সংবাদ শিরোনাম

১৭ই আগস্ট, ২০১৭ ইং

00:00:00 বৃহস্পতিবার, ২রা ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ , শরৎকাল, ২৬শে জিলক্বদ, ১৪৩৮ হিজরী
নিসচা এক্সক্লুসিভ, নিসচা সংবাদ, বিনোদন, লিড নিউজ বিশ্বাস করতে পারছি না মিজু আহমেদ নেই: নিসচা আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তারা

বিশ্বাস করতে পারছি না মিজু আহমেদ নেই: নিসচা আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তারা

পোস্ট করেছেন: লিটন এরশাদ | প্রকাশিত হয়েছে: এপ্রিল ২, ২০১৭ , ৭:০৪ অপরাহ্ণ | বিভাগ: নিসচা এক্সক্লুসিভ,নিসচা সংবাদ,বিনোদন,লিড নিউজ

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) এর সাগর-রুনি মিলনায়তনে নিসচা’র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট অভিনেতা মিজু আহমেদ স্মরণে দোয়া মাহফিল ও স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত

লিটন এরশাদ, ০২ এপ্রিল ২০১৭, নিরাপদনিউজ : আজ ০২ এপ্রিল ২০১৭, রোজ রোববার নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এর আয়োজনে সকাল ১১ টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) এর সাগর-রুনি মিলনায়তনে নিসচা’র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট অভিনেতা মিজু আহমেদ স্মরণে দোয়া মাহফিল ও স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন নিসচার আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মিরাজুল মইন জয়। এরপর মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।


এরপর শুরু হয় স্মৃতিচারণমূলক আলোচনাসভা। মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও কর্মময় জীবনের উপর স্মৃতিচারণমূলক আলোচনায় অংশ নেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও পরিচালক রফিকুজ্জামান, বিশিষ্ট পরিচালক শেখ নজরুল ইসলাম, বিশিষ্ট অভিনেত্রী অরুণা বিশ্বাস, চিত্রনায়ক জায়েদ খান, নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের পক্ষ থেকে ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসান-উল হক কামাল, মহাসচিব শামীম আলম দীপেন, যুগ্ম মহাসচিব বেলায়েত হোসেন খান নান্টু, যুগ্ম মহাসচিব লায়ন গনি মিয়া বাবুল, অর্থ সম্পাদক নাসিম রুমি, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম আজাদ হোসেন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মিরাজুল মইন জয়, প্রচার সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজ ও কার্যনির্বাহী সদস্য আবু সাঈদ খান।এই স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন মরহুমের প্রিয়বন্ধু নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন নিসচার যুগ্ম মহাসচিