ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট মে ২০, ২০১৭

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৩ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ , গ্রীষ্মকাল, ১০ই শাবান, ১৪৩৯ হিজরী

সম্পাদকীয় বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধে পদক্ষেপ নিন

বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধে পদক্ষেপ নিন

সম্পাদকীয়

নিরাপদ নিউজ :  বিশ্বদরবারে বাংলাদেশকে পর্যটনের একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে পরিচিত করে তুলতে এবং দেশের পর্যটনশিল্পকে আরো গতিশীল করার লক্ষ্যে ২০১৬ সালকে পর্যটনবর্ষ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ওই বছরটি পর্যটনবর্ষ হিসেবে ঘোষিত হলেও ২০১৮ সাল পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলার কথা। এই তিন বছরে মোট ১০ লাখ বিদেশি পর্যটক বাংলাদেশে নিয়ে আসা, পর্যটন খাত থেকে ৩০০ মিলিয়ন ডলার আয় এবং পর্যটন খাতে তিন লাখ কর্মসংস্থান তৈরি করার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছিল।

তিন বছরের প্রায় অর্ধেক সময় অতিক্রান্ত। পর্যটন খাত এই সময়ে কতদূর এগোতে পেরেছে? কাক্সিক্ষত পর্যটকদের কত ভাগ আমরা আকৃষ্ট করতে পেরেছি? তার চেয়েও বড় প্রশ্ন পর্যটকদের বাংলাদেশে পা রাখার সময়টা কি আমরা স্বস্তিদায়ক করতে পেরেছি? শুধু পর্যটক নয়, বিমানবন্দর দিয়ে যারাই বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখছে, তাদের কী ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।
বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানির ঘটনা নতুন কিছু নয়। এ নিয়ে গণমাধ্যমে কম প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। কিন্তু কোনো প্রতিকার মেলেনি। হয়রানি স্বীকার করে নিয়েই যেন বাংলাদেশে বিমানবন্দর ব্যবহার করতে হয়। নিরাপত্তা, যাত্রীসেবা, কার্গো হ্যান্ডলিংÑসব কিছুতেই পিছিয়ে আছে দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলো।

ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দর ও কক্সবাজার বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানির একই ছবি ফুটে ওঠে। ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পাস চলে যায় চোরাচালানিদের কাছে, লাগেজ চোরের ভূমিকায় লোডাররা, রানওয়ের বাতিও ঠিকমতো জ¦লে না। চট্টগ্রামে চোরাচালানিচক্রের সঙ্গে বিমান, কাস্টমস ও শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশ রয়েছে বলে জানা যায়। কক্সবাজারে বকশিশ না দিলে ঘিরে রাখেন নিরাপত্তাকর্মীরা। এসব চিত্র যে দেশের বিমানবন্দরের, সে দেশে পর্যটক একবার এলে আর কি আসতে উৎসাহী হবে?
ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। লোডাররা মালামাল নামানোর সময় পাচারের ঘটনা ঘটছে। লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড শাখাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে অপরাধীচক্র। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে অব্যবস্থাপনা চরমে। দুর্নীতি, লুটপাট ও অদক্ষতার কারণে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কাক্সিক্ষত গ্রেডে উন্নীত হতে পারছে না।

অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ার কার্গো সিকিউরিটি-৩ ও রেগুলেশন এজেন্ট-৩ সনদ। এ দুটি সনদ পেতে ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের বেঁধে দেওয়া তিন শর্ত পূরণ হয়নি। শাহজালাল বিমানবন্দরে একাধিক স্ক্যানিং মেশিন থাকলেও সেগুলো ঠিকমতো কাজ করে না।
একটি দেশের প্রবেশদ্বার সে দেশের বিমানবন্দর। বিদেশিরা বিমানবন্দর দেখেই শুধু নয়, এখানে কর্মরতদের সেবার মান দেখে অনুপ্রাণিত হবে। কিন্তু বাংলাদেশের তিনটি প্রধান বিমানবন্দরের যে চিত্র সংবাদ মাধ্যেমে প্রকাশিত হয়েছে, তাতে হতাশ না হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমরা আশা করব, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব করবে না।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)