আপডেট এপ্রিল ৬, ২০১৭

ঢাকা সোমবার, ১৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ , গ্রীষ্মকাল, ১২ রমযান, ১৪৩৯

মতামত, সিলেট বন্যায় প্লাবিত সুনামগঞ্জ-নেত্রকোনা: মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে মানবিক আবেদন

বন্যায় প্লাবিত সুনামগঞ্জ-নেত্রকোনা: মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে মানবিক আবেদন

কৃষকদের বাঁচাতে সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়ে সৌদিপ্রবাসী এক পাঠকের লেখা

নিরাপদ নিউজ : দেশের কয়েকটি জেলায় ভারী বৃষ্টির কারণে আগাম বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এ আকস্মিক বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বোরো ধান। সিলেট অঞ্চলে একের পর এক হাওর ডুবে যাচ্ছে। ফলে খেতের ফসল নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছে কৃষকরা। জানা গেছে, সুনামগঞ্জ-নেত্রকোনা জেলা/উপজেলায় পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের বোরো ফসলের জমি। ইতিমধ্যে উপজেলার মোজাফরপুর ইউনিয়নের জালিয়ার হাওরে সাইডুলি নদী তীরবর্তী প্রায় তিন একর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। এ দিকে জালিয়ার হাওরের হাজার হাজার একর ফসলি জমির ফসল রক্ষা করতে প্রাণপণ চেষ্টা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।  সাইডুলি নদীর পানি যাতে জালিয়ার হাওরে ঢুকতে না পারে এজন্য স্থানীয় কৃষকরা গত কয়েকদিন ধরে মাটি কেটে নদীর পাড় উঁচু করছেন। তবুও কৃষকদের হতাশা কাটছে না। কারণ প্রতিদিনই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকরা চরম আতঙ্কে রয়েছেন।

প্রতিবছরের মতো এবারো ডুবেছে বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলের লাখ লাখ কৃষকের স্বপ্ন।জনজীবন বিপর্যস্ত । চারদিকে হাহাকার। এমন দশা থেকে কৃষকদের বাঁচাতে সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়ে সৌদিপ্রবাসী এক পাঠকের লেখা তুলে ধরা হলো:

”মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আসসালামু আলাইকুম। হাওর পারের কৃষকের চোখের জল দিয়ে যদি পত্র লেখা যেত তাহলে সেটা পৃথিবীর সব থেকে বড় বই হত। স্বাধীনতার পর থেকে অবহেলিত এক জনপদের নাম সুনামগঞ্জ। এই দেশের জন্য, এই দেশের মানুষরের জন্য যদি নিঃস্বার্থ ভালবাসা কারও থেকে থাকে তার মধ্যে আপনি সবার উপরের দিকে। আমাদের যত দাবি, অভিযোগ, আশা সব কিছু আপনার কাছেই বলতে হয়। সুনামগঞ্জ এবং নেত্রকোনা জেলার হাওরের হাজার হাজার হেক্টর বোরো ফসল অকাল বন্যায় পানির নিচে চলে গেলো, হাজার হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হলো, গরীব কৃষকের স্বপ্ন ভঙ্গ হলো, রাষ্ট্রের হাজার হাজার মেট্রিকটন ধান পানির নিচে চলে গেলো। এই এলাকার বেশিরভাগ কৃষকের একমাত্র সম্বল এই বোরো ধান।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শুনেছি মুনাফাখোর সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা নাকি ইতিমধ্যে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষপত্রের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে বন্যা কবলিত এলাকায়। মজুদদাররা নাকি চাল-আটা মজুদ করা শুরু করে দিয়েছে। মুনাফাখোরদের মধ্যে শুরু হয়েছে খাদ্য মজুদের প্রতিযোগিতা। এই মজুদদারদের জন্য বঙ্গবন্ধুর সময় দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল। এখন আবার সেই পুরনো শকুনেরা নতুন করে এই দেশের মানুষের খাদ্য নিয়ে সিন্ডিকেট করছে। আপনি তাদের কঠোর হাতে দমন করবেন এটা আমার প্রানের দাবী।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর, গরিব কৃষকদের তালিকা করে তাদের আর্থিকভাবে সহায়তা করার ব্যবস্থা করুণ। রাজনৈতিক পরিচয় না দেখে সবার একটা তালিকা করার আদেশ করুণ। প্রয়োজনে দেশের সেনাবাহিনীকে দুর্যোগ মোকাবেলায় বন্যা কবলিত এলাকায় মোতায়েন করে প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করুণ।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বাঁধের জন্য সরকার থেকে প্রতিবছর যে টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয় সেই টাকার মধ্যে কত টাকার মাটি কাটা হয়েছে তা বের করা হোক। তার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের অধীনে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দুর্নীতির সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে শাস্তির আওতাভুক্ত করা হোক। এটা হাওর পারের অসহায় কৃষকদের দাবি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আগাম বন্যা থেকে হাওর রক্ষার জন্য প্রতিটি নদী খনন করে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করুণ । নদী খননকাজ কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা জাতিরজনক বুঝতে পেরেছিলেন। তাই তিনি নদী খননকাজ শুরু করেছিলেন। নদী খনন না করা হলে এই রকম আগাম বন্যা প্রতিবছর আমাদের সোনার ফসল পানিতে ভাসিয়ে নিবে। বন্যা মোকাবেলায় সেনাবাহিনী বা বিদেশি কন্টাক্টরের মাধ্যমে স্থায়ী ভেড়ি বাঁধ নির্মাণ করার আদেশ দান করুণ । প্রতিবছর বাঁধের নামে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা পানিতে ভেসে যায়। লাভ হয় শুধু কতিপয় দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তা আর কিছু স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিকদের।
মানণীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার কাছে আকুল আবেদন করছি। অসহায় কৃষকের জন্য একটা কিছু করুন।”
-আবুবকর সিদ্দিক
সংযুক্ত আরব আমিরাত

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)