ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট এপ্রিল ৭, ২০১৯

ঢাকা রবিবার, ২৯ আশ্বিন, ১৪২৬ , শরৎকাল, ১৪ সফর, ১৪৪১

ব্যবসা-বাণিজ্য, লিড নিউজ বিজিএমইএ নির্বাচনে রুবানা হকের নেতৃত্বাধীন প্যানেলের জয়: ইলিয়াস কাঞ্চনের অভিনন্দন

বিজিএমইএ নির্বাচনে রুবানা হকের নেতৃত্বাধীন প্যানেলের জয়: ইলিয়াস কাঞ্চনের অভিনন্দন

নিরাপদ নিউজ:  তৈরি পোশাক শিল্পমালিক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের স্ত্রী রুবানা হকের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত ফোরাম প্যানেল। এই প্যানেলের ২৬ জন প্রার্থীর সবাই বিজয়ী হয়েছেন। নির্বাচিতরা আগামী দুই বছরের জন্য বিজিএমইএ’র নেতৃত্ব দেবেন।

শনিবার রাত ৯টার পর ভোট গণনা শেষে বিজিএমইএ’র নির্বাচনী বোর্ডের দায়িত্বে থাকা মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবির ফলাফল ঘোষণা করেন। নির্বাচনের ফল অংশ নেওয়া সব প্যানেলই মেনে নিয়েছে। বিজয়ীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করারও ঘোষণা দিয়েছেন।

বিজিএমইএ’র পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ায় প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের স্ত্রী রুবানা হকের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত ফোরাম প্যানেলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান নিরাপদ সড়ক চাই এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। অভিনন্দন বার্তায় ইলিয়াস কাঞ্চন প্রয়াত মেয়র আনিসুল হককে শ্রদ্ধাভরে স্বরণ করে বলেন, মেয়র আনিসুল হক ভীষন কাজ পাগল ছিলেন। তিনি তার কাজের জন্য জনপ্রতিনিধিদের কাছে অনুকরণীয় হয়ে থাকবেন। ব্যবসায়ীদের আস্থা ও বিশ্বাসের নাম ছিলেন আনিসুল হক। বিজিএমইএ, এফবিসিসিআই ও সর্বশেষ সফল নগরপিতা হিসেবে সবার মন জয় করে নিয়েছেন তিনি। আনিসুল হক মাত্র দুই বছরে ঢাকা মহানগরীর জন্য যা করেছেন, তা অবিস্মরণীয়। মেয়র হিসেবে তিনি ছিলেন দিকপাল। এরকম সফল মানুষ এ যুগে বিরল। তিনি সর্বগুণে গুণান্বিত উদ্যোগী, বিচক্ষণ ও কর্মদক্ষ মানুষ ছিলেন। তিনি মাত্র দুই বছর সাত মাসে কর্মের মাধ্যমে প্রমাণ করে গেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যোগ্য ব্যক্তিকেই ঢাকার মেয়র পদে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, আনিসুল হক দায়িত্বে থেকে অত্যন্ত সাবলীলভাবে সাহসিকতার সঙ্গে অসম্ভব কাজকে সম্ভব করে গেছেন। আমি আশা করি বিজিএমইএ’র পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশভাবে জয়ী হওয়া প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের স্ত্রী রুবানা হকও তার স্বামীর মতোই দায়িত্বশীলতা এবং সুন্দর কর্মদক্ষতার সাথে সুন্দর সুন্দর কাজ করে যাবেন।  ভালো কাজের মাধ্যমে তিনিও সবার মাঝে স্বরনীয় হয়ে থাকবেন এবং ভালো কাজের মাধ্যমে রুবানা হক ব্যবসায়ীদের আস্থা ও বিশ্বাসের স্থান অর্জন করতে সক্ষম হবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন।

শনিবার সকাল ৮ টায় শুরু হয়ে বিকাল ৪টায় উৎসবমুখর পরিবেশে সদস্যদের ভোট প্রদানের মাধ্যমে বিজিএমইএর পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষ হয়। স্বাধীনতা পরিষদের প্যানেল লিডার জাহাঙ্গীর আলমের পোলিং এজেন্ট থাকতে না দেয়া ছাড়া কোন অভিযোগ ছিলো না। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী সম্মিলিত-ফোরামের টীম লিডার রুবানা হকের নির্বাচন নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই। প্রায় ৮০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড।

প্রায় ৫ বছর পর তৈরি পোশাক শিল্পমালিক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর নির্বাচন। সংগঠনটির ৩৫ পরিচালক পদে ঢাকায় ২৬ জন আর চট্টগ্রামে ৯ জন। চট্টগ্রামে সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ঢাকায় পরিচালক পদে নির্বাচনে সদস্যরা ভোট দিয়েছেন।

সাবেক ও বর্তমান সভাপতিসহ সদস্যদেরও ভোট দিতে আসার হার ছিলো চোখে পড়ার মতো। নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী সম্মিলিত-ফোরাম আর স্বাধীনতা পরিষদ। তাদের কারণেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এটাই বড় বিজয় বলেছেন স্বাধীনতা পরিষদের দলনেতা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম।

জয়ের ব্যাপারেও শতভাগ আশাবাদী ছিলেন সম্মিলিত-ফোরামের প্যানেল লিডার রুবানা হক। নির্বাচনে কোন অনিয়ম হয় নাই নিশ্চিত করেছেন নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের সদস্যরা। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর সম্মিলিত ফোরামপ্রধান রুবানা হক বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, অনেক দিন পর অনেক ভোটারকে আমরা একসঙ্গে দেখলাম। অনেকে অসুস্থ ছিলেন, মুরব্বি ছিলেন, তারাও এসেছেন। আমি প্রত্যেক ভোটারকে অভিনন্দন জানাই। আমার ও আমাদের সবার জন্য সবচেয়ে আনন্দের যে এবার সম্মিলিত, ফোরাম, স্বাধীনতা পরিষদ একসঙ্গে ভোট করেছি। একটিই কারণ সেটি হলো আমরা সবাই এখানে শিল্পের খাতিরে একজোট হয়েছি। এ নির্বাচনে ভোটারের জয় হয়েছে। প্রত্যেকের স্বার্থ রক্ষা করে আমরা যেন সংগঠন পরিচালনা করতে পারি, সেজন্য আপনারা আমাদের পাশে থাকবেন, বিশেষ করে গণমাধ্যমের বন্ধুরা।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম মিলে মোট ভোটার ১৯শ’ ৫৫ জন। আগামী ১১ এপ্রিল নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ হবে। এরপর ১৮ এপ্রিল অফিস বেয়ারার নির্বাচন এবং ২১ এপ্রিল দায়িত্ব নেবে নতুন কমিটি।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)