ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৩৫ মিনিট ২৭ সেকেন্ড

ঢাকা শনিবার, ৫ শ্রাবণ, ১৪২৬ , বর্ষাকাল, ১৬ জিলক্বদ, ১৪৪০

অপরাধ, রাজশাহী বগুড়ায় চাঞ্চল্যকর বিএনপি নেতা শাহীন হত্যাকাণ্ডে জড়িত ২ জন গ্রেপ্তার

বগুড়ায় চাঞ্চল্যকর বিএনপি নেতা শাহীন হত্যাকাণ্ডে জড়িত ২ জন গ্রেপ্তার

গোলাম রব্বানী শিপন,নিরাপদ নিউজ: বগুড়ায় চাঞ্চল্যকর বিএনপি নেতা ও পরিবহন ব্যবসায়ী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম শাহীন হত্যা মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে এজাহার ভুক্ত একজনসহ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সেই সাথে উদ্ধার করা হয়েছে খুন করে পালিয়ে যাওয়ার কাজে ব্যবহৃত একটি পালসার মোটরসাইকেল।

বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপের নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধের জেরে বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট শাহীনকে খুন করা হয়েছে বলে পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা জানান। বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়া পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, শহরের নিশিন্দারা মধ্যপাড়া এলাকার মৃত কালু শেখের ছেলে পায়েল শেখ (৩৮) ও নিশিন্দারা মন্ডলপাড়ার আবু তাহেরের ছেলে রাসেল (২৮)। পায়েলের বিরুদ্ধে ৯টি মামলা চলমান রয়েছে। এই ২জনের মধ্যে শাহীন হত্যাকাণ্ডের মামলার এজাহারভুক্ত আসামি পায়েল শেখ।
বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বলেন, গ্রেপ্তার ২ আসামি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহীন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে কমপক্ষে ১০জন অংশ নিয়েছে।


তিনি বিএনপি নেতা শাহীন হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পিত উল্লেখ করে বলেন, ‘শাহীন মোটর মালিক গ্রুপের বিবাদী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর শহরের চারমাথায় মোটর মালিক গ্রুপের দায়িত্বশীল এক নেতার অফিসে গোপন বৈঠক করা হয়। সেখানে শাহীনকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বৈঠকে মোটর মালিক গ্রুপের সেই নেতার সঙ্গে তার সার্বক্ষণিক এক সহযোগী এবং চারমাথা এলাকার একজন ফ্লেক্সিলোড ব্যবসায়ীসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিল। এছাড়া অফিস রুমের বাইরে আরও কয়েকজন অপেক্ষায় ছিল। তবে পুলিশ সুপার হত্যার পরিকল্পনাকারী মোটর মালিক গ্রুপের সেই নেতার নাম বলতে রাজি হননি।


পুলিশ সুপার জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা ঘটনার দিন ১৪ এপ্রিল রাতে মোটর মালিক গ্রুপের দায়িত্বশীল এক নেতার ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং আরও একজন তাদের নিজস্ব লোকজনদের খবর দেয় এবং চারটি মোটর সাইকেল নিয়ে ঘটনাস্থল উপ-শহর বাজারের এসে উপযুক্ত সময় ও সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। এরপর আগে থেকে উপ-শহর বাজারে অবস্থান করা এক ব্যক্তি শহরের চারমাথার সেই ফ্লেক্সি লোড ব্যবসায়ীকে মোবাইল ফোনে খবর দিলে পায়েল শেখ, রাসেল এবং আরও ৮/৯জন ঘটনাস্থলের কাছে চলে আসে। এরপর রাত সাড়ে ১০টার দিকে অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম শাহীনকে উপুর্যপরি কুপিয়ে এবং ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।


সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে। অভিযানের এক পর্যায়ে বুধবার ভোরে রাসেলকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি মোটর সাইকেলসহ শহরের নিশিন্দারা বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জেলার গাবতলী উপজেলার কাগইল ইউনিয়নের আমলিচুকাই গ্রামে পায়েলকে গ্রেপ্তার করা হয়। অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদেরকে রিমান্ডে নেওয়া হবে। তবে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি মোটর সাইকেল উদ্ধার করা গেলেও ধারালো অস্ত্রের খোঁজ এখনও পাওয়া যায়নি।


উল্লেখ্য, গত ১৪ এপ্রিল রবিবার রাতে বগুড়া শহরের উপ-শহর বাজারে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে খুন হন সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম শাহীন। নিহত শাহীনের স্ত্রী আকতার জাহান শিল্পী গত ১৬ এপ্রিল বিকেলে বগুড়া সদর থানায় মামলা করেছেন। এতে বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলামসহ ১০ জনকে আসামি করা হয়।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)