ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৪১ মিনিট ১৫ সেকেন্ড

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ , হেমন্তকাল, ৫ রবিউস-সানি, ১৪৪০

নিসচা সংবাদ, লিড নিউজ বাস টার্মিনালে ইলিয়াস কাঞ্চনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার প্রতিবাদে নিসচার সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

বাস টার্মিনালে ইলিয়াস কাঞ্চনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার প্রতিবাদে নিসচার সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

লিটন এরশাদ,নিরাপদনিউজ : নিরাপদ সড়ক চাই’র চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনকে বিভিন্ন বাস টার্মিনালে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার প্রতিবাদ ও সম্প্রতি জাতীয় সংসদে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ পাশ হওয়ার পরবর্তী উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্যাখ্যা প্রদানপূর্বক নিসচা’র পক্ষ থেকে আজ ৮ অক্টোবর ২০১৮, সোমবার, দুপুর ২টায় ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটি, সেগুনবাগিচা, ঢাকা-এর ‘সাগর-রুনি মিলনায়তন’-এ  এক জরুরী সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।  সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য পাঠ করেন,নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’র কেন্দ্রীয় ও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।

রোববার রাজধানীর ফুলবাড়ি টার্মিনালে মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের অনুষ্ঠিত সমাবেশে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’র কেন্দ্রীয় ও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনকে বিভিন্ন টার্মিনালে অবাঞ্চিত ঘোষণার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন নিসচা। সংবাদ সম্মেলনে চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে সড়ককে দুর্ঘটনামুক্ত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে নিসচা আন্দোলন। সারাদেশে নিসচার প্রায় ১২০টি শাখা সংগঠন ও বিদেশে প্রায় ৫টি শাখা সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমান সরকার ২২ অক্টোবরকে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সড়ক দুর্ঘটনারোধ করার লক্ষ্যে ১৭ টি নির্দেশনা দিয়েছেন। নিসচা সেই ১৭টি নির্দেশনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ১৭টি নির্দেশনা বাস্তবায়ন সহ সড়ক দুর্ঘটনা রোধকল্পে নিসচা কর্মীবৃন্দ কাজ করে যাচ্ছে ও ভবিষ্যতে এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তিনি আরো বলেন, মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ব্যানারে রাজধানীর ফুলবাড়িয়া সভায় উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৯৩ সালে আমার স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চন নিজ গাড়িতে নিজ চালকের কারণে দুর্ঘটনাকবলিত হয়ে মারা যান। কথাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সত্য হল এই যে, ঐদিন জাহানারা কাঞ্চন হোটেল সোনারগাঁও থেকে ভাড়া করা একটি মাইক্রো নিয়ে বান্দরবানে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে চট্টগ্রামের অদূরে চন্দনাইশ পেরিয়ে পটিয়ার কাছাকাছি সড়ক দুর্ঘটনা কবলিত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। আর এই দুর্ঘটনাটি ঘটায় একটি ট্রাক। পুরো দেশবাসী ঘটনাটি জানেন। প্রশাসন থেকে বিভিন্ন অনুসন্ধানেও ঘটনাটি উঠে এসেছিল। আমি এ ধরনের মিথ্যা অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ নেতৃবৃন্দকে আহবান জানাচ্ছি। তাদের উদ্দেশ্যে আরও বলতে চাই আমার দরজা তাদের জন্য সবসময় খোলা। তারা আমার প্রতিপক্ষ নন যে কোন সময় তারা আমার সাথে আলোচনা করতে পারেন। ইলিয়াস কাঞ্চন ভবিষ্যতে এসব মিথ্যা অপপ্রচার থেকে সকলকে বিরত থাকার আহ্বান জানান । এবং নিসচার পাশে থেকে সড়ক দুর্ঘটনারোধে সকলকে কাজ করার পরামর্শ দেন।

আজকের সংবাদ সম্মেলনের পুরো বক্তব্যটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

সুপ্রিয় সাংবাদিক সমাবেশ

আসসালামু আলাইকুম। নিরাপদ সড়ক চাই আয়োজিত আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে আপনাদের স্বাগতম জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

