ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ৯ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড

ঢাকা রবিবার, ৯ই বৈশাখ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ , গ্রীষ্মকাল, ৭ই শাবান, ১৪৩৯ হিজরী

আন্তর্জাতিক দুর্ঘটনা, জাতীয়, লিড নিউজ বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে তদন্ত পুরোদমে শুরু: দায়দায়িত্ব নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে তদন্ত পুরোদমে শুরু: দায়দায়িত্ব নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

দায়দায়িত্ব নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

নিরাপদ নিউজ : নেপালে বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে তদন্ত পুরোদমে শুরু হওয়ার আগেই দায়দায়িত্ব নিয়ে অভিযোগ পাল্টা-অভিযোগ শুরু হয়ে গেছে। কাঠমান্ডু বিমানবন্দরের ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ারের গাফিলতিকে দায়ী করছে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স।এয়ারলাইন্সটি বলছে, তাদের বৈমানিক বেঁচে আছেন এবং বৈমানিকদের দিক থেকে কোনো ত্রুটি ছিল না বলেই মনে করছেন তারা।

অন্যদিকে, নেপাল কর্তৃপক্ষ পাইলটকেই দোষারোপ করছে। নেপালে বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক সঞ্জিব গৌতম বলেছেন, বিমানটিকে দক্ষিণ দিক থেকে নামার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এটি নামে বিমানবন্দরের উত্তর দিক থেকে। তিনি বলেন, ‘বিমানটির অস্বাভাবিক এই অবতরণের কারণ সম্পর্কে আমরা নিশ্চিত করে এখনো কিছু বলতে পারছি না।’

ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের সিইও আসিফ ইমরান বলেন, ‘দুর্ঘটনার আগে বিমানের ক্যাপ্টেন ও কাঠমান্ডু এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল বা এটিসি’র মধ্যকার কথোপকথন তারা পেয়েছেন এবং সেটি ইউটিউবেও পাওয়া যাচ্ছে।

এক সময় তার মোবাইল থেকে তিনি সেই কথোপকথনের কিছুটা শোনান। তিনি বলেন, ‘নেপাল কাঠমান্ডু টাওয়ারের গাফলতি ছিলো পাইলটদের ভুল বার্তা দেয়ার। সে কারণেই দুর্ঘটনাটি হয়েছে।’

ইমরান বলেন, ‘পাইলটদের সঙ্গে এটিসি টাওয়ারের ল্যান্ডিংয়ের আগের কথোপকথনে ছিল রানওয়ের কোনো দিক থেকে পাইলট ল্যান্ড করবেন।’ তিনি বলেন, ‘তিন মিনিটের মধ্যে আমাদের পাইলটকে বিভিন্ন বার্তা দেওয়া হয়েছে। এ বার্তা দিয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার কারণেই দুর্ঘটনা হতে পারে বলে আমি মনে করছি। পাইলটদের বিভ্রান্ত করেছে ভুল রানওয়েতে নামার জন্য।’

যদিও নেপালে বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক সঞ্জিব গৌতম বলেছেন, বিমানটিকে দক্ষিণ দিক থেকে নামার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এটি নামে বিমানবন্দরের উত্তর দিক থেকে। এ ছাড়া প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে নেপালের গণমাধ্যম বলছে, দুর্ঘটনার আগে বিমানটি অদ্ভুত আচরণ করেছে।

এ সব কারণে প্রশ্ন ওঠে যে পাইলটদের তরফ থেকে কোনো ত্রুটি ছিল কিনা। তবে ইউএস বাংলার সিইও এ ধরনের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিয়েছেন।

ইউএস বাংলার সিইও বলেন, ‘ক্যাপ্টেন আবিদ হাসান জীবিত আছেন। উনি এয়ারফোর্সে ছিলেন আগে। এ ফ্লাইটের তিনি একজন প্রশিক্ষক। কথোপকথন শোনার পর আমাদের মনে হচ্ছে না যে আমাদের পাইলট কোনো ভুল করেছে। আপনারা যদি কথোপকথন শোনেন বা যে কোনো বোদ্ধাই একথা বলবে।’

এদিকে, দুর্ঘটনার পরপরই নেপালের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ থেকে একটি সাহায্যকারী দল পাঠানো হবে বলেও জানিয়েছেন। সিঙ্গাপুর সফরে থাকা প্রধানমন্ত্রী এক ভিডিও বার্তায় তিনি হতাহতের জন্য শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।

এদিকে, বাংলাদেশের সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম নাইম হাসান ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, তারা তিন সদস্যের একটি তদন্ত দল গঠন করেছেন এবং দলটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাঠমান্ডু গিয়ে তদন্ত শুরু করবে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)