ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৩১ মিনিট ৯ সেকেন্ড

ঢাকা সোমবার, ২৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ১১ রবিউস-সানি, ১৪৪১

সম্পাদকীয় বিমান ছিনতাইচেষ্টা: বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে ভাবুন

বিমান ছিনতাইচেষ্টা: বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে ভাবুন

নিরাপদ নিউজ: ঢাকা থেকে দুবাইগামী বাংলাদেশ বিমানের বিজি-১৪৭ ফ্লাইটটি আকাশে ওড়ার ১৭ মিনিট পর ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা হয়। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড়াল দেওয়ার সময় উড়োজাহাজে যাত্রী ছিল ১৪৩ জন। এর মধ্যে ৫৩ জনের চট্টগ্রামে নামার কথা। চট্টগ্রাম থেকে আরো ৭২ যাত্রী নিয়ে উড়োজাহাজটির দুবাই যাওয়ার কথা ছিল।

উড়োজাহাজে পাঁচজন কেবিন ক্রু ও দুজন পাইলট ছিলেন। সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, ময়ূরপঙ্খী নামের উড়োজাহাজটি ১৫ হাজার ফুট ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল। সেই সময় যাত্রীদের ভেতর থেকে একজন উঠে ককপিটের দিকে আসে এবং বিমান ছিনতাইয়ের কথা বলে। বিমানটি নিরাপদে শাহ আমানত বিমানবন্দরে অবতরণের পর যাত্রীদেরও নিরাপদে নামিয়ে আনা হয়। পরে কমান্ডো অভিযানে কয়েক মিনিটে জিম্মি ঘটনার অবসান ঘটে। অভিযানে ছিনতাইয়ের চেষ্টাকারী যুবক নিহত হয়।

র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিমান ছিনতাই করতে গিয়ে যে যুবক কমান্ডো অভিযানে নিহত হয়েছে, তার আঙুলের ছাপ ক্রিমিনাল ডাটা বেইসে থাকা এক অপরাধীর সঙ্গে মিলে গেছে। র‌্যাবের ডাটা বেইসের তথ্য অনুযায়ী ওই যুবকের নাম মো. পলাশ আহমেদ। বিমানের যাত্রীদের তালিকায় এই নামের একজনকে পাওয়া গেছে। কী ধরনের অপরাধের জন্য পলাশ আহমেদের নাম র‌্যাবের ক্রিমিনাল ডাটা বেইসে ছিল তার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরিচয় পাওয়ার পর রবিবারের ঘটনাটি ঢাকার হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থাকে নতুন করে প্রশ্নের সম্মুখীন করেছে। বিমানবন্দরের মতো একটি জোনে, যেখানে কোনো ধাতব পদার্থ নিয়ে ঢোকা যায় না, স্ক্যানিং মেশিনে তা ধরা পড়ে, সেখানে কী করে একজন যুবকের পক্ষে অস্ত্র নিয়ে ঢুকে যাওয়া সম্ভব? সোমবার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান পরিবহন প্রতিমন্ত্রীও বলেছেন, বিমানবন্দরে যে তল্লাশি ব্যবস্থা, তাতে অস্ত্র নিয়ে উড়োজাহাজে যাওয়া সম্ভব নয়।

বিমানবন্দরে তল্লাশি ব্যবস্থা কিভাবে কাজ করে তা সাংবাদিকদের দেখিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তাহলে অস্ত্রধারী তরুণ কী করে উড়োজাহাজে ঢুকল? কড়া নিরাপত্তাবেষ্টনী কী করে ভেদ করা সম্ভব হলো? ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ থেকে আকাশপথে কার্গো পণ্য পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে অস্ট্রেলিয়া।

এরপর ২০১৬ সালে নিরাপত্তার অজুহাতে যুক্তরাজ্যের ট্রান্সপোর্ট ডিপার্টমেন্ট হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে সরাসরি কার্গো পণ্য পরিবহনে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেয়। এসব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের এক বছরের মাথায় এ ধরনের একটি ঘটনা কি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলে দেবে?

এ কথা ঠিক যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তল্লাশি ভেদ করা সম্ভব নয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, অস্ত্রধারী তরুণ বিমানে উঠল কী করে। নিরাপত্তা তল্লাশির স্তরগুলো পার হলো কী করে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে হয়তো সব পরিষ্কার হবে। তবে নিরাপত্তা যে নিচ্ছিদ্র নয়, তা বোধ হয় বলার অপেক্ষা রাখে না। বিষয়টি নিয়ে ভাবুন।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)