গতকাল ৭ অক্টোবর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ কর্তৃক আমাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার সংবাদ আমি এবং আমার সংগঠন নিরাপদ সড়ক চাই’র সকল নেতা কর্মীসহ আপনারা অবগত হয়েছেন। কেন কি কারনে আমাকে টার্গেট করে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হলো তা বোধগম্য নয়। পাশাপাশি আমার স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চনের মৃত্যুর ঘটনাকে সম্পূর্ন ভুল তথ্য দিয়ে বিতর্কিত করার অপপ্রয়াস চালানো হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে আমি  আপনাদের মাধ্যমে কিছু কথা বলার জন্য আজকের  এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

 

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা

প্রথমেই বলতে চাই আমার এবং আমার সন্তানদের জীবনের স্পর্শকাতর ঘটনা- ১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় আমার স্ত্রীর জাহানারা কাঞ্চনের মৃত্যু। ২৫ বছর পর এসে আমার স্ত্রীর এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ কর্তৃক ভুল তথ্য দিয়ে সাজানোর অপপ্রয়াস চলছে। তাদের বরাত দিয়ে সংবাদে লেখা হয়েছে আমার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে আমার নিজস্ব গাড়িতে। কিন্তু প্রকৃত সত্য হচ্ছে ঐদিন জাহানারা কাঞ্চন (আমার স্ত্রী) হোটেল সোনারগাঁও থেকে একটি মাইক্রোবাস ভাড়া নিয়ে দুই সন্তানকে সাথে করে বান্দরবানে আমার স্যুটিং স্পটে যাচ্ছিলেন। কিন্তু পথিমধ্যে চট্টগ্রামের অদুরে চন্দনাইশ পেরিয়ে পটিয়ার কাছাকাছি একটি ট্রাকের ধাক্কায় মাইক্রোবাসটি দুমড়ে মুচড়ে যায় এবং আমার স্ত্রীর মৃত্যু হয়। সেদিন গাড়িতে বিশিষ্ট অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামানও ছিলেন।  পুরো দেশবাসী ঘটনাটি জানেন। প্রশাসন থেকে বিভিন্ন অনুসন্ধানেও ঘটনাটি উঠে এসেছিল। আমি এ ধরনের মিথ্যা অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ নেতৃবৃন্দকে আহবান জানাচ্ছি। তাদের উদ্দেশ্যে আরও বলতে চাই আমার দরজা তাদের জন্য সবসময় খোলা। তারা আমার প্রতিপক্ষ নন যে কোন সময় তারা আমার সাথে আলোচনা করতে পারেন।

 

প্রিয় সাংবাদিক সমাবেশ

আমাকে কেন অবাঞ্ছিত করা হয়েছে তা প্রকাশিত সংবাদে উঠে আসেনি। তবে এ ঘটনা নতুন নয়। ২০১২ সালে শহীদ মিনারে পরিবহণ মালিক শ্রমিক সমাবেশে আমার ছবিতে জুতার মালা পরানো হয়েছিল, আমার ছবি পোড়ানো হয়েছিল। এমনকি রাজধানীর কুড়িল রেলক্রসিং-এ দাঁড়িয়ে থাকা আমার গাড়িকে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ করে আমার উপর আক্রমনের প্রয়াসও চলেছিলো। এমনকি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় খুলনা এবং ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের নেপথ্যের নায়ক উল্লেখ করে আমার ছবি পোড়ানো হয়েছিল। তখন আমি বিষয়টি জানার পরেও আমি আপনাদের বলিনি সকলের মঙ্গলের কথা ভেবে। এমনকি এসব ঘটনায় আমি বিচলিতও হইনি। নিজেকে নিয়ে চিন্তিতও নই। আমি চিন্তিত সড়ক নিয়ে, সড়কের মানুষকে নিয়ে। আমি বিশ্বাস করি সকল ভালো মন্দের নিয়ন্ত্রা মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ। তাই বাঞ্ছিত কিংবা অবাঞ্ছিত কোনকিছুই আমাকে আমার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না। আমি কাজ করছি সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে, জনগনের মাঝে সচেতনতা আনতে, সকল চালক ভাইদের শারীরিক ও মানসিকভাবে গড়ে তুলতে, সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সড়ক দুর্ঘটনারোধ করতে।

