ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯

ঢাকা সোমবার, ৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১৯ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১

সম্পাদকীয় বশেমুরবিপ্রবিতে আন্দোলন: শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধান হোক

বশেমুরবিপ্রবিতে আন্দোলন: শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধান হোক

নিরাপদ নিউজ: কথায় কথায় শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের ঘটনায় ক্ষুব্ধ ছিল গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। এই ক্ষোভকে আরও উস্কে দেয় সেখানকার আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ও ক্যাম্পাস সাংবাদিক ফাতেমা-তুজ-জিনিয়াকে সাময়িক বহিষ্কার করা। পরে জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশ তুলে নিলেও ভিসির পদত্যাগের দাবিতে অন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

এরইমুেধ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটি ও হল বন্ধের নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। এর আগে ভিসি প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করাসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে পদত্যাগের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে আমরন অনশন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কিন্তু শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে হামলা চালায় বহিরাগতরা। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর বহিরাগতদের হামলার বশেমুরবিপ্রবি সহকারী প্রক্টর হুমায়ুন কবীর পদত্যাগ করেন। তিনি লিখিতভাবে এ পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের নৈতিক ও ন্যায্য দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির অনৈতিক কার্যকলাপের প্রতিবাদ জানিয়ে সহকারী প্রক্টর পদ থেকে পদত্যাগ করছি।

হুমায়ুন কবীর সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক পদে কর্মরত। পদত্যাগের বিষয়টি তিনি স্বীকার করে বলেছেন, নীতি-নৈতিকতার জায়গা থেকে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সহকারী প্রক্টরের পদত্যাগের বিষয়টি আন্দোলনে সমর্থনেরই অংশ।

অনিয়মের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করবে এটাই স্বাভাবিক এবং যেকোনো দাবি আদায়ে আন্দোলন করা তাদের অধিকারের মধ্যে পড়ে। ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনের বিষয়টি তাদের সাথে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। এভাবে ক্যাম্পাসে আন্দোলনকারীদের ওপর বহিরাগতদের হামলা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।

উপাচার্যের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের যেসব অভিযোগ তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা আছে বলেও মনে হয়নি।

গোপালগঞ্জ বিশ^বিদ্যায়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের যৌক্তিকতা বা অযৌক্তিকতা কতটুকু রয়েছে সেটি খতিয়ে দেখা হোক। একইসাথে উপাচার্যের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো যাচাই করে নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আমরা চাই, সকারের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠকের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা হোক।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)