ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ডিসেম্বর ১, ২০১৪

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩ কার্তিক, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১৮ সফর, ১৪৪১

নারী ও শিশু সংবাদ, বহির্বিশ্ব বাকিংহ্যাম প্যালেসে শিশুর ওপর যৌন নিপীড়নকারী ভিআইপি চক্র!

বাকিংহ্যাম প্যালেসে শিশুর ওপর যৌন নিপীড়নকারী ভিআইপি চক্র!

বাকিংহ্যাম প্যালেসে শিশুর ওপর যৌন নিপীড়ন

বাকিংহ্যাম প্যালেসে শিশুর
ওপর যৌন নিপীড়ন

নিরাপদ নিউজঃ বৃটেনের বাকিংহ্যাম প্যালেস এবং বালমোরাল ক্যাসেলের অভ্যন্তরে ভিআইপিদের দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়েছিল ১৬ বছরের এক বালক। সানডে পিপলের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে বৃটেনের প্রভাবশালী পত্রিকা মিরর। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বৃটেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দলিল থেকে পাওয়া চাঞ্চল্যকর তথ্য। হৃদয়বিদারক ঘটনার বর্ণনায় ছেলেটি বলেছে, সে কিভাবে চূড়ান্ত পর্যায়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। এ ঘটনা তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লিওন ব্রিটানকে অবগত করা হয়েছিল। কিন্তু এসব অভিযোগ তদন্ত করা বাস্তবসম্মত নয় বলে তিনি সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন। এখন সামনে আসা এ ঘটনা পুলিশি তদন্ত পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাহলে সত্তর আর আশির দশকে শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত বিভিন্ন এমপি আর ক্ষমতাধরদের নাম উঠে আসতে পারে। বাকিংহাম প্যালেসে শিশু যৌন নির্যাতন নিয়ে পূর্ণ তদন্তের জন্য প্রচারণা চালাচ্ছেন লেবার এমপি টম ওয়াটসন। তিনি বলেন, আমি নিশ্চিত কোন রকম তদন্ত হলে সহযোগিতায় আগ্রহী হবে প্রাসাদ কর্তৃপক্ষ। রাজপ্রাসাদের এক মুখপাত্র বলেছেন, এ ধরনের যে কোন অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে রাজ কর্তৃপক্ষ। যে কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ মোকাবিলা বা সুনির্দিষ্ট তথ্য তদন্তে পদক্ষেপ নেবেন তারা।
সানডে পিপল এবং তদন্ত ওয়েবসাইট এক্সারো’র তৎপরতায় উঠে এসেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফাইলে নির্যাতনের শিকার ওই ছেলেটির মায়ের লেখা চিঠি । তিনি এমপি জফ্রি ডিকেনসের কাছে লিখেছিলেন ওই চিঠি। সে সময় ছেলেটির বয়স ছিল ১৬ বছর। ইংল্যান্ডে তখন সমকামী যৌন সম্পর্ক স্থাপনে সম্মতি দেয়ার বৈধ বয়স ছিল ২১। আর স্কটল্যান্ডে ছিল পুরোপুরি অবৈধ। সে সময় ডিকেনস বলেছিলেন, ছেলেটি তার পিতা-মাতাকে জানিয়েছে যে, প্রাসাদে রাজপরিবারের সদস্যদের দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে তার সন্তান। তিনি আরও বলেছিলেন, আমি উদ্বিগ্ন যে কূটনৈতিক মহলের শিশু নিপীড়নকারীদের কাছে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেদের সরবরাহ করার চক্রের একটি অংশ হতে পারে রাজপ্রাসাদ। সত্তুরের দশকের শুরুর দিকে ১৬ বছরের ওই ছেলেটি প্রাসাদে