ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট এপ্রিল ৬, ২০১৯

ঢাকা সোমবার, ৮ শ্রাবণ, ১৪২৬ , বর্ষাকাল, ১৯ জিলক্বদ, ১৪৪০

সম্পাদকীয় বাড়ছে শ্রমিক অসন্তোষ: মজুরি কমিশনের সুপারিশ আমলে নিন

বাড়ছে শ্রমিক অসন্তোষ: মজুরি কমিশনের সুপারিশ আমলে নিন

নিরাপদ নিউজ: মজুরি কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবিতে খুলনা-যশোর অঞ্চলের ৯টিসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের শ্রমিকদের ৭২ ঘণ্টার ধর্মঘট-অবরোধের তৃতীয় দিনে খুলনায় আন্দোলনকারীরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে। শ্রমিকদের অবরোধের কারণে বৃহস্পতিবারও যান চলাচল ও ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে খুলনা অঞ্চলে। নরসিংদীতে পাটকল শ্রমিকরা বৃহস্পতিবার রেললাইনে আগুন দিয়ে ট্রেন অবরোধ করে। এ সময় ট্রেনের অন্তত ৫০টি দরজা-জানালার কাচ ভাঙচুর করে। রাজশাহী ও ডেমরায়ও শ্রমিকরা রাস্তা অবরোধ করে। শ্রমিকদের পক্ষ থেকে মজুরি কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নসহ ৯ দফা দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, দাবি মানা না হলে আগামি দিনে আরো কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

ওদিকে গত বুধবার সাভারে ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে একটি কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের জের ধরে ৪৭টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। নারায়ণগঞ্জে দুটি কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করেছে শ্রমিকরা। বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগের ডাকে ৭২ ঘণ্টার কর্মসূচি গত তিন দিনে পালিত হয়েছে। শ্রমিকদের দাবির মধ্যে ছিল সরকার ঘোষিত জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশন ২০১৫-এর সুপারিশ বাস্তবায়ন, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি ও মৃত শ্রমিকদের বীমার বকেয়া প্রদান, বরখাস্ত করা শ্রমিকদের কাজে পুনর্বহাল, শ্রমিক-কর্মচারীদের নিয়োগ স্থায়ী করা, মৌসুমে পাট ক্রয়ে অর্থ বরাদ্দ, উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মিলগুলোকে পর্যায়ক্রমে বিএমআরই করা।

সরকারের পক্ষ থেকে এসব দাবি পূরণের আশ্বাসও ছিল। এ ছাড়া জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশন তো রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পের শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি আট হাজার ৩০০ ও সর্বোচ্চ ১১ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করে নতুন মজুরিকাঠামো সুপারিশ করেছিল, তা মন্ত্রিসভায় অনুমোদিতও হয়েছিল। সরকারি কর্মচারীদের ২০১৫ সালের বেতন স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই মজুরি স্কেল করা হয়। আলাদা শিফট ডিউটি ভাতা, রাতের ডিউটির জন্য নাইট শিফট ডিউটি ভাতা ও নববর্ষ ভাতাসহ আরো অনেক সুযোগ-সুবিধার উল্লেখ ছিল জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশনের সুপারিশে।

এসব দাবি আদায়ের জন্য এখন শ্রমিকদের পথে নামতে হবে কেন? বিশেষ করে পাট নিয়ে যখন বাংলাদেশ নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে, তখন কেন পাটকল শ্রমিকদের বেতন-ভাতার দাবিতে ধর্মঘটে যেতে হয়? দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো লাভজনক নয়, এমন কথা সব সময় বলা হয়ে থাকে। অন্যান্য দেশে, এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশেও যদি পাটকল লাভজনক হতে পারে, তাহলে বাংলাদেশে হবে না কেন?

পাটকলের আধুনিকায়ন নিয়ে কি বাংলাদেশে কোনো চেষ্টা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংগতি রেখে কিভাবে পাটপণ্য উৎপাদন করা যায়, তা নিয়ে কি কোনো জরিপ আছে? এসব বিষয় নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। তার আগে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি পূরণ, সরকার ঘোষিত জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশন ২০১৫-এর সুপারিশ বাস্তবায়নে ব্যবস্থা নিন।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)