ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট জুলাই ৬, ২০১৫

ঢাকা শুক্রবার, ৪ কার্তিক, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১৮ সফর, ১৪৪১

স্বাস্থ্য কথা বাজারে নকল ইনসুলিন বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি!

বাজারে নকল ইনসুলিন বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি!

দেশের অনেক ডায়াবেটিস রোগী নকল ইনসুলিন ব্যবহার করে প্রতারিত হচ্ছেন

দেশের অনেক ডায়াবেটিস রোগী নকল ইনসুলিন ব্যবহার করে প্রতারিত হচ্ছেন

০৬ জুলাই ২০১৫, নিরাপদ নিউজ : পুরান ঢাকার বংশালের ফাতিমা বেগম চার বছর ধরে টাইপ-১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। গত মাসে হঠাৎ তার রক্তে সুগারের মাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি নামি কোম্পানির ইনসুলিন গ্রহণ করেন। তবে দুই সপ্তাহ নিয়মিত ব্যবহার করেও তার অবস্থার উন্নতি হয়নি। অবশেষে তিনি রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানকার চিকিৎসক জানান, ফাতিমা বেগম কয়েক দিন নকল ইনসুলিন গ্রহণ করেছেন।

শুধু ফাতিমা বেগম নন, দেশের অনেক ডায়াবেটিস রোগী নকল ইনসুলিন ব্যবহার করে প্রতারিত হচ্ছেন। দেখতে একই রকম হওয়ায় তারা নকল ওষুধ চিহ্নিত করতে পারছেন না। এতে আর্থিকভাবে তিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।

চিকিৎসা খাতের বিশেষজ্ঞরা জানান, দেশে ৭০-৮০ লাখ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। এদের মধ্যে টাইপ-১ ও টাইপ-২ রোগী রয়েছে। টাইপ-১ রোগীদের ইনসুলিন ব্যবহার ছাড়া উপায় নেই। আর টাইপ-২ রোগীরা কায়িক পরিশ্রম, ব্যায়াম, ওজন ও সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন। রাজধানীর পুরানো ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় খোঁঁজ নিয়ে জানা যায়, বাজারে যেসব ইনসুলিন বেশি বিক্রি হয় ও দাম তুলনামূলক বেশি, সেগুলোই নকল হচ্ছে। বেশি লাভের আশায় দেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ইনসুলিন বিদেশি মোড়কে ভরে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। আবার মেয়াদোত্তীর্ণ ইনসুলিন নতুন প্যাকেটজাত হয়ে বাজারে আসছে।

অভিযোগ রয়েছে, কতিপয় আমদানিকারক মধ্যপ্রাচ্য থেকে স্বল্প মূল্যে ইনসুলিন দেশে এনে তা দামি কোম্পানির মোড়ক লাগিয়ে বাজারজাত করছেন। ইনসুলিন নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় রাখার নিয়ম রয়েছে। একশ্রেণির ব্যবসায়ী লাগেজের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য থেকে যেসব ইনসুলিন আমদানি করছেন, তা বেশি তাপমাত্রায় রাখা থাকে। এসব ইনসুলিন ব্যবহারে তিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনির উদ্দিন আহমেদ এ প্রসঙ্গে বলেন, রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে গেলে ইনসুলিন ব্যবহার করা হয়। তবে নকল ইনসুলিন ব্যবহার করা হলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, কিডনি তিগ্রস্তসহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দেশে ওষুধের সংখ্যা যে হারে বাড়ছে, সে অনুযায়ী সব ওষুধ পরীা-নিরীা হচ্ছে না। ওষুধ প্রশাসনও এ েেত্র নীরব ভূমিকা পালন করছে।

বাজারে ইনসুলিন নকল হলেও ওষুধ প্রশাসনের নীরব ভূমিকা পালনের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের পরিচালক গোলাম কিবরিয়া বণিক বার্তাকে বলেন, ইনসুলিন নকল হচ্ছে কিনা, তা মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ভালো বলতে পারবেন। এ বিষয়ে নজর রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশের ইনসুলিন বাজারের বড় অংশ দখল করে আছে ডেনমার্কের নভো নরডিস্ক ও মার্কিন কোম্পানি ইলি লিলি। এ দুই কোম্পানির অ্যাকট্রাপিভ, মিক্সটার্ড, ইনসুলেটার্ড ও ফেক্সিপ্লেক্স ব্র্যান্ডের ইনসুলিন রোগীরা বেশি ব্যবহার করেন। ৪০ মিলিলিটার ইনসুলিন ৫০০ টাকা ও ১০০ মিলিলিটার ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে দাম বেশি হলেও এগুলোর ওপর রোগীদের আস্থা বেশি।

ওষুধ বিক্রেতারা জানান, দেশের বাজারে ইনসুলিন চাহিদার শীর্ষে নভো নরডিস্ক। মোট ইনসুলিন বাজারের ৪৫-৫০ শতাংশ তাদের দখলে। ১৫-২০ শতাংশ রয়েছে মার্কিন কোম্পানি ইলি লিলির কাছে। বাকি ৪০-৩০ শতাংশ দেশি চার কোম্পানির দখলে। এর মধ্যে স্কয়ার ফার্মার রয়েছে এনসুলন, ইনসেপ্টার ম্যাক্সুলিন, পপুলারের ইনসুল ও অ্যারিস্টোফার্মার ইনসুলেট। এসব ইনসুলিন বাজারে ৪০ মিলিলিটার ১৯৫ টাকা ও ১০০ মিলিলিটার ৪১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)