ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট মে ১৮, ২০১৭

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৩ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ , গ্রীষ্মকাল, ১০ই শাবান, ১৪৩৯ হিজরী

চট্টগ্রাম, সড়ক সংবাদ ‘ফেনী নদীর উপরে ভারত মৈত্রী সেতু-১ নির্মাণ কাজ খুবই দ্রুত শুরু হবে’

‘ফেনী নদীর উপরে ভারত মৈত্রী সেতু-১ নির্মাণ কাজ খুবই দ্রুত শুরু হবে’

‘ফেনী নদীর উপরে ভারত মৈত্রী সেতু-১ নির্মাণ কাজ খুবই দ্রুত শুরু হবে’

জসিম উদ্দিন জয়নাল, ১৮ মে ২০১৭, নিরাপদ নিউজ : পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা রামগড় সাব্রুম স্হল বন্দর সীমান্তবর্তী ফেনী নদীর উপরে বাংলাদেশ ভারত মৈত্রী সেতু-১ নির্মাণ কাজের জন্য আগরওয়াল কনস্ট্রাকশননামে গুজরাটের একটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দিয়েছে ভারত ভারতের ন্যাশনাল হাইওয়েস এন্ড ইনফ্রাস্টাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড (এনএইচআইডিসিএল) নামে সংস্থাটি গত জানুয়ারি মাসে মৈএী সেতু নির্মাণের জন্য দরপত্র আহবান করে। এক্সটা ডোজড, ক্যাবল স্টেইডআরসি সি সেতুটি নির্মাণের দরপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ছিল গত ১৮ ফেব্রুয়ারি। নির্মাণকাজের জন্য নিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি৪১২ মিটার দৈর্ঘ্যও ১৪ দশমিক ৮ মিটার প্রস্তের মৈএী সেতু নির্মাণ কাজ খুই শিগগিরই শুরু করবে সীমান্তের ওপারের মৈএী সেতুর কাজ নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য জানাগেছে। সূত্র জানায়, প্রায় ১১০ কোটি ভারতীয় রুপি ব্যয় করে সেতুটি নির্মাণ করবে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার আর্ন্তজাতিক মানের দুই লেনের এ সেতুতে থাকবে ফুটওয়ে এবং এপ্রোচ রোড রামগড় পৌর সভার সীমান্তবর্তী মহামুনি এবং ওপারের আনন্দপাড়া এলাকায় ফেনীনদীর ওপর সেতুটি নির্মাণের স্থান ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে ৪১২ মিটার দীর্ঘ সেতুটি রামগড় বারৈয়ারহাট- চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাথে সংযুক্ত হবে, ওপারে সেতু থেকে প্রায় ১২শ মিটার এপ্রোচ রাস্তা নবীনপাড়া- ঠাকুরপল্লি হয়ে সাব্রুম- আগরতলা জাতীয় সড়কে যুক্ত হবে। সেতু নির্মাণের সময়সীমা ধরা হয়েছে দুই বছর পাঁচ মাস ন্যাশনাল হাইওয়েস এন্ড ইনফ্রাস্টাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড (এনএইচআইডিসিএল) এর ডিজিএম প্রদীপ ভুইয়ার বরাত দিয়ে ত্রিপুরার আগরতলার ডেইলি দেশের কথা পত্রিকায় প্রকাশিত এক রির্পোটে বলা হয় সাব্রুমের ছোটখীল রাস্তা হতে ফেনীনদী পর্যন্ত একএকর ৫৭ শতক জায়গা অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে এদিকে, ফেনীনদীর উপরে মৈত্রী সেতু নির্মাণ প্রকল্পে বাংলাদেশ অংশের অগ্রগতি সম্পর্কে রামগড় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.আল মামুন মিয়া বলেন, ইতিমধ্যে দু’দেশের যৌথ সার্ভের মাধ্যমের সেতু নির্মাণের এলাইমেন্ট চূড়ান্ত করা হয়েছে,সেতুও সংযোগ রাস্তার জন্য দুই একর ৮৬ শতক জমি অধিগ্রহণ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের নির্দেশে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ড. মো. গোরফান ফারুকীসহ তিনি ঐ জমি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন,জমিগুলো অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে, এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রামগড় সাব্রুম স্থলবন্দরের সাথে চট্টগ্রাম বন্দরের সংযোগ সড়ক হিসেবে ঢাকা চট্টগ্রাম মহা সড়কের বারৈয়ারহাট হতে রামগড় পর্যন্ত সড়কটি চার লেনে রুপান্তরিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে জাইকা কাজটি করবে। ইতিমধ্যে সড়কে অবস্থিত ব্রিজ ও কালভার্ট পুনঃনির্মাণের জন্য জাইকা’র প্রকৌশল বিভাগ সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে তারা মাটি পরীক্ষা-নিরাক্ষাসহ প্রয়োজনীয় প্রাক প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শেষ করেছে, জাইকার এক কর্মকর্তা বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারী মাসে তারা রামগড় বারৈয়ারহাট সড়কে ১৫টি ব্রিজ ও কালভার্টের সার্মাণ কাজ নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে। অন্যদিকে চট্টগ্রামের নাজিরহাট হতে রামগড় স্থলবন্দর পর্যন্ত রেল লাইন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সীমান্তের ওপারের বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, রামগড় সাব্রুম স্থলবন্দর চালুর দু’ দেশের সিদ্ধান্ত সামনে রেখে ইতিমধ্যে ভারত আগরতলার থেকে সাব্রুম পর্যন্ত রেল লাইন স্থাপনের কাজ শুরু করেছে এছাড়া জাতীয় সড়কের উন্নয়নসহ বিভিন্ন স্থাপনার নির্মাণ কাজও চলছে প্রসংগত: ২০১০ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লি সফরকালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এর সাথে বৈঠকে রামগড় সাব্রুম স্থলবন্দর চালু করতে যৌথ সিদ্ধান্ত হয়। পরে ২০১৫ সালের ৬ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ ভারত মৈত্রী সেতু-১ নামে ফেনীনদীর ওপর প্রস্তাবিত সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তরের ফলক উন্মোচন করেন। সেতুটি নির্মাণ শেষ হলে বাংলাদেশ ভারতের সম্পর্ক আরো ভালো হবে। দুদেশের ব্যবসা বানিজ্য এগিয়ে যাবে বলে মনেকরেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)