আপডেট ৩৪ মিনিট ৩৩ সেকেন্ড

ঢাকা শনিবার, ১০ ভাদ্র, ১৪২৬ , শরৎকাল, ২৩ জিলহজ্জ, ১৪৪০

অর্থনীতি, মতামত, লিড নিউজ ‘বিদেশী কর্মী নিয়োগ,যখন মুখ্য বিষয়’

‘বিদেশী কর্মী নিয়োগ,যখন মুখ্য বিষয়’

তানিয়া জাহিদ,নিরাপদ নিউজ: বর্তমানে বাংলাদেশে, এনবিআরের হিসাব মতে প্রায় ১৩০০০ বিদেশী কর্মী ট্যাক্স রিটার্ণ সাবমিট করছে । যদিও বিদেশে যে পরিমান রেমিট্যান্স যাচ্ছে তার সাথে এই হিসাবের রয়েছে বিশাল গরমিল। আর বৈধ অবৈধ মিলে ৫ লক্ষ বিদেশিরা কর্মরত আছে বলে ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের লোকজন দাবি করছে। -সূত্র দৈনিক পত্রিকা

টেক্সটাইল,আ্যপারেল,উচ্চ প্রযুক্তির উৎপাদন শিল্প সহ বিভিন্ন সেক্টর এর টপ পজিশন গুলোতে বিদেশী কর্মী নিয়োগ দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ শোনা যায়। মার্কেটিং, মার্চেন্ডাইজিং, প্রোডাকশন , ডিজাইনিং, কোয়ালিটি কন্ট্রোল, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং, প্ল্যানিং এই সব বিভাগে দক্ষ কর্মীর স্বল্পতা নিরসনে সাধারণত মালিকরা বিদেশী কর্মী নিয়োগে আকৃষ্ট হয়। বিদেশি কর্মী প্রধানত ভারত ও শ্রীলঙ্কা থেকে আসে, এছাড়া পাকিস্তান, চীন, কোরিয়া, তাইওয়ান এবং ফিলিপিন্স থেকেও প্রচুর বিদেশী কর্মী এদেশে আসেন । শুরুর দিকে দ্রুত শিল্পায়নের সময় প্রতি বছর হাতে গোনা অল্প সংখ্যক গ্রাজুয়েট বের হতো আমাদের টেক্সটাইল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে । আমাদের সেই সময়টাতে টেকনিক্যাল এক্সপার্ট এর অভাব ছিল ।

হাই স্যালারি দিয়ে দক্ষ বিশেষজ্ঞ আনা হতো বিদেশ থেকে । অন্যান্য ইন্ডাস্ট্রির ক্ষেত্রেও একই জিনিস পরিলক্ষিত হয়। এক জন বিদেশী কর্মী যখন আমরা নিয়োগ দেই তখন তাদের বেতন স্কেল গড়ে ৫০০০ $ নির্ধারণ করা হয়। এর বাইরে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা সহ ট্রান্সপোর্ট সুবিধা সহ অনেক ধরণের সুযোগ সুবিধা দেয়া হয়। যেহেতু সব ধরণের সুবিধা আমরা দিয়ে থাকি , তাই একজন বিদেশী কর্মীর অর্থ এই দেশে খরচ করার খুব একটা প্রয়োজন পড়ে না। এতে আমরা অর্থনৈতীক ভাবে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি অন্যদিকে বাংলাদেশী কর্মীরা ডিমোটিভেট হচ্ছে কেননা টপ পজিশন গুলোতে তারা যেতে পারছে খুব কম সংখ্যক। এই সমস্যা থেকে উত্তরণ পাওয়ার জন্য সরকারকে ,সংশ্লিষ্ট দের এগিয়ে আসতে হবে ,তেমনি আমাদের নিজেদের ও যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। এইখানে কয়েকটি বিষয় তুলে ধরা হলো যা কিনা আমাদের সহায়তা করতে পারে বর্তমানের এই সমস্যা সমাধানে।
• প্রথম যে জিনিষটা করতে হবে তা হলো সরকারি ভাবে ( বিজি এম ই এ, বিকে এম ই এ , বি টি এম সি থেকেও করা যেতে পারে) আমাদের কত সংখ্যক এক্সপার্ট লাগবে কিংবা আদৌ লাগবে কিনা তার যথাযথ পর্যবেক্ষণ এর মাধ্যমে যাচাই বাছাই করে সিদ্ধান্তে এসে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে।

আমাদের নিজেদের এই ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাদের সহায়তায় কাজ শুরু করতে হবে।

• বিদেশী কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের মেয়াদের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া। কেননা যদি কোনো বিষয়ে এক্সপার্ট প্রয়োজন পরে সেক্ষেত্ৰে তার জন্যে বছরের পর বছর প্রয়োজন নেই নিয়োগের। নির্দিষ্ট সময়সীমার জন্যে নিয়োগ দিয়ে আমাদের নিজেদের জনশক্তি কে দক্ষ করে তুলতে হবে।

•পাবলিক আর প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন নতুন সাবজেক্ট আনা প্রয়োজন। যেমন মার্চেন্ডাইসিং, প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং সহ অন্যান্য কাজ সংক্রান্ত বিষয়। সাথে প্রাকটিক্যাল কোর্স চালু করতে হবে।ইদানিং অনেক প্রফেশনাল কোর্স চালু হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে। আমাদের ইন্ডাস্ট্রির জন্য প্রয়োজনীয় কোর্স গুলো দ্রুত চালু করতে হবে ।এইক্ষেত্রে শিক্ষক আর ইন্ডাস্ট্রির কোঅর্ডিনেশন গড়ে তোলার দায়িত্ব আমারদেরকেই নিতে হবে।

• বিদেশী কর্মীদের ইনকাম ট্যাক্স বৃদ্ধি করা যেতে পারে আর অবৈধ ভাবে যেন কাজ করার সুযোগ না পায় , বা কর ফাঁকি না দিতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

• পর্যাপ্ত উন্নত ট্রেনিং এর মাধ্যমে নিজেদের সময়োপযোগী করে তুলতে হবে। আমাদের স্বভাব গত বৈশিষ্ট , অন্য পক্ষকে দোষারোপ করা। নিজের উদ্যোগে নিজের দক্ষতা বাড়াতে হবে। মালিক পক্ষ যখন দেখবে বিদেশী কর্মীদের চাইতে নিজের লোক দিয়ে কাজ করে লাভ পাওয়া যাচ্ছে , তখন মালিকপক্ষ আর উৎসাহী হবে না বেশি বেতনে বিদেশী কর্মী নিয়োগে।

• আমাদের আরেকটা দুর্বল দিক হচ্ছে আমরা ইন্টারন্যাশনাল ল্যাঙ্গুয়েজে(ইংরেজি ভাষাতে) অত্যন্ত দুর্বল। এইটাতে নিজেদের দক্ষ করে তুলতে হবে। সাথে সাথে বিহেভিয়ার, সিচুয়েশনাল আর কমিউনিকেশনে আরও চৌকষ হতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ শোনা যায়, ক্রেতা পক্ষের সাথে কমিউনিকেশন এর সমস্যা অনেকটাই কমে যায় বিদেশী কর্মীর জন্য।

• সর্বোপরি আমাদের মধ্যে এই ধরণের মনোভাব আনতে হবে , আমরা যেন গর্ব করে বলতে পারি ” আমার ইন্ডাসট্রি আমার দেশের লোক দ্বারা সম্পূর্ণ ভাবে চালিত “।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)