ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৩ মিনিট ৫৭ সেকেন্ড

ঢাকা রবিবার, ৬ শ্রাবণ, ১৪২৬ , বর্ষাকাল, ১৭ জিলক্বদ, ১৪৪০

বরিশাল বাউফলে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন

বাউফলে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন

কামরুল হাসান,নিরাপদ নিউজ: বাউফলে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে অনশন করছেন কলেজ পড়ুয়া এক তরুনী (১৮)। অনশনের সময় প্রেমিকের পরিবারের লোকজন ওই তরুনীকে শারিরিক ভাবে লাঞ্চিত করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে বাউফল থানা পুলিশ অনশনরত ওই তরুনীকে উদ্ধার করে বাবা মায়ের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের বাজেমহল গ্রামে।
জানা গেছে, ওই গ্রামের আবুল বশারের মেয়ে কেশবপুর কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির প্রথম বর্ষের ছাত্রি লিজা আক্তার সনিয়ার (১৮) সাথে পার্শ্ববর্তী বাড়ির আক্কেল গাজীর ছেলে সুমন গাজীর দীর্ঘদিন ধরে প্রেম চলে আসছিল।

সাংবাদিকদের কাছে লিজা আক্তার জানায়, ২০১৬ সালের ১৪ এপ্রিল গোপণে দুইজন কুরআন শরীফ স্বাক্ষী রেখে বিয়ে করেন এবং উভয়ে স্বামী-স্ত্রীর মতো বসবাস করে আসছে। অন্তঃস্বত্তার ভয়ে তাকে জন্মনিরোধক ওষুধও খাওয়ানো হতো। গত ২১ ফেব্রুয়ারি লিজা সামাজিকভাবে তাকে বিয়ে করার জন্য সুমনকে চাপ দিলে সমুন তাকে বিয়ে করতে অস্বীকার করে। এ নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে চরম দ্বন্দের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বিষয়টি নিস্পত্তি করার চেষ্টা করা হলেও সুমনের পরিবার রাজি হয়নি।

এর প্রেক্ষিতে গত ২২ ফেব্রুয়ারি লিজা বিয়ের দাবিতে প্রেমিক সুমনের ঘরে গিয়ে উঠে। এ সময় সুমনের মা ফজিলাত বেগম ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা লিজাকে মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেন। ঘটনার পর স্থানীয়রা লিজাকে উদ্ধার করে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। দুই দিনেও কোন ফয়সালা না পেয়ে লিজা রবিবার পুনরায় সুমনের বাড়ি গিয়ে উঠানে শুয়ে অনশন শুরু করে।

এ খবর পেয়ে বাউফল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লিজাকে উদ্ধার করে বাবা মায়ের কাছে পৌঁছে দেন এবং কেশবপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের কাছে করা অভিযোগের ভিত্তিতে ফয়সালা করার তাগিদ দেন। এ ব্যাপারে সুমনের ০১৭৫১…… ও ০১৭৫….. নম্বরে বার বার ফোন দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে সুমনের পরিবারের থেকে সাংবাদিকদের জানান, এটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং সাজানো নাটক।

সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্যই এ নাটক সাজানো হয়েছে। স্থানীয় চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন লাভলু জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয়ভাবে মিমাংসার কারার চেষ্টা করা হচ্ছে। বাউফল থানার ওসি খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, অভিযোগ দিলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)