 

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা

সড়ক দুর্ঘটনা নিরসনে কাজ করতে গিয়ে আমি কাউকেই প্রতিপক্ষ মনে করি না। আমি বিশ্বাস করি এবং সবসময় বলেও থাকি সড়ক দুর্ঘটনার জন্য শুধুমাত্র চালকরাই দায়ী নয়, সড়ক দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে যে বা যারা দায়ী আমি তাদেরই কথা বলি। যেমন, পথচারীদের কারনেও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, যাত্রীর কারনেও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, গাড়ির ফিটনেসের কারনে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, রাস্তার ত্রুটির কারনে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অবহেলার কারনে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, ওভার স্পীড-ওভারলোড-ওভারটেকিং এর কারনে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। মোট কথা যার কারনে দুর্ঘটনা ঘটবে তাকেই বিচারের আওতায় আনতে হবে।

 

প্রিয় সাংবাদিক ভাই বোনেরা

আপনারা জানেন, আজ থেকে ২৫ বছর আগে কেন এবং কি প্রেক্ষাপটে আমি নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন শুরু করেছিলাম তা আপনাদের অজানা নয়। আমার স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পর আমি যখন চলচ্চিত্র জগৎ ছেড়ে দিতে চেয়েছিলাম তখন আমার কিছু শুভাকাংখীর পরামর্শে স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ার জন্য নয় বরং এদেশের জনগণকে সড়কের মড়ক থেকে রক্ষার জন্য এই আন্দোলন গড়ে তুলি। দীর্ঘ ২৫ বছরের পথ চলার শুরুতে এদেশের নামিদামি গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ অনেকেই আমার সাথে ছিলেন যাদের অনেকে এখনো আন্দোলনের সাথে আছেন, আবার অনেকেই মারা গেছেন। যারা মৃত্যুবরণ করেছেন আমরা তাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। দীর্ঘ এই পথ পরিক্রমায় এদেশের কোটি কোটি জনগণ আমাকে সমর্থন দিয়েছে, ভালবাসা দিয়েছে বিশেষ করে আপনারা মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ আমার কর্মকান্ডকে অকুন্ঠ সমর্থন দিয়ে গেছেন যার ফলাফল ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস এর স্বীকৃতি অর্জন।

সেইসাথে শহীদ রমিজ উদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজের ২ শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের রাজপথে নেমে আসা, দেশব্যাপী নিরাপদ সড়কের দাবীতে জনতার স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণ, সমাজের সর্বস্তরে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের ঢেউ আমাদের ২৫ বছরের নিরবচ্ছিন্ন শ্রমকে যৌক্তিক অবস্থানে উন্নীত করেছে বলে আমি মনে করি।

 

প্রিয় সাংবাদিক সমাবেশ

নিরাপদ সড়ক চাই ১৭ কোটি মানুষের প্রাণের দাবীতে পরিণত হয়েছে আমাদের শ্রমের বিনিময়ে। আমাদের গঠনমূলক ও কার্যকর কর্মসূচি- জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে দেশের সর্বত্র সভা, সমাবেশ ও র‍্যালী, বিদ্যমান চালকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ কর্মশালা পরিচালনা, দেশের সকল বাস টার্মিনালসমূহে চালক ও যাত্রীদের মাঝে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন, শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষিত করে তোলা, অভিভাবকদের মাঝে সড়ক নিরাপত্তার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা, তৃণমূল পর্যায় থেকে আগামী প্রজন্মকে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে দক্ষ করে গড়ে তুলতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের (পিটিআই-এর মাধ্যমে) প্রশিক্ষণ প্রদান সর্বোপরি আপনারা (সংবাদ মাধ্যম) নিরাপদ সড়কের দাবীকে গুরুত্ব প্রদান করে তুলে ধরায় আজ টেকনাফ থেকে তেতুলিয়ায় সমস্বরে আওয়াজ উঠেছে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’। আমরা দাবী করতে পারি এটি আমাদের ২৫ বছরের আন্দোলন ও সংগ্রামের অর্জন।