কাজ করতে শুরু করে। কয়েক মাস পর তার পরিবারের সদস্যরা লক্ষ্য করে যে, সে কিছুটা অদ্ভুত আচরণ করছে। স্কটল্যান্ডের বালমোরালে রাজপরিবারের যে প্রাসাদ রয়েছে সেখানেও ওই ছেলের সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানো হয়। বাকিংহ্যাম প্যালেসে সে সময় ছেলেটির পরিবারের ঘনিষ্ঠ একজন কাজ করতো। সে তাদের জানায় যে তাদের ছেলে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে। বালমোরাল প্রাসাদে রাতের বেলা একদিন ছেলেটি চিৎকার দিয়ে উঠলে ঘটনা অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে ওঠে। ওই সময়ের নানা রিপোর্টে আরও অনেক তথ্য উঠে এসেছে। এর একটিতে বলা হয়, ছেলেটি তার পিতা-মাতাকে হাতে লিখে একটি চিরকুট পাঠিয়েছিল।
সেখানে লেখা ছিল, বাকিংহাম প্যালেস তার জন্য যা করেছে তা হলো চূড়ান্ত পর্যায়ের নির্যাতন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত্যন্তর না পেয়ে ছেলেটির পিতা-মাতা সাহায্য চেয়ে জফ্রি ডিকেনসের কাছে লিখেছিলেন। ১৯৮৩ সালে ওই এমপি ওই মায়ের উদ্বেগ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে জানান। কিন্তু লিওন ব্রিটানের কাছ থেকে ডিকেনস যে জবাব পেয়েছিল তা হলো, বিস্তারিত তদন্ত পরিচালনা করাটা বাস্তবসম্মত হবে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই ফাইলে আরও যে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে তা হলো বাকিংহ্যাম প্যালেসে কাজ করার সময় ১৬ বছর বয়সী ওই ছেলেকে এক প্রস্তাব দিয়েছিলেন কুখ্যাত শিশু নির্যাতনকারী স্যার পিটার হেম্যান। তিনি তাকে কানাডায় তার সঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেখানে তখন তিনি রাষ্ট্রদূত ছিলেন। হেম্যান এতটাই আগ্রহী ছিলেন তাকে সঙ্গে নিতে যে তার পিতা-মাতার কাছেও লিখেছিলেন তিনি। এক্সারোর তদন্তে বলা হচ্ছে, পরে ছেলেটির পিতামাতা তাকে কানাডায় যাওয়া ঠেকাতে পেরেছিলেন। এসব ঘটনা তদন্তে সোচ্চার এমপি টম ওয়াটসন বলেন, আমরা এখন যা কিছু জানি তার আলোকে পিটার হেম্যান সংক্রান্ত যে কোন যৌন অপরাধের অভিযোগের পূর্ণ তদন্ত হওয়া উচিত। সে সময় রাজ অনুগ্রহে সুরক্ষিত ছিলেন তিনি। তার এ সব কর্মকাণ্ড কিভাবে ধামাচাপা দেয়া হয়েছে তা এখনও ব্যাখা করা হয়নি। এসব তথ্য সামনে আসায় ইঙ্গিত মিলছে ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের এক শিশু নির্যাতনকারী চক্রের সঙ্গে প্যালেসের সম্পৃক্ততা ছিল যারা অনেক বছর ধরে সক্রিয় ছিল। প্রাসাদ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইতিমধ্যে কুখ্যাত পতিতালয় এলম গেস্ট হাউজের যোগসূত্র স্থাপন করা হয়েছে। পুলিশ এখন অন্য শিশু নিপীড়নকারীদের শনাক্ত করতে হেম্যান সংশ্লিষ্ট পুরনো ফাইলপত্র ঘেঁটে তদন্ত চালাচ্ছে। গত বছর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি পর্যালোচনা পরিশিষ্টে নিখোঁজ ফাইলের তালিকায় একটির শিরোনাম ছিল ‘স্যার পিটার হেম্যান, ১৯৮০-৮১ পেপার্স এক্স-ডিপ্লোম্যাট’স ইনট্রিগিং প্রাইভেট লাইফ’।
ওপরকারী

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)