আপডেট ২ সেকেন্ড

ঢাকা বুধবার, ৪ আশ্বিন, ১৪২৬ , শরৎকাল, ১৯ মুহাররম, ১৪৪১

শিল্প-সংস্কৃতি বাংলাদেশ হেরিটেজ ক্রাফটস ফাউন্ডেশনের দ্বিতীয় গালার ইভেন্ট সম্পন্ন

বাংলাদেশ হেরিটেজ ক্রাফটস ফাউন্ডেশনের দ্বিতীয় গালার ইভেন্ট সম্পন্ন

নিরাপদ নিউজ: সফলভাবে সম্পন্ন হলো বাংলাদেশ হেরিটেজ ক্রাফটস ফাউন্ডেশনের দ্বিতীয় গালার ইভেন্ট। রাজধানীর হোটেল রেডিসনের উৎসব হলে টিএস ইভেন্টের উদ্যোগে ২৩ ও ২৪ আগস্টে দু’দিনব্যাপি এ আয়োজনে প্রদর্শনীর পাশাপাশি ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা, যাতে অংশ নেন সরকারের মন্ত্রী উপদেষ্টাদের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা এবং বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও অতিথিরা।
এদেশের মৃতপ্রায় ঐতিহ্যগুলোকে ধরে রাখা, সমৃদ্ধ করা এবং দেশে-বিদেশে বাজার সৃষ্টি করাই হেরিটেজ ক্রাফটস ফাউন্ডেশনের উদ্দেশ্য। ২০১৮ সালের ১২ মে গুলশানে প্রথম আয়োজনের পর এবার আরও বড় পরিসরে রেডিসনে আয়োজন করা হয়েছিল প্রদর্শনীর, যাতে অংশ নিয়েছিল ঢাকাই বেনারশি, জামদানি, রাজশাহি সিল্ক বা তাতের শাড়ির মতো কারুপণ্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।
এবারের আয়োজনে গণমাধ্যমের অংশগ্রহণও ছিল চোখে পড়ার মতো। মিডিয়া পার্টনার ছিল এটিএন বাংলা, চ্যানেল ২৪, দি ডেইলি স্টার, এবিসি রেডিও, দৈনিক সমকাল, দি পেজেস ম্যাগাজিন এবং অনলাইন পোর্টাল দি পেজেস ডটকম ডটবিডি এবং হারনেট টিভি।
এ আয়োজনের মধ্যমণি হেরিটেজ ক্রাফটস ফাউনডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তুতলি রহমান। আমাদের মৃতপ্রায় কারুশিল্পকে রক্ষায় সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কোন একক ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এ ঐতিহ্যকে পুনরুদ্ধার সম্ভব নয় ।
তবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, কারুশিল্পকে বিপন্ন মানলেও বিলুপ্ত মানতে নারাজ । তিনি বলেন, সব ঐতিহ্য হারিয়ে গেছে এমনটা ঠিক নয়। এগুলো এখনো নতুন করে উজ্জীবিত করার সুযোগ রয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত, আর সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত। উভয় রাষ্ট্রদূতই তাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের অবদান তুলে ধরেন।
সমাপনি অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি বিজিএমই’র সভাপতি ড. রুবানা হক ঐতিহ্যবাহী কারুপণ্য কি করে রপ্তানিমুখি তৈরি পোশাক শিল্পের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে পারে তা ভেবে দেখার আহ্বান জানান। সমাপনি অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ হুমায়ূন। তিনি দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বিশ্বমানের এমন প্রদর্শনীতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যারা এমন এসব পণ্য উৎপাদনের সাথে সংশ্লিষ্ট তাদের কাছে এ ধরনের আয়োজনকে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। এ ক্ষেত্রে সরকার বিশেষ করে শিল্প মন্ত্রনালায় পাশে থাকবে বলেও অঙ্গীকার করেন তিনি।
দুদিনের এই আয়োজনে দেশীয় পোশাকের ফ্যাশন শো ও সঙ্গীতানুষ্ঠান দেশি–বিদেশি অতিথিদের আলোড়িত করে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)