 

প্রিয় সাংবাদিক সমাবেশ

আমরা প্রচন্ড আশাবাদী বর্তমান সরকারের আন্তরিকতা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে। বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সড়ক দুর্ঘটনা নিরসনে যে ১৭ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন তা বাস্তবায়নে সরকারের প্রতিটি সংস্থার তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনারোধে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়ে সেধরনের কর্মসূচিতে আরও বেশি করে উদ্যোগী হয়েছে। বলা চলে সড়ক দুর্ঘটনা নিরসনে একযোগে ক্রাশ প্রোগ্রাম চলছে। কিন্ত এর মাঝেও দুঃখের সাথে বলতে হয়  পথচারী, যাত্রী ও গণপরিবহনের মালিক-চালকের মাঝে সচেতনতার অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। কেন, কি কারনে প্রতিনিয়ত ধ্বংসস্তুপ দেখার পরেও তাদের টনক নড়ছে না, আমি ভেবে পাইনা। রাজপথে প্রতিদিনের অব্যবস্থাপনার চিত্র যখন আমি সংবাদপত্রে দেখি মনটা ভারাক্রান্ত হয়ে উঠে। আমি মনে করি এ জন্য সরকারী, বেসরকারী এবং সকল সামাজিক সংগঠন বিশেষ করে রোড সেফটি বিষয়ে কাজ করছেন সে সকল  সংগঠনকে জনগনের মানসিকতা পরিবর্তনের বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালনে আরও তৎপর হয়ে উঠতে হবে।

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা-

২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর থেকে ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অর্থাৎ গত প্রায় এক বছরে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) জনসচেতনতা তৈরীতে যে সকল কার্যক্রম করেছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কার্য্যক্রম হল- ঢাকাসহ দেশব্যাপী র‍্যালী, মানববন্ধন, সেমিনার, চালক প্রশিক্ষন, শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ, দেশের বিভিন্ন জেলায় পিটিআই এর মাধ্যমে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান, যাত্রী-পথচারি সমাবেশ, জাতিসংঘ ঘোষিত রোড সেফটি সপ্তাহ পালন, গোলটেবিল বৈঠক ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় এ সংক্রান্ত অসংখ্য টকশোতে অংশগ্রহণ। এছাড়া আমরা আমাদের বিভিন্ন শাখা কমিটির যোগ্য সদস্যদের প্রশিক্ষণ প্রদান করে তাদেরকে দক্ষ প্রশিক্ষক তৈরী করা হয়েছে এবং তারা নিজ নিজ এলাকায় স্কুল- কলেজসহ চালক, যাত্রী, পথচারিদের মাঝে সচেতনতাবৃদ্ধিমূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। আমাদের কেন্দ্রীয় চৌকষ প্রশিক্ষকবৃন্দ সারা বাংলাদেশে বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি উদ্যোগে আয়োজিত সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষন প্রদান করেছেন ।

