আপডেট ১৮ মিনিট ৭ সেকেন্ড

ঢাকা শনিবার, ২২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ৯ রবিউস-সানি, ১৪৪১

বরিশাল বাউফলে শিশু শিক্ষার্থীদের পেটালেন সভাপতি, প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

বাউফলে শিশু শিক্ষার্থীদের পেটালেন সভাপতি, প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

কামরুল হাসান, নিরাপদনিউজ: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ৫৬নং সাবুপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষে ঢুকে শিক্ষার্থীদের পেটালেন ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি। এ ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সভাপতির বিচারের দাবিতে গতকাল সোমবার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছে। ওই সভাপতির নাম মো. জালাল উদ্দিন মৃধা। তিনি ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষানুরাগী সদস্য হলেও তাঁর কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই। গতকাল সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সরেজমিনে যান উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রিয়াজুল হক ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মঈনুল ইসলাম।

শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোনো কারন ছাড়াই গত রোববার বিকেল আড়াইটার দিকে ওই বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন মৃধা শ্রেণি কক্ষে ঢুকে শিক্ষকদের সামনেই তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের চুল ধরে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করে। কিছু শিক্ষার্থী ভয়ে দৌড়ে ছাদে আশ্রয় নিলে সেখানে গিয়েও তাদেরকে পিটিয়ে আহত করা হয়।
এক অভিভাবক বলেন,‘আমার ছেলে অন্যায় করলে শিক্ষকেরা বিচার করবেন। উনি (সভাপতি) মারার কে? এর সুষ্ঠু বিচার না করলে তাঁরা এই বিদ্যালয়ে তাঁদের সন্তানদের পড়াশুনা করাবেন না। এ সময় তাঁরা সভাপতির পদত্যাগ দাবি করেন। আরেক অভিভাবক বলেন,‘কোনো কারণ ছাড়া সভাপতি মারধর করার কারণে তাঁর মেয়ে ভয় পেয়েছেন। এ কারণে তাঁর মেয়ে বিদ্যালয়ে আসতে চাইছে না।’

ওই সময় বিদ্যালয়ে সভাপতি জালাল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষার্থীদের মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মারধর করার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেন। তাঁর দাবি শিক্ষকেরা ঠিক মত ক্লাস করেন না। ক্লাসে না গিয়ে অলস সময় কাটান। এ বিষয়ে একাধিকবার বলা হলেও শিক্ষকেরা তাঁর কথা শুনছেন না। সেই রাগ এবং ক্ষোভে শিক্ষার্থীদের মেরেছেন তিনি। যদিও এ অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করছেন শিক্ষকরা। তাঁদের দাবির সঙ্গে একমত পোষন করেন শিক্ষার্থীরা।

প্রধান শিক্ষক সাবিত্রী রানী পাল শিক্ষার্থীদের মারধরের সত্যতা স্বীকার করে বলেন,‘বিষয়টি তিনি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মহোদয়কে জানিয়েছেন।’
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রিয়াজুল হক বলেন,‘সভাপতি শিক্ষার্থীদের মারধর করেছেন তা তিনি (সভাপতি) প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন। তিনি আরও বলেন কোনো ভাবেই তিনি (সভাপতি) শিক্ষার্থীদের মারতে পারেন না। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)