আপডেট ৫৬ সেকেন্ড

ঢাকা শনিবার, ৫ কার্তিক, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ২০ সফর, ১৪৪১

জীবনযাপন, রাজশাহী বন্যার পানি কমলেও বেড়েই চলছে দূর্ভোগ!

বন্যার পানি কমলেও বেড়েই চলছে দূর্ভোগ!

বন্যার পানি কমলেও বেড়েই চলছে দূর্ভোগ!

বন্যার পানি কমলেও বেড়েই চলছে দূর্ভোগ!

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫, নিরাপদনিউজ,রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির সাথে সাথে পানিবন্দী মানুষদের বাড়ছে নানা দূর্ভোগ। পানি কমার সাথে সাথে ভেঙ্গে পড়ছে মাটির তৈরি অসংখ্য ঘড়বাড়ি।

বন্যার পানি দূষিত হওয়ায় বানভাসী মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে চুলকানি, পচড়া, ডায়রিয়া সহ নানা পানিবাহিত রোগে। বিষাক্ত সাপের কামড়ে মারা যাচ্ছে গৃহপালিত পশু-পাখি, কামড় থেকে রেহাই পাচ্ছে না বানভাসী মানুষও। ত্রান সামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসা সেবা বানভাসী মানুষদের কাছে না পৌছার কারণে বন্যা দূর্গত এলাকায় এখন শুধুই হাহাকার বিরাজ করছে।
জানা গেছে, গত ২৪ আগষ্ট ভোরে রাণীনগর-আত্রাই সড়কের পূর্ব মিরাপুর নামক স্থানে সড়ক ভেঙ্গে রাণীনগর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশত গ্রামের প্রায় ৭০হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ে। হাজার হাজার হেক্টর জমির রোপা-আমন ধান ও মৌসুমি সবজি ক্ষেত তলিয়ে যায়। বাড়িঘরে বন্যার পানি ঢোকাই অনেক পরিবার অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।

পানিবন্দী মানুষের মাঝে কিছু কিছু সরকারি সাহায্য পৌছলেও অনেক স্থানেই তা পৌছেনি। ফলে মানবেতর জীবন যাপন করছে বানভাসী এসব লোকজন। বর্তমানে এউপজেলায় কয়েকদিন ধরে বন্যার পানি কমার সাথে সাথে উপজেলার চাম্টা, বাঁশবাড়িয়া, ভাটকৈ, শলিয়া, লক্ষীপুর সহ বিভিন্ন গ্রামের মাটির তৈরি প্রায় ২শ’ ৫০টি ঘড়-বাড়ি ভেঙ্গে গেছে। বন্যার পানি দূষিত হওয়ায় দেখা দিয়েছে চুলকানি, পচড়া, ডায়রিয়া, আমাশয় সহ পানিবাহিত নানা রোগ।

উপজেলার প্রায় সাড়ে ৩শ’টি গভীর-অগভীর নলকূপ পানিতে ডুবে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানি সংকটে চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছে বানভাসী মানুষ। বন্যার পানিতে উচু ভিটা-মাটি তলিয়ে যাওয়ার কারণে সাপের উপদ্রপও বেড়েই চলেছে গত ১৫ দিনে উপজেলার সিম্বা, লোহাচূড়া, খাগড়া, ছয়বাড়িয়া, বোদলা, পালশা, তেবাড়িয়া, চক, ভবানিপুর, সর্বরামপুর, বড়িয়া, খাসগড়, শলিয়া, চাম্টা, ভাটকৈ সহ বিভিন্ন গ্রামে বিষাক্ত সাপের কামড়ে অসংখ্য গৃহপালিত পশু-পাখি মারা গেছে।

এছাড়াও সাপের কামড়ের শিকার হয়েছেন উপজেলার বেশকিছু মানুষ, যথা সময়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ্য হয়েছেন বলে জানান সাপের কামড়ের শিকার হওয়া একাধিক ব্যক্তি।
উপজেলার শলিয়া গ্রামের ইউপি সদস্য মহসিন মল্লিক জানান, আমার এলাকার জমিতে চলতি মৌসুমে রোপনকৃত রোপা-আমন ধান বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে এবং অনেক পুকুর ডুবে লক্ষ লক্ষ টাকার মাছ ভেসে গেছে। তবে কয়েকদিন ধরে বন্যার পানি কমলেও আমাদের দূর্ভোগ বেড়েই চলেছে। পানি দূষিত হওয়ায় নানা ধরনের পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে পানিবন্দী মানুষ। সাপের কামড়ে আমার এলাকায় বেশকিছু গরু-ছাগল মারা গেছে। দুই একজন বানভাসী মানুষও সাপের কামড়ের শিকার হয়েছিল তারা যথা সময়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ্য হয়েছেন।
রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ এসএম নজমুল আহসান জানান, পানিবাহিত রোগ মোকাবেলায় আমাদের কমিউনিটি কিনিকের কর্মীরা বানভাসী মানুষের পাশে থেকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

বন্যা দূর্গত এলাকায় পানি বিশুদ্ধকরণ ১৯হাজার ট্যাবলেট আমরা পেয়েছি সেগুলো পানিবন্দী মানুষের কাছে পৌছে দেওয়া হচ্ছে। আর সাপে কামড়ানো মানুষের চিকিৎসার জন্য আমাদের কাছে প্রতিষেধক যা আছে তা দিয়ে হয়তো একজনকে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরুল ইসলাম পাটওয়ারী, সরকারি পর্যায় থেকে যতটুকু ত্রান সামগ্রী পাওয়া গেছে তা আমরা বানভাসী মানুষের মাঝে বিতরণ করেছি। জেলা প্রশাসনের কাছে আমরা আরও চাহিদাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছি।

পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার কথা শুনে ওই সব এলাকা আমি পরিদর্শন করেছি এবং উপজেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে যথাযথা ভাবে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)