ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট April ২, ২০১৬

ঢাকা শুক্রবার, ৩০ কার্তিক, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১৭ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১

শেয়ার বাজার বিনিয়োগকারীদের আস্থার অভাব আর তারল্য সঙ্কটের কবলে দেশের পুঁজিবাজার

বিনিয়োগকারীদের আস্থার অভাব আর তারল্য সঙ্কটের কবলে দেশের পুঁজিবাজার

বিনিয়োগকারীদের আস্থার অভাব আর তারল্য সঙ্কটের কবলে দেশের পুঁজিবাজার

বিনিয়োগকারীদের আস্থার অভাব আর তারল্য সঙ্কটের কবলে দেশের পুঁজিবাজার

ঢাকা, ০২ এপ্রিল ২০১৬, নিরাপদনিউজ: বিনিয়োগকারীদের আস্থার অভাব আর তারল্য সঙ্কটে দেশের পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিন ধরে চলছে দরপতন। এর ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহেও পতন অব্যাহত ছিল। এ সময়ে কমেছে সব ধরনের মূল্যসূচক, টার্নওভার, পিই রেশিও ও বাজার মূলধন। একই সঙ্গে দর হারিয়েছে লেনদেন হওয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট।
বিশ্লেষকদের মতে, বোনাস শেয়ার ও প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে শেয়ারবাজার থেকে শত শত কোটি টাকা কৌশলে বেরিয়ে যাচ্ছে। সীমাবদ্ধতার কারণে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও চাহিদা অনুসারে বিনিয়োগ করতে পারছেন না। আস্থাহীনতা আর লোকসানের ভয়ে সেকেন্ডারি মার্কেটে আসছেন না নতুন বিনিয়োগকারী। ফলে বাজারে দেখা দিয়েছে অর্থ সঙ্কট। আর সে কারণেই বাজার উন্নয়নে সরকারের নেয়া নানা উদ্যোগ, পদক্ষেপ সত্ত্বেও ধারাবাহিকভাবে কমছে লেনদেন প্রবাহ। অর্থ সঙ্কটে ৩০০ কোটির ঘরেই ঘুরছে লেনদেন।
এ বিষয়ে শেয়ারবাজার বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, বোনাস শেয়ার ও প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে কৌশলে শেয়ারবাজারের শত শত কোটি টাকা তুলে নেয়া হচ্ছে। সাবসিডিয়ারি মার্চেন্ট ব্যাংকে একক গ্রাহক ঋণ সমন্বয়সহ নানা সীমাবদ্ধতার কারণে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও চাহিদা অনুসারে বিনিয়োগ করতে পারছেন না। ফলে নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও শেয়ারবাজারে দরপতন থামছে না। তিনি বলেন, বর্তমান বাজারে একদিকে চলছে অর্থ সঙ্কট, অন্যদিকে রয়েছে মানসম্পন্ন শেয়ারের অভাব। ফলে দীর্ঘ মেয়াদি বিনিয়োগ আসছে না, থমকে আছে বাজারের লেনদেন।
আবু আহমেদ বলেন, বাজারের এ দুরাবস্থা থেকে উত্তোরণে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে এগিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে মানসম্পন্ন শেয়ার বাজারে আনতে দেশে যে মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানি, যেমন: ইউনিলিভার, নেসলে, বাংলালিংকসহ অন্যান্য কোম্পানিকে দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করতে হবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার পাশাপাশি সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গেল সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে লেনদেন শুরুতে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বাজার মূলধন ছিল ৩ লাখ ৪ হাজার ১৭২ কোটি ২৬ লাখ ৮১ হাজার ৪৮৬ টাকা এবং শেষ কার্যদিবসে লেনদেন শেষে বাজার মূলধন ছিল ৩ লাখ ৩ হাজার ৬৪১ কোটি ৫৬ লাখ ৩১ হাজার ৯২১ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন হারিয়েছে ৫৩০ কোটি ৭০ লাখ টাকা বা দশমিক ১৭ শতাংশ।
গত সপ্তাহে পাঁচ দিনে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৬৭৭ কোটি ৪৪ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮৮ টাকার শেয়ার; যা এর আগের সপ্তাহের চেয়ে ১৬১ কোটি ২৯ লাখ টাকা বা ৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ কম। আগের সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৮৩৮ কোটি ৭৪ লাখ ১৯ হাজার ৮০০ টাকার শেয়ার।
একই সঙ্গে গত সপ্তাহে ডিএসইতে কমেছে টার্নওভারের পরিমাণ। গড়ে প্রতিদিন টার্নওভার দাঁড়িয়েছে ৩৩৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা; যা তার আগের সপ্তাহে ছিল ৩৬৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে টার্নওভার কমেছে ৩২ কোটি ২৫ লাখ টাকা বা ৮ দশমিক ৭৭ শাতংশ কম।
সপ্তাহ শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ১২ দশমিক ৯৬ পয়েন্ট বা দশমিক ৩০ শতাংশ, ডিএস ৩০ সূচক কমেছে ৬ দশমিক ৫০ পয়েন্ট বা দশমিক ৩৯ শতাংশ। আর শরীয়াহ সূচক বা ডিএসইএস কমেছে ৭ দশমিক ৫৭ পয়েন্ট বা দশমিক ৭১ শতাংশ।
গেল সপ্তাহে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত মোট ৩৩১টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৩০টির, কমেছে ১৬৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩০টির আর লেনদেন হয়নি ৫টি কোম্পানির শেয়ার।
সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারের সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) ১ দশমিক ৬৩ শতাংশ কমে ১৪ দশমিক ২৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
বিগত সপ্তাহে দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সিএএসপিআই সূচক কমেছে দশমিক ৪৯ শতাংশ। সিএসই ৩০ সূচক কমেছে দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং সার্বিক সূচক সিএসসিএক্স কমেছে দশমিক ৫০ শতাংশ, সিএসই ৫০ সূচক কমেছে দশমিক ৬৫ শতাংশ এবং শরীয়াহ সিএসআই সূচক কমেছে ১ দশমিক ১৬ শতাংশ।
সপ্তাহে সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২৭৬টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১০২টির, কমেছে ১৫৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২০টির। লেনদেন হয়েছে ১১৫ কোটি ৫৪ লাখ ৭৮ হাজার ৫৮৮ টাকার শেয়ার।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)