আপডেট ৪ মিনিট ৬ সেকেন্ড

ঢাকা শনিবার, ২২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ৯ রবিউস-সানি, ১৪৪১

সম্পাদকীয় বিনিয়োগে কাক্সিক্ষত ফল মিলছে না

বিনিয়োগে কাক্সিক্ষত ফল মিলছে না

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

খানা হিসাবে ইন্টারনেট ব্যবহারের দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের পেছনে রয়েছে একমাত্র আফগানিস্তান। দেশটির সঙ্গে এখানকার পরিস্থিতি মোটেই তুল্য নয়। বরং অনেকে আফগানিস্তান ব্যর্থ রাষ্ট্রের কোন পর্যায়ে পড়ে, সেটি নিয়ে চিন্তিত; সেখানে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা এখন বেশ উচ্চারিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। বর্তমান সরকারও দেশের ডিজিটাল রূপায়ণে আন্তরিক ছিল। তার ধারাবাহিকতায় এক্ষেত্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় অব্যাহত বিনিয়োগ দেখেছি আমরা এবং অর্থমূল্যে তার পরিমাণ মোটেই সামান্য নয়। অথচ সে তুলনায় কাক্সিক্ষত ফল লাভ হয়েছে কমই। বিশেষত ব্যক্তিপর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের ঘনত্ব গত বছরের তুলনায় দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছেÑ এটি উজ্জ্বলতর কোনো ভবিষ্যৎ আমাদের সামনে দাঁড় করায় না। আবার এখানকার ফ্রিল্যান্সিং কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাড়ছে, এটিও বিরাট আশার কথা নয়। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের একটা সংজ্ঞা নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এ হিসাবে স্থানীয় জনসংখ্যার এক হাজারের মধ্যে নাকি মাত্র চারজন ব্যবহার করেন ফিক্সড ব্রডব্যান্ড। শতকরা আটজন ব্যবহারকারী সেলফোন ইন্টারনেটের সেবা নিয়ে থাকেন। এর ডাটাসেবার সক্রিয় গ্রাহকচিত্রও দক্ষিণ এশিয়ায় তুলনামূলকভাবে আশাপ্রদ নয়। এমন পরিস্থিতিতে সমস্যা চিহ্নিতপূর্বক তার সমাধানে নজর দিতে হবে সরকারকেই।
এক্ষেত্রে কিছু জটিলতা রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সেলফোন অপারেটরসহ কিছু ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী মনেই করে, দ্রুতগতির ইন্টারনেট বিষয়ে মানুষের সচেতনতা ও কিছু ক্ষেত্রে আগ্রহের অভাবই থ্রিজির মতো ব্রডব্যান্ডের আশানুরূপ প্রবৃদ্ধি থামিয়ে রেখেছে। এমন অভিযোগের সত্যতা নিয়ে সংশয় রয়েছে অনেক বিশেষজ্ঞের মনে। বরং এক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর কাছে উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা এখনো সেভাবে সুলভ নয় বলে তাদের অভিমত। কার্যত সূচনার পর থেকে এখন পর্যন্ত সরকারি প্রচেষ্টায় ব্রডব্যান্ডের দাম যতটা কমানো হয়েছে, গ্রাহক পর্যায়ে তার প্রতিফলন আদৌ কত, সে খবর ব্যবহারকারী মাত্রই রাখেন। ইন্টারনেট সেবা দিয়ে থাকেন এমন কিছু ব্যবসায়ীর ধারণা হলো, বিভিন্ন ধরনের রাজস্ব তুলে নেয়া হলে (এমনকি ভর্তুকি দিয়ে) খাতটি অনুপ্রেরণা পাবে এবং পরিণামে উপকৃত হবেন গ্রাহক। একশ্রেণীর সেলফোন অপারেটরের মধ্যেও দেখা যায় ওই প্রবণতা। খাতসংশ্লিষ্ট কেউ কেউ আবার মনে করেন, ভ্রান্ত নীতির কারণে কাক্সিক্ষত গতিতে এগোতে পারছে না বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাত। এর কারণে বাড়ছে না ইন্টারনেটের ব্যবহার। তাদের অনেকের সন্দেহের তীর খোদ বিটিআরসির দিকেইÑ সংস্থাটি সরকারি নীতিনির্ধারণে ভুল পথে নেই তো? অন্যদিকে এমন সাফাই গাইতেও শোনা যায় যে, বাংলাদেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব অত্যধিক হওয়ায় ইন্টারনেট ব্যবহারের উন্নয়নমূলক চিত্র খানিকটা ম্লান দেখায়। এ যুক্তি খোঁড়া বলেই মনে হয়েছে কারো কারো কাছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে আগামী দিনের এই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বিকাশ। আসলে এক্ষেত্রে সমন্বয় ভিন্ন পথ নেই; যেখানে আমাদের ঘাটতি ব্যাপক। এখানে বিটিআরসি সঠিক সিদ্ধান্ত দিয়ে সবাইকে উপকৃত করবেÑ এমনটাই প্রত্যাশিত।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)