আপডেট ১৬ মিনিট ১৭ সেকেন্ড

ঢাকা মঙ্গলবার, ৪ আষাঢ়, ১৪২৬ , বর্ষাকাল, ১৪ শাওয়াল, ১৪৪০

লিড নিউজ, সড়ক সংবাদ বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ড্রিমলাইনারের পাসপোর্টবিহীন পাইলটকে আটকে দিল কাতার ইমিগ্রেশন

বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ড্রিমলাইনারের পাসপোর্টবিহীন পাইলটকে আটকে দিল কাতার ইমিগ্রেশন

নিরাপদ নিউজ: পাসপোর্ট সঙ্গে না থাকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ড্রিমলাইনারের পাইলটকে আটকে দিয়েছে কাতার ইমিগ্রেশন। বুধবার রাতে দোহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ ঘটনা ঘটেছে।

ওই পাইলটের নাম ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ। তিনি এখন দোহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে অবস্থান করছেন। অপর একটি বেসরকারি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে তার পাসপোর্ট পাঠিয়ে দেশে ফেরত আনার চেষ্টা চলছে।

জানা গেছে, বিদেশ সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আনতে বুধবার রাতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বোয়িং ৭৮৭ মডেলের একটি ড্রিমলাইনার দোহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যায়। বিশেষ এই বিমানের পাইলট ছিলেন ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ। তিনি পাসপোর্ট ছাড়াই কাতার যান, যেটি ধরা পড়ে সে দেশের ইমিগ্রেশনে। পরে তাকে ইমিগ্রেশনে আটকে রাখা হয়।

আইন অনুযায়ী, পাসপোর্ট ছাড়া কারো দেশত্যাগ কিংবা অন্য দেশে প্রবেশের সুযোগ নেই। ফজল মাহমুদ কাতার ইমিগ্রেশনকে জানান, তার পাসপোর্ট বিমানের ফ্লাইট অপারেশন রুমের লকারে। পরে বিমানের নিরাপত্তা মহাব্যবস্থাপকের কাছ থেকে চাবি নিয়ে ফজল মাহমুদের পাসপোর্ট উদ্ধার করেন বিমানের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ মহাব্যবস্থাপক (জিএম সেন্ট্রাল কন্ট্রোল ) আশরাফ হোসেন।

তিনি জানান, বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন জামিল আহমেদের নির্দেশনা মতে তিনি পাসপোর্ট উদ্ধার করেন এবং এই পাসপোর্ট কাতারে পাঠানোর উদ্যোগ নেন তিনি।

বৃহস্পতিবার কাতার এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ফজল মাহমুদের পাসপোর্ট দোহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পাঠানোর চেষ্টা করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। কিন্তু কাতার এয়ারলাইন্স পাসপোর্ট বহনে অস্বীকৃতি জানায়।

কাতার এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে বলা হয়, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া একজনের পাসপোর্ট বহনের নিয়ম নেই।

এদিকে পাসপোর্ট ছাড়া একজন পাইলট কীভাবে নিজ দেশের ইমিগ্রেশন পার হয়ে বিদেশ গেলেন এটি নিয়ে তোলপাড় চলছে। আইন অনুযায়ী পাসপোর্ট ছাড়া দেশত্যাগ ও অন্য দেশে প্রবেশের সুযোগ নেই।

রিজেন্ট এয়ারলাইন্সের একজন কর্মকর্তা বলেন, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদের পাসপোর্ট বহন করবে না রিজেন্ট এয়ার।

পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে রিজেন্ট এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে করে ফজল মাহমুদের পাসপোর্ট কাতার পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মুহিবুল হক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বিষয়টি ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদের ব্যক্তিগত গাফিলতি। তিনি দেশে ফিরে আসার পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, এখানে আরও অনেকের গাফলতি রয়েছে। পাইলট পাসপোর্ট ছাড়া রওনা হলেন, কিন্তু ঢাকার বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কি করলো? তাদেরও এখানে দায়িত্ব ছিল।

তবে প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে ফেরায় কোনো সমস্যা হবে না বলে জানিয়ে তিনি বলেন, পাইলটের পাসপোর্ট রিজেন্টে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই পাসপোর্ট হাতে পেয়ে যাবে পাইলট।

তিনি বলেন, ফ্লাইট ফেরার পর এ বিষয়ে যাদের গাফলতি পাওয়া যাবে তাদের সবার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিমানের একজন পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, ভিভিআইপিকে বহন করতে যাওয়া কোনো ফ্লাইটের কোনো ক্রুর পাসপোর্ট ছাড়া যাওয়া ঠিক হয়নি। এটি বড় ধরনের অপরাধ। দেশে আসার পর তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এর আগে পাসপোর্ট ছাড়া লন্ডন যাওয়ায় বিমানের একজন পাইলটকে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা গুণতে হয়েছে।

ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ কাতার অবস্থান করায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। উল্লেখ্য, ফজল মাহমুদ ড্রিমলাইনারের একজন ইনস্ট্রাকটরেরও দায়িত্বে।

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চার দেশে সরকারি সফরের অংশ হিসেবে বর্তমানে ফিনল্যান্ডে অবস্থান করছেন। আগামী ৮ জুন তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। তাকে বহন করতে বোয়িং ৭৮৭ মডেলের ড্রিমলাইনার কাতার অবস্থান করছে।

 

প্রধানমন্ত্রীকে আনতে যাওয়া সেই বিমানের পাইলট পরিবর্তন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিনল্যান্ড থেকে আনতে যাওয়া সেই বিমানের পাইলট পরিবর্তন করা হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ নিয়ে কাতার গিয়ে দেশটির ইমিগ্রেশনে আটক পাসপোর্টবিহীন পাইলট ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদের পরিবর্তে ক্যাপ্টেন আমিনুলকে পাইলটের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ক্যাপ্টেন আমিনুলকে পাঠাতে বেসামরিক বিমানসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছ থেকে ইতোমধ্যে ছাড়পত্র নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ৫মিনিটে বিমানের দোহাগামী নিয়মিত ফ্লাইটে (বিজি-০২৫) তার ঢাকা ত্যাগ করার কথা। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট অপারেশন বিভাগ গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ফজল মাহমুদকে কাতারের এয়াপোর্টের একটি হোটেলে রাখা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আজ রাতেই রিজেন্ট এয়ারওয়েজের একটি ফিরতি ফ্লাইটে তাকে দেশে পাঠানো হবে অথবা তাকে নন-অপারেটিং পাইলট হিসেবে দেশে ফেরত আনা হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চার দেশে সরকারি সফরের অংশ হিসেবে বর্তমানে ফিনল্যান্ডে অবস্থান করছেন। ৮ জুন দোহা বিমানবন্দর হয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)