ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ১২ মিনিট ৫৩ সেকেন্ড

ঢাকা সোমবার, ৮ শ্রাবণ, ১৪২৫ , বর্ষাকাল, ৯ জিলক্বদ, ১৪৩৯

কৃষি, বরিশাল বানিজ্যিকভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে তুলা চাষ

বানিজ্যিকভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে তুলা চাষ

রহিম রেজা, নিরাপদ নিউজ: ঝালকাঠিতে বানিজ্যিকভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তুলাচাষ। যশোর তুলা উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় গত সাত বছর ধরে রুপালি-১ ও ৪ জাতের তুলাচাষ করছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা। চলতি মৌসুমে জেলা সদরের গাবখান গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় ৭০ একর জমিতে তুলা চাষ হয়েছে। তুলাচাষ লাভজনক হওয়া ও ফলন ভালো পাওয়ায় চাষিদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে। এখন চলছে তুলা সংগ্রহের সময়। চৈত্রের শুরুতেই সাদা তুলায় ভরে গেছে ক্ষেতগুলো। এ অঞ্চলের কৃষিতে তুলাচাষকে নতুন সম্ভাবনা বলে মনে করছে কৃষি বিভাগ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে জেলার গাবখান গ্রামে প্রথম রুপালি-১ জাতের তুলাচাষ শুরু হয়। ওই বছর ফলন ভালো পাওয়ায় জেলার রাজাপুর এবং নলছিটিতে রুপালি-৪ জাতের তুলাচাষ শুরু করেন চাষিরা। তবে তুলা চাষের জমি নির্বাচন, বীজ সংগ্রহ ও পানি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় চলতি এই দুই উপজেলায় আপাতত তুলাচাষ বন্ধ রয়েছে। চাষিরা জানান, উঁচু জমিতে তুলা চাষ ভালো হয়। আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসে বীজ লাগানোর সময়। কার্তিক মাসে ফুল আসে। অগ্রহায়ণ-পৌষে ফল ধরে। ফাল্গুন-চৈত্র মাসে ফল ফেটে সাদা তুলা বের হয়। তখন ক্ষেত থেকে তুলা সংগ্রহ করেন চাষিরা। এ বছর তুলার ফলন ভালো হয়েছে। তবে উৎপাদন খরচও বেড়েছে বলে জানান কৃষকরা।রাজাপুরের আব্দুল কাদের জানান, এই এলাকার জমি কিছুটা নিচু হলেও খুব উর্বর। আমরা চার বছর তুলা চাষ করে তিন বছরই ভালো ফলন পেয়েছি। গত বছর বন্যার কারণে তুলা নষ্ট হয়ে যায়। তা ছাড়া তুলাচাষে কিছু সমস্যা রয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে সেচ ও বর্ষা মৌসুমে পানি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা। তবে তুলাচাষে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে এ অঞ্চলে তুলার আবাদ আরও বাড়বে বলে তিনি জানান। গাবখান গ্রামের বাচ্চু মিয়া জানান, ২০১১ সালে তুলা উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তার পরামর্শে আমরা গ্রামের চারজন মিলে প্রথমবার চার বিঘায় তুলাচাষ শুরু করি। ভালো ফলন ও বাজারমূল্য পাওয়ায় আমরা ক্ষেতের আয়তন বাড়িয়েছি। আমরা এবার ১৭ বিঘায় করেছি। গত বছরের তুলনায় চলতি বছর তুলার দাম কিছুটা বেড়েছে। গত বছর প্রতিমণ তুলার দাম ছিল ২২শ টাকা। চলতি বছর বিক্রি হচ্ছে ২৪শ টাকা মণ। বিঘাপ্রতি এবার ১০-১২ মণ তুলা পাওয়া গেছে। এ অঞ্চলে উৎপাদিত তুলার মান ভালো হওয়ায় চুয়াডাঙ্গার কটন মিল মালিকরা তুলা কিনে নিয়ে যান।গাবখান তুলা ক্ষেতে দৈনিক মজুরিতে কাজ করেন গোবিন্দ দাস। তিনি জানান, আমরা তুলাক্ষেতে পানি, সার, কীটনাশক দিই। আগাছা পরিষ্কার করি। এখন তুলা সংগ্রহ করছি। প্রতিমণ তুলা সংগ্রহ করে ৪০০ টাকা পাই। তুলা উন্নয়ন বোর্ডের ঝালকাঠি কটন ইউনিট কর্মকর্তা ওয়াহিদুল ইসলাম জানান, তুলাবীজ সাধারণত আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসে লাগাতে হয়। তবে দক্ষিণাঞ্চলে ওই সময় মাঠে পানি থাকায় শুধু উঁচুজমিতে তুলা চাষ করা যায়। আমরা চেষ্টা করছি আশ্বিন-কার্তিক মাসে বীজ বপন করা যায় এমন বীজ উদ্ভাবন করার। এ বিষয়ে পরীক্ষামূলক চাষাবাদ হচ্ছে। আশা করি পরে নিচু জমিতেও তুলাচাষ সম্ভব হবে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু বকর সিদ্দিক জানান, চলতি মৌসুমে ঝালকাঠিতে ৭০ একর জমিতে তুলাচাষ হয়েছে। আমরা কৃষকদের তুলাচাষে উৎসাহিত করছি। এ অঞ্চলের কৃষকদের জন্য তুলাচাষ হতে পারে একটি নতুন সম্ভাবনা। কেউ তুলা চাষে আগ্রহী হলে আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে নিয়মিত পরামর্শ দিই।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)