আপডেট ২০ মিনিট ৩ সেকেন্ড

ঢাকা শনিবার, ৩ ভাদ্র, ১৪২৬ , শরৎকাল, ১৬ জিলহজ্জ, ১৪৪০

ফ্যাশন ফ্যাশনে বৈশাখী ছোঁয়া

ফ্যাশনে বৈশাখী ছোঁয়া

ফ্যাশনে বৈশাখী ছোঁয়া

নিরাপদ নিউজ : কয়েকদিন পরেই বাঙালির প্রাণের উত্সব পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ। বাঙালির প্রাচুর্যের প্রতীক বৈশাখকে বরণ করতে চারদিকে চলছে মহাপ্রস্তুতি। বৈশাখের উত্সব হয়ে উঠেছে বাঙালির ঐক্যের উত্সব। পহেলা বৈশাখে যে উত্সবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়, তার বড় অনুষঙ্গ নতুন পোশাক। কেমন ভাবে সাজাব নিজেকে—বৈশাখের প্রথম দিনটিতে সবার এ নিয়ে আগাম প্রস্তুতি থাকে। বৈশাখের প্রথম দিনের প্রস্তুতি নিয়ে এবারের মূল ফিচার।

পহেলা বৈশাখ, হালখাতা, নতুন কাপড়—এসব এখন আর কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে আটকে নেই। এখন একই আনন্দ নিয়ে সবাই উদযাপন করে বাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ। লাল-সাদাসহ উজ্জ্বল সব রঙের নতুন পোশাক কেমন হবে আর এর সঙ্গে সাজটাই বা কী হওয়া চাই, এ নিয়ে চলে পরিকল্পনা। বৈশাখের প্রথম দিন সবাই নতুন কাপড় পরবে। কিন্তু কাপড়ের রংটা কী হবে? সাদা-লালের চিরায়ত ফ্যাশন তো রয়েছেই। পাশাপাশি চলছে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা। মূলত হালখাতার রংটা লাল ও সাদা। ধরে নেওয়া হয়, ওই রং থেকেই এসেছে বৈশাখের লাল-সাদার ফ্যাশন। তবে এখন সেই ধারাবাহিকতায় লালের বিভিন্ন শেডও চলে এসেছে ফ্যাশনে। বৈশাখে বাঙালি মেয়েরা শাড়ি পরেন। এটা এখন অনেকটা অনিবার্য বিষয় হয়ে গেছে। অনেকেই এর জন্য পহেলা বৈশাখের অপেক্ষায় থাকেন। আর বৈশাখ এলেই গায়ে ওঠে পাটভাঙা তাঁতের শাড়ি। সেই শাড়িতে লাল-সাদার সীমাবদ্ধতায় থাকতে রাজি নয় এখন কেউই। লাল ও সাদা তো থাকবেই, সঙ্গে থাকতে হবে অন্যান্য রং। কিংবা অন্য কোনো রঙের শাড়িতে সেজে কপালের টিপ আর হাতের চুড়িটা সবাই লাল পরবেন। অথবা শাড়িতে চাই কোনো বাঙালি মোটিফ।


বৈশাখের প্রথম দিনে ঘরে বসে তো আর থাকা যায় না। ভোরের আলো ফুটতেই সাজসজ্জা শুরু হয় তরুণীদের মধ্যে। গরম, অনভ্যস্ততার কারণে শাড়িতে স্বস্তি বোধ করেন না অনেকেই। তারা অনায়াসে পরতে পারেন সালোয়ার-কামিজ বা কুর্তা-চুড়িদার। পোশাকের নকশা, কাটে ভিন্নতা আনা যেতেই পারে। আর সাজটাও তো হতে হবে মানানসই। লম্বা বেণি, টিপ আর চুড়িতে থাকবে বৈশাখী আমেজ। বর্তমানে লম্বা কুর্তা, কামিজের সঙ্গে এই বৈশাখে চুড়িদার সালোয়ার বেশ চলছে। তরুণীদের পছন্দের তালিকায় বৈশাখের পোশাকের চিরায়ত রং লাল-সাদার পাশাপাশি সবুজ, নীল, কমলা ও ম্যাজেন্টার মতো উজ্জ্বল রং প্রাধান্য পেয়েছে। কামিজের কাট, নকশাতেও খানিকটা পরিবর্তন এসেছে। একটু ঘেরওয়ালা ফ্রক-কাট কামিজ, লম্বা কুর্তা বা কামিজের হেমে ভি-কাট, পাশাপাশি আনারকলি কামিজ, অ্যালাইন কামিজের চল রয়েছে। হাতায়, গলায় ও হেমে পাইপিং, লেইস ব্যবহার করতে পারেন। হাতকাটা, খাটো হাতা, ঘটিহাতা, এমনকি ফুলহাতা কামিজ পরা যেতে পারে। সুতির পোশাকই গরমের জন্য আরামদায়ক হবে। তবে রাতে বের হলে অ্যান্ডি, সিল্ক কিংবা মসলিনের পোশাক পরতে পারেন। তবে যে পোশাকই পরুন না কেন, মাথায় রাখতে হবে, আপনি সেই পোশাকে কতটুকু স্বাচ্ছন্দ। বৈশাখকে ঘিরে তরুণদের চাহিদার মধ্যে রয়েছে পাঞ্জাবি, ফতুয়া, বৈশাখী শার্ট, গামছাসহ কিছু নতুন ও ব্যতিক্রমী প্রসাধনী সামগ্রী। ফতুয়ায় বাঙালির ঐতিহ্যবাহী ঢোল, একতারার ডিজাইনগুলো এবার কিছুটা ব্যতিক্রম ও নজরকাড়া। আর সেদিকেই ঝুঁকছেন অধিকাংশ ফ্যাশন সচেতন পুরুষ। পাঞ্জাবির চাহিদা বছরের অন্য সময়ের তুলনায় এ সময়টাতে থাকে একটু বেশি। বাঙালি বলে কথা, তাই পোশাকেও থাকতে হবে বাঙালির ঐতিহ্য। আর তাই হাতে হালকা লাল রঙের কাজ, গলা ও পিঠে সাদামাটা লালের ছটায় বর্ণিল পাঞ্জাবিগুলোর চাহিদা বেশি। সাজতে পছন্দ করে না এমন মেয়েদের খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। উত্সব এলে তো কথাই নেই। নতুন পোশাক থাকা চাই। তাতে থাকা চাই বিশেষ দিনের বিশেষ ডিজাইন। বৈশাখ এলে তো লাল-সাদার ছড়াছড়ি। তপ্ত রোদে সাদা রঙের পোশাক তাপ শোষণ করে। আর তাই সবার নজর থাকে সাদার দিকে। আর যেহেতু আপনি সারাদিন ঘুরে বেড়াবেন, তাই পায়ের জুতাটিও আরামদায়ক হতে হবে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)