড নিউজ ফিরে আসুক পাটের সুদিন

ফিরে আসুক পাটের সুদিন

পোস্ট করেছেন: মোবারক হোসেন | প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ৪, ২০১৭ , ১২:৩০ অপরাহ্ণ | বিভাগ: ফিচার,লিড নিউজ

পাট ছিল এ অঞ্চলের প্র্রধান রফতানিপণ্য।

০৪ জানুয়ারি ২০১৭, নিরাপদ নিউজ : স্বাধীনতার আগে পাট ছিল এ অঞ্চলের প্র্রধান রফতানিপণ্য। স্বাধীনতার পরও প্রায় দেড় যুগ ধরে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে পাটের অবদানই ছিল মুখ্য। এখনো পাট চাষ, পাটকলের শ্রমিক সব মিলিয়ে কয়েক লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা পাটের সাথে সম্পর্কিত।
অতীতের বাংলাদেশ সোনালি আঁশে বিদেশের মুদ্রা অর্জন করত সবচেয়ে বেশি। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানি হতো এখানকার পাট। অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় উৎপাদন বেশি হতো এখানে। পাটের আঁশ থেকে তৈরি করা যায় অসংখ্য নিত্যব্যবহার্য পণ্য। পলিথিন আসার আগ পর্যন্ত পাটের একক আধিপত্য ছিল। কৃষকেরা পাট চাষে বেশি লাভবানও হতেন। আমাদের দেশের প্রত্যেক কৃষক একসময় পাটের আবাদ করতেন। পাট চাষের সাথে বাংলাদেশের কৃষকদের গভীর মিতালি আছে। সোনালি আঁশের সাথে তাদের স্বপ্ন-আশা একাকার ছিল। একটা সময় ছিল কৃষকেরা নতুন পাট বাজারে বিক্রি করে ইলিশমাছ কিনে আনতেন। পাট-ইলিশের সেই পুরনো মিতালি এখন আর তেমন দেখা যায় না। পাটজাতপণ্য এবং পাটকলগুলোর বেশির ভাগই বন্ধ থাকায় কৃষকেরা লোকসানের মুখে পড়লে আমাদের দেশে পাট চাষ কমে যায়। হারাতে বসে সোনালি আঁশের সুনাম।
পাটের নামে একটি মন্ত্রণালয় থাকলেও তাদের হাতে নেই পাটের উৎপাদন, উন্নয়ন গবেষণা, কারিগরি গবেষণাসহ পাটের বাজার ও অর্থনৈতিক গবেষণার কোনো কিছুই। ফলে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের পাট বিভাগের কাজ হচ্ছে শুধু বাজার থেকে উৎপাদিত পাট বা পাটজাত পণ্য কেনা এবং দেশে-বিদেশে তা বাজারজাত করা। এ মন্ত্রণালয়ের ঠুঁটো জগন্নাথ অবস্থায় ঝুঁকিতে পড়ছে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক পাটের বাজার। দেশ-বিদেশে পাটশিল্প ও পাটপণ্যের বাজার সম্প্রসারণের কাজ এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পাট খাত।
পাট আইন ২০১৬ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে গিয়ে সংসদীয় কমিটির সামনে পাট খাতের এ দুর্দশার চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সংসদীয় কমিটির কাছে পাটের উৎপাদন, উন্নয়ন গবেষণা, কারিগরি গবেষণাসহ পাটের বাজার ও অর্থনৈতিক গবেষণার পুরো বিষয়টি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের কাছে ন্যস্ত করার দাবি উঠছে। সংসদীয় কমিটি এতে সহমত পোষণ করলেও এ ক্ষেত্রে সমস্যা কৃষি মন্ত্রণালয়। কারণ অন্য ফসলের মতো পাটও একটি কৃষিজাত ফসল। পাট চাষ থেকে বাজার পর্যন্ত পুরো বিষয়টি শুরু থেকেই কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন। ফলে এ নিয়ে দুই মন্ত্রণালয়ে শুরু হয় টানাটানি। এ অকাম্য অবস্থার অবসানে কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতিকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভায় এনে কিভাবে এ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পাট কৃষিপণ্য হলেও এ বিষয়ে যেহেতু স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় রয়েছে, সেহেতু পাট সম্পর্কিত সব কিছু দেখভালের দায়িত্ব তাদের ওপরই থাকা উচিত। বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে দুই মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে, এমনটিই কাম্য।

একসময় পাট ছিল আমাদের দেশের অর্থনীতির শোণিত প্রবাহের মতো, বলা হতো সোনালি আঁশ। প্লাস্টিক ও পলিথিন সামগ্রীর দাপট আর কিছু ভ্রান্ত নীতির কারণে বাংলার এই সম্পদ তার গৌরব হারায়। সোনালি আঁশ পরিণত হয় কৃষকের গলার ফাঁসে। তবে বিশ্বব্যাপী পরিবেশ সচেতনতা বাড়ছে। সেই সাথে বাড়ছে পাটের কদর। তাই আমরাও চাই, ফিরে আসুক পাটের সেই সুদিন।

লেখক : মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষাবিদ

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Digg thisShare on Tumblr0Email this to someonePin on Pinterest0Print this page

comments

Bangla Converter | Career | About Us