আপডেট ২৬ মিনিট ৩৫ সেকেন্ড

ঢাকা মঙ্গলবার, ৪ পৌষ, ১৪২৫ , শীতকাল, ১০ রবিউস-সানি, ১৪৪০

সম্পাদকীয় বিমানবন্দর সড়কে অচলাবস্থা

বিমানবন্দর সড়কে অচলাবস্থা

নিরাপদনিউজ :মতভেদজনিত কারণে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজক সংগঠন তাবলিগ জামাতে দ্বিধাবিভক্তি প্রকাশ্য হয়েছে কিছুদিন আগে। এটা নেতৃত্ব ও অনুষ্ঠান আয়োজনবিষয়ক দ্বন্দ্ব। এ নিয়ে সংগঠনটির মূল ক্যাম্প ঢাকার কাকরাইল মসজিদে বিব্রতকর ঘটনাও ঘটেছে। এবার পাঁচ দিনের জোড় ইজতেমা ও বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনের সময়সূচিকে কেন্দ্র করে বিরোধ চরমে পৌঁছায়।  শনিবার সকালে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ও ধাওয়াধাওয়ির ঘটনা ঘটে। ইজতেমা ময়দান রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। তাবলিগ জামাতের দিল্লি মারকাজ ও দেওবন্দ মাদরাসার অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় বিমানবন্দর সড়কের টঙ্গীমুখী অংশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তীব্র যানজট দেখা দেয়। একপর্যায়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ইজতেমা ময়দান ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যাত্রী ও পথচারীরা ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়ে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ে দূরপাল্লার যাত্রীরা। সংঘর্ষে এক ব্যক্তি নিহত ও দুই শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে।
দেওবন্দপন্থীদের আবেদনে শুক্রবার নির্বাচন কমিশন ৩০ ডিসেম্বর ভোটের আগে টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে সব ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করে নির্দেশনা জারি করে। দিল্লি মারকাজের মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্ধলভির অনুসারীরা এর আগে পাঁচ দিনের জোড় ইজতেমার ঘোষণা দিয়েছিল। এই পরিপ্রেক্ষিতে দেওবন্দপন্থী মাওলানা জুবায়েরের অনুসারীরা দিন কয়েক আগে ইতজেমা মাঠ দখল করে পাহারা বসায়। ফলে দিল্লি মারকাজের অনুসারীরা তাদের ঘোষণা অনুযায়ী শুক্রবার ময়দানে ঢুকতে না পেরে আশপাশের মসজিদে অবস্থান নেয়। গতকাল শনিবার ভোর থেকে এ পন্থার শত শত অনুসারী ঢাকার দিক থেকে টঙ্গীর পথে রওনা হলে পরিস্থিতি বিস্ফোরণোন্মুখ হয়ে ওঠে। পরে বিমানবন্দর গোলচত্বর, উত্তরা এবং টঙ্গীর বিভিন্ন স্থানে ধাওয়াধাওয়ি শুরু হয়। এজন্য দুই পক্ষই পরস্পরকে দায়ী করেছে। পরস্পরের বিরুদ্ধে লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ তোলা হয়েছে। এক পক্ষ অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে তাদের ব্যবহৃত যানবাহনে আগুন দেওয়ার অভিযোগও তুলে।
মতভেদ থাকতেই পারে কিন্তু তাবলিগ জামাতের মতভেদ ও নেতৃত্বের কোন্দল যে পর্যায়ে পৌঁছেছে তা শঙ্কাজনক। আশা করি, সরকার জনস্বার্থে দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনা করে ইজতেমা আয়োজন-সংক্রান্ত বিরোধের অবসান ঘটাবে। ধর্মীয় নেতাদেরও সংযত আচরণ করতে হবে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)