সংবাদ শিরোনাম

২১শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং

00:00:00 রবিবার, ৭ই কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ , হেমন্তকাল, ২রা সফর, ১৪৩৯ হিজরী
সম্পাদকীয় বাড়ছে ভেজাল খাবার বাজারজাত

বাড়ছে ভেজাল খাবার বাজারজাত

পোস্ট করেছেন: Nsc Sohag | প্রকাশিত হয়েছে: জুন ২০, ২০১৭ , ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

নিরাপদ নিউজ : ঈদ সামনে রেখে ভেজাল খাবার বাজারজাত করার পুরনো প্রক্রিয়া আবার শুরু হয়ে গেছে। বড় বড় শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়া হবে এসব ভেজাল খাদ্যপণ্য। কেবল মুনাফার লোভে কিছু অসৎ ব্যবসায়ী খাদ্যপণ্যে ভেজাল মেশাবে। শত শত মানুষের স্বাস্থ্যহানি, এমনকি মৃত্যুরও কারণ হবে। বড় বড় প্রতিষ্ঠানের জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার করে এসব ভেজাল খাবার বাজারে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

মান নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসটিআইয়ের নকল সিলও ব্যবহার হচ্ছে অনেক খাদ্যপণ্যের প্যাকেটের গায়ে। এসব দেখারও যেন কেউ নেই। কোথাও কোথাও প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট নজরদারি প্রতিষ্ঠানকে হাত করেই ভেজালের কারবার চলছে বলেও গণমাধ্যমে খবর এসেছে। প্রতিকার মেলেনি কোথাও।

বাজার থেকে ভেজাল খাদ্য কিনে অসুস্থ হচ্ছে অনেকেই। কয়েক বছর আগে ভেজাল নিয়ে একটি গবেষণার ফল গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের দেড় যুগের অব্যাহত সেই গবেষণা থেকে জানা যায়, দেশের ৫৪ শতাংশ খাদ্যপণ্যে ভেজাল রয়েছে। তথ্যটি উদ্বেগজনক হলেও সত্য যে গত কয়েক বছরে দেশে খাদ্যে ভেজাল দেওয়ার প্রবণতা একটুও কমেনি, বরং বেড়েছে।

জীবন রক্ষাকারী ওষুধ থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরনের পণ্যই ভেজাল হচ্ছে। উচ্চবিত্ত থেকে শুরু করে নিম্নবিত্ত সব পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে ভেজাল খাদ্যপণ্য। ফলমূল, শাকসবজি, মাছ-মাংসে ব্যবহার করা হচ্ছে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ক্যালসিয়াম কার্বাইড, ইথোফেন ও ফরমালিন। ফরমালিনযুক্ত গুঁড়া দুধ দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে মিষ্টি।

বিক্রি হচ্ছে শহর ও গ্রামাঞ্চলে। কৃত্রিম উপায়ে পাকানো হচ্ছে মৌসুমি ফল। তেল, ঘি, ফলের জুস ইত্যাদিতেও মেশানো হচ্ছে ক্ষতিকর রাসায়নিক ও রং। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব খাদ্য ও ফলমূল থেকে কিডনি, পাকস্থলী ও মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমনকি ক্যান্সারের ঝুঁকিও রয়েছে। দেশের পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা খাবারে ক্রোমিয়াম, আর্সেনিক, সিসা, ফরমালিন, অ্যালড্রিন, বেনজয়িক অ্যাসিড ইত্যাদি পাওয়া গেলেও ভেজাল নিরোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই।
আবার অনেক খাবার তৈরি হয় নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। যেমন ঈদ সামনে রেখে রাজশাহীর অলিগলিতে এমনকি স্টিল, প্লাস্টিক ও লোহার জিনিসপত্র তৈরির কারখানায়ও তৈরি হচ্ছে সেমাই। মৌসুমি ব্যবসার জন্য এই মহানগরীতে অন্তত ৫০টিরও বেশি অস্থায়ী সেমাই তৈরির কারখানা গড়ে উঠেছে। রাজধানী ঢাকায় তৈরি হয় বাঘাবাড়ীর ঘি কিংবা বগুড়ার দই এমন খবর গণমাধ্যমে মাঝেমধ্যে আসে। এসব ভেজালের কারবার বন্ধ করা না গেলে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে ঈদের আগে খাদ্যপণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে জরুরি ব্যবস্থা নিতে হবে।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn2Digg thisShare on Tumblr0Email this to someonePin on Pinterest0Print this page

comments

Bangla Converter | Career | About Us