ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট ১১ মিনিট ৪৮ সেকেন্ড

ঢাকা মঙ্গলবার, ৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ , হেমন্তকাল, ১১ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০

ফিচার বিলুপ্ত প্রাচীন ঐতিহ্য: কাঠের খরম,পাদুকা এবং হুক্কা এখন শুধুই ইতিহাস

বিলুপ্ত প্রাচীন ঐতিহ্য: কাঠের খরম,পাদুকা এবং হুক্কা এখন শুধুই ইতিহাস

সরদার কালাম কলারোয়া,নিরাপদ নিউজ : সারা দেশে প্রাচীন আমলে খরম – পাদুকা হিসাবে ব্যবহার হত।সম্ভ্রান্ত বণেদী পরিবারের একমাত্র পছন্দনীয় পাদুকা ছিল কাঠের তৈরি খরম।খরম বিশেষ ভাবে তৈরী হতো কাঠ দিয়ে।উপড়ে একটি কাঠের বল্টু থাকত।যাতে আঙ্গুল আটকে দিয়ে হাটতে সুবিধা হত।পরবর্তীতে খরমের ব্যবহার আরো একটু সহজ করার জন্য একটি বেল্ট লাগানো হয়।সাধারন ও শ্রমজীবি মানুষ খরম ব্যবহার করত না।তারা এক প্রকার পেলাষ্টিকের নাগড়া সাদৃস জুতা ব্যবহার করত। তবে বেশীর ভাগ মানুষ খালি পায়ে থাকত।এবিষয়ে নতুন প্রজন্মের অনেকের অজানা ও ইতিহাস হয়ে থাকলেও,এমনই কথা জানা যায় সাতক্ষীরার কলারোয়া দেয়াড়ার প্রায় ৭০ উর্দ্ধে বছরের মত বয়োজোষ্ঠ জৈনেক্য ইছা শেখ এর কাছ থেকে।কালের আবর্তে দিনে দিনে পণ্যটি বর্তমানে সম্পুর্ন বিলুপ্ত।এখন শুধুই ইতিহাস।যেটা দেশের অনেক জাদুঘর কিংবা কোন প্রদর্শনীর জন্য বিশেষ বিশেষ যায়গায় রাখা আছে বলে ধারণা করেন তিনি।

এছাড়াও তিনি আরো একটি ইতিহাস জড়িত জিনিসের নাম উল্লেখ করে বলেন,আর সেসময় হুক্কার প্রচলন ছিল খুব।যেটা নিজেও কম বেশি সেবন করেছিলেন।ছেড়ে দিয়েছেন প্রায় ত্রিশ বছর আগে বলে জানান তিনি।জানা যায়,হুক্কা সেবনের কাজে ব্যবহার হতো।যেটা বর্তমান সিগারেট সেবনের কাজ করত।যেটাও খরমের মত ওই জাতীয় বণেদী পরিবার নলের হুক্কার ব্যবহার করত।

হুক্কার পাত্র থাকত পিতল বা অন্য কোন ধাতুর।তার সাথে থাকত বড় একটি নল আর দন্ড,দন্ডের উপড় বাহারি কলকি।ধন্নাড্য পরিবারের মিয়া সাহেব আরাম কেদারায় অর্থাৎ চেয়ারে বসে হুক্কা সেবন করত।হুক্কা সাঁজিয়ে দেয়ার জন্য রাখা হতো বেতন ভুক্ত আলাদা লোক।

হুক্কায় তামাক দিয়ে তার উপড় ছোট জ্বালানি/আগুন ধরিয়ে দেওয়া হতো। হাতে তৈরী ওই সুগন্ধী জ্বালানির নাম ছিল টিক্কা।টিক্কায় আগুণ জ্বালিয়ে তামাকের উপর রেখে তা পোড়ানো হতো।মূলত তামাক জ্বলিয়ে নিকোটিন সেবনই ছিল হুক্কা সেবকদের কাজ বলে জানান তিনি।

এছাড়াও তিনি আরো বলেন,সাধারনত হুক্কা তৈরী হতো নারকেলের খোলস দিয়ে। তাতে একটি ছিদ্র থাকত আর উপড়ে একটি দন্ড বসানো হতো।দন্ডের উপড় মাটির তৈরী কলকি রেখে তাতে তামাক দিয়ে আগুন দেয়া হত।তবে সম্ভ্রান্ত – ধন্নাড্ড্য বণেদী লোকের মতো সাধারণেরা টিক্কা ব্যবহার করত না।তাদের জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার হতো নারকেলের ছোবা।

সাধারন মানুষও ব্যাপক ভাবে ওই হুক্কা ব্যবহার করত বলে তিনি ইতিহাস জড়িত কিছু কথা আলাপচারিতায় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন,এখন শুধুই ইতিহাস ও স্মৃতি হলেও ২৫-৩০ বছর পূর্বেও নারকেলের খোলে তৈরী ওই হুক্কার বেশ প্রচলন ছিল দেশের বেশ কিছু এলাকায়।কোন কোন বাড়িতে এখনো সো-পিচ হিসাবে নলের হুক্কা রেখে দেয়া হয়েছে বলে ধারণা।

কিন্তু খরমের প্রচলন প্রায় ৫০ -৬০বছর পূর্বে উঠে গেছে।কালের আবর্তে সিগারেটের ব্যাপক প্রচলনে যেমন হুক্কা বিলুপ্ত হয়েছে তেমনি যান্ত্রিক জীবনে ডিজিটাল যুগের ছোঁয়ায় প্রচলিত ও আরামপ্রদ বিভিন্ন ডিজাইন এবং প্রজাতির পাদুকা খরমকে ইতিহাসের বুকে আস্রয় দিয়েছে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)