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা

সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ নিয়ে বলতে চাই তারা যে দাবী করছে তা সরকারের দেখার বিষয়। আমরা চাই সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন। এই আইন প্রণয়নে আমাদের পক্ষ থেকে ছোট বড় মিলিয়ে একাধিক সংশোধনী দেয়া হয়েছিলো। বিশেষ করে আইনটির শিরোনাম ‘সড়ক পরিবহন ও সড়ক নিরাপত্তা আইন ২০১৮’, সড়ক দুর্ঘটনায় শাস্তির মেয়াদ দশ বছর করা, অবৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং লাইসেন্সবিহীন ও ফিটনেসবিহীন গাড়ী চালিয়ে দুর্ঘটনা ঘটালে এবং তাতে কারো মৃত্যু হলে মামলা ৩০২ ধারায় হবে উল্লেখযোগ্য। এ বিষয়ে আপনাদের সামনে আমি একাধিকবার কথা বলেছি। আইনটি পাশ হওয়ার পর আমাদের পর্যবেক্ষনে দেখা গেছে আমাদের চাওয়ার প্রায় ৮০ ভাগই বর্তমান আইনে এসেছে। একথা অনসীকার্য যে আমরা ছাড়াও সড়কে আরও স্টেক হোল্ডার রয়েছে। সকলের চাওয়ার যে কোনকিছুকে বাস্তবায়নে সকল মত ও পক্ষকে আস্থার আওতায় আনতে হয়। আমি সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ প্রণয়নে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এইজন্য যে দীর্ঘ দিনের জঞ্জাল পরিস্কার করার উদ্যোগ নিয়েছেন এই সরকার। বিশেষ করে এ আইন প্রয়োগে সকল মহলের আন্তরিকতা, মনিটরিং ও মেনে চলার মধ্য দিয়ে সর্বস্তরে নিয়ম প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু এ আইন নিয়ে যদি আমাকে জড়ানো হয় তা হবে দুঃখজনক। আমি মনে করি সরকার সকল মহলের মতামত নিয়ে এ আইন প্রণয়ন করেছেন। আমি একজন স্টেক হোল্ডার মাত্র।

সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা

আমি আমার অভীষ্ট লক্ষ্য থেকে একচুলও নড়বো না। মহান সৃষ্টিকর্তার উপর ভরসা রেখে আমি আমার কাজ করে যাবো। দীর্ঘ ২৫ বছরের এ সামাজিক আন্দোলনের সফলতায় আপনারা সাংবাদিকবৃন্দ আমাদের পাশে থেকে যে সহযোগিতা,সহমর্মিতায় আবদ্ধ করেছেন তার জন্য আপনাদেরকে ধন্যবাদ জানিয়ে,সু-স্বাস্থ্য কামনা করে আজকের সাংবাদিক সম্মেলন শেষ করছি। মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদের সহায় হোন।

পথ যেন হয় শান্তির, মৃত্যুর নয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রফিকুজ্জামান- ভাইস চেয়ারম্যান, সৈয়দ এহসান-উল হক কামাল- মহাসচিব, লিটন এরশাদ- যুগ্ন মহাসচিব, বেলায়েত হোসেন নান্টু- যুগ্ন মহাসচিব, লায়ন গনি মিয়া বাবুল- যুগ্ন মহাসচিব, নাসিম রুমি- অর্থ সম্পাদক, এস এম আজাদ হোসাইন- সাংগঠনিক সম্পাদক, এ কে আজাদ – সহ সাংগঠনিক সম্পাদক, আব্দুর রহমান- সহ সাংগঠনিক সম্পাদক, মঞ্জুলী কাজী- মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, মিরাজুল মঈন জয়- আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, ব্যারিষ্টার এম আর হাসান- আইন বিষয়ক সম্পাদক, এ কে এম ওবায়দুর রহমান- প্রচার সম্পাদক, আব্দুল খালেক- দপ্তর সম্পাদক, ফিরোজ আলম মিলন- কার্যনির্বাহী সদস্য, আলাল উদ্দিন- কার্যনির্বাহী সদস্য, নজরুল ইসলাম ফয়সাল- কার্যনির্বাহী সদস্য, এ্যাডভোকেট কায়সার-আজীবন সদস্য, এ বি এম ফরিদ উদ্দিন- কেন্দ্রীয় সাধারণ সদস্য, হাবিবুর রহমান হাবিব-কেন্দ্রীয় সাধারণ সদস্য, ফিরোজ এম হাসান-কেন্দ্রীয় সাধারণ সদস্য, হুমায়ুন কবির-কেন্দ্রীয় সাধারণ সদস্য, মহসিন খান-কেন্দ্রীয় সাধারণ সদস্য, জালাল ফকির-কেন্দ্রীয় সাধারণ সদস্য, নির্মল বর্মন-কেন্দ্রীয় সাধারণ সদস্য, মোতালেব হোসেন-কেন্দ্রীয় সাধারণ সদস্য, রবিউল ইসলাম-কেন্দ্রীয় সাধারণ সদস্য, আলী আকবর-কেন্দ্রীয় সাধারণ সদস্য।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)