আপডেট ১০ মিনিট ২৪ সেকেন্ড

ঢাকা শনিবার, ২২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ৯ রবিউস-সানি, ১৪৪১

লিড নিউজ, সড়ক সংবাদ বন্যায় ডুবে গেছে রেললাইন

বন্যায় ডুবে গেছে রেললাইন

বন্যায় ডুবে গেছে রেললাইন

১৩ আগস্ট ২০১৭, নিরাপদ নিউজ: টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে আবার দেশের ১৯ জেলার বিভিন্ন স্থান বন্যাকবলিত হয়েছে। এতে লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রেল ও সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মক ব্যাহত হয়েছে। ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় রেললাইনের ওপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। একাধিক জায়গায় রেললাইন এক থেকে পাঁচ ফুট পানির নিচে রয়েছে। ফলে ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় রুটে চলাচলকারী ট্রেন বন্ধ আছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, রেললাইন থেকে পানি অপসারিত হলে এবং লাইন সংস্কার শেষে এই রুটে ট্রেন চালানোর ব্যবস্থা করা হবে।

জানা যায়, পঞ্চগড় থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের মধ্যে নয়নিবরুজ ও কিসমত স্টেশনের মাঝামাঝি এলাকায় রেললাইনের পাথরসহ বিভিন্ন উপকরণ পানির তীব্র স্রোতে ভেসে গেছে। কোনো কোনো এলাকায় পাথর-মাটি সরে গিয়ে দুই থেকে পাঁচ ফুট পর্যন্ত গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায় দুই কিলোমিটার রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুই জেলার মধ্যে রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

এদিকে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে আছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর। গত শুক্রবার দুপুর থেকে তলিয়ে আছে স্থলবন্দরের কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন অফিস এবং ব্যবসায়ীদের অফিস। এ কারণে বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ও যাত্রী পারাপার ব্যাহত হচ্ছে।

স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফোরকান আহম্মেদ খলিফা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে জাতীয় শোক দিবস ও ভারতের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আগামী ১৫ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে ওই সময়ে যাত্রী পারাপার অন্য দিনের মতোই স্বাভাবিক থাকবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আখাউড়া স্থলবন্দর ঘেঁষে ভারত থেকে একটি খাল এসেছে। শুক্রবার দুপুর থেকে ওই খাল দিয়ে পানি বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে বন্দরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। শনিবার বিকেল নাগাদ এ পরিস্থিতি বিরাজমান ছিল।

স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আজ (গতকাল) সকালের দিকে মাছ রপ্তানি করা হয়। কিন্তু ভারতীয় অংশেও পানি থাকায় অন্য পণ্য রপ্তানিতে ব্যাঘাত ঘটে। পানি না কমলে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না। ’

পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে টানা বৃষ্টিতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার পরিবার। খাগড়াছড়ি, দীঘিনালা ও বাঘাইছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সাজেক ও লংগদুর সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। সাজেকে আটকা পড়েছে পর্যটকদের শতাধিক গাড়ি। রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ২৯ গ্রাম তলিয়ে পানিবন্দি রয়েছে ২৫ হাজার পরিবার। নীলফামারীতে তিস্তাসহ জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে সব নদীর পানি। কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমারসহ প্রধান প্রধান নদ-নদীতে পানি দ্রুতগতিতে বাড়ছে।

সিলেট জেলার চারটি উপজেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। সুনামগঞ্জের পাঁচ উপজেলায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গ্রামীণ রাস্তাঘাট, বাজার ডুবে গেছে। প্রবল বর্ষণে শেরপুর, জামালপুর, চাঁদপুরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

এদিকে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের বগুড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত মহাস্থানগড় সেতুর জরুরি মেরামতকাজের কারণে গতকাল রাত ৮টা থেকে আজ সকাল ১০টা পর্যন্ত সেতুর ওপর দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। জরুরি সার্ভিস ও ছোট আকারের যানবাহনকে মহাস্থানগড় বাজার-শিবগঞ্জ-আমতলী-মোকামতলা সড়ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া যাচ্ছে। এ সড়ক ব্যবহারকারীদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)