ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট এপ্রিল ১২, ২০১৭

ঢাকা সোমবার, ১৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৫ , গ্রীষ্মকাল, ১২ রমযান, ১৪৩৯

লিড নিউজ, শিল্প-সংস্কৃতি বাংলা বর্ষবরণকে ঘিরে উৎসবের যত আয়োজন

বাংলা বর্ষবরণকে ঘিরে উৎসবের যত আয়োজন

নতুন বছরকে বরণ করে নিতে প্রায় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে এ ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা।

১২ এপ্রিল ২০১৭, নিরাপদ নিউজ : অসাম্প্রদায়িক বাঙালির অন্যতম উৎসব বর্ষবরণ। বাংলা বছরের প্রথম দিনটিকে বরণ করে নিতেই এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। আর একদিন পরেই শুরু হবে নতুন বঙ্গাব্দ-১৪২৪। বিদায় নেবে ১৪২৩। এ লক্ষ্যে দেশব্যাপী প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। এদিকে বর্ষবরণে সাজসাজ রব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে। নতুন বছরকে বরণ করে নিতে প্রায় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে এ ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের তুলির আঁচড়।

বর্ষবরণের অন্যতম আকর্ষণ মঙ্গল শোভাযাত্রা। এর মধ্য দিনে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার সূচনা হয়। বর্ষবরণের দিন সকাল ৯টায় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নেন। চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে এ শোভাযাত্রা শুরু হয়। শোভাযাত্রাটি হোটেল শেরাটনের মোড় ঘুরে আবার চারুকলায় এসে শেষ হয়।

১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার শিক্ষার্থীরাই প্রথম পয়লা বৈশাখে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করে। সেই থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা বাঙালির বর্ষবরণে এনেছে নতুন মাত্রা। শোভাযাত্রায় গ্লানি আর পাওয়া না পাওয়ার হিসেবে চুকিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন অংশগ্রহণকারীরা। দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে চলে আসা এই ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রা পেয়েছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও। গত বছরের নভেম্বরে চারুকলা অনুষদের মঙ্গল শোভাযাত্রাকে ‘বিশ্ব অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ ঘোষণা করে ইউনেস্কো। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এবারের আয়োজনে স্বীকৃতির বিষয়টিও ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা থাকবে।

এ বছর শোভাযাত্রার স্লোগান ‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে বিরাজ সত্য সুন্দর’ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতীক হিসেবে থাকবে উজ্জ্বল সূর্যে হাস্যোজ্জ্বল মুখচ্ছবি। যার পেছনে থাকবে আরেকটি কদাকার মুখ। উদ্দেশ্য সব অন্ধকার যেন আসে আলোর দিকে। এর ব্যাখ্যায় অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন বলেন, আলোর মূল উৎস সূর্য। সেটাকে একটি প্রতীক হিসেবে নিয়ে আসছি, এটা হাতে ধরা থাকবে। এরকম অন্তত পঞ্চাশটা থাকবে সূর্য ন্যূনতম। এ সূর্যের যে দিকটা আলোকিত সে দিকটায় একটা হাস্যোজ্জ্বল মুখ থাকবে এবং পেছনের দিকটা কালো থাকবে সেখানে একটি কদাকার মুখ থাকবে। তিনি বলেন, পেছনের কালো রঙটা দিয়ে জঙ্গিবাদকে বোঝানো হচ্ছে। কালো রঙটা নেয়া হয়েছে আইএসের পতাকার রঙ থেকে। জঙ্গিবাদ আমাদেরকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এ অন্ধকার থেকে আলোর দিকে মুখ ঘোরাতে বলছি। এটাই আমাদের মূল আহ্বান।

বর্ষবরণের প্রস্তুতি দেখতে চারুকলায় দক্ষিণ গেট দিয়ে ঢুকতেই চোখে পড়ে একটি স্টল। সেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আঁকা বিভিন্ন চিত্রকর্ম, মুখোশ, লক্ষ্মীসড়া বিক্রির জন্য প্রদর্শিত হচ্ছে। আগ্রহীরা কিনছেন। রীতি অনুযায়ী অনুষদের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরাই মঙ্গল শোভাযাত্রার মূল ভূমিকা পালন করে। আর তাদের সমন্বয় করার দায়িত্ব নেয় জ্যেষ্ঠরা। এবার যেমন সমন্বয়কের দায়িত্বে আছেন অনুষদের স্নাতক ১৮ ও ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। মূল সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্বে আছেন ভাস্কর্য বিভাগের ১৮তম ব্যাচের পলাশ সাহা। ঘুরতে ঘুরতে কথা হয় শাহরিয়ার হাসান তমালের সঙ্গে। মুখোশ কাটায় ব্যস্ত তমাল বলেন, এবারের আয়োজনটি বিশেষ। কারণ যে বিশেষত্বের জন্য মঙ্গল শোভাযাত্রাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে আমরা সেটাকে উপস্থাপন করার সর্বোত্তম প্রস্তুতি নিচ্ছি। শোভাযাত্রায় তুহিন পাখি, ঘোড়া, বাঘের মুখ, বাংলাদেশের সমুদ্র বিজয় উপলক্ষে ময়ূরপঙ্খী ও যুদ্ধাপরাধীদের প্রতিকৃতি। অনুষদের মাঠে চলছে প্রতিকৃতি নির্মাণের কাজ। জয়নুল গ্যালারি, বারান্দাসহ বিভিন্ন কক্ষে শিক্ষার্থীরা ব্যস্ত সময় পার করছে। ‘তুহিন পাখি’ নিয়ে কৌতুহল জন্মালো। জানতে চাইলে আসিফ কিবরিয়া বলেন, এটা কোনো পাখির প্রকৃত নাম না। আমাদের এক বড় ভাই তুহিনের নামানুসারে এর নাম দেয়া হয়েছে। তিনিই প্রথম এভাবে পাখি বানানো শুরু করেছিলেন।
এদিকে বর্ষবরণকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। চারুকলা অনুষদে নেয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা। শোভাযাত্রায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞার কথা মাথায় রেখে হাতে ধরার মুখোশ বানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ এম আমজাদ বলেন, পুরো ক্যাম্পাসে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকবে। প্রক্টরিয়াল টিম থাকবে। এছাড়া চারুকলায় অতিরিক্ত পুলিশ রাখা হয়েছে। সেখানে সিসি ক্যামরা রাখা হয়েছে। তিন দিন পর পর সিসি ক্যামরার ফুটেজ পুলিশ চেক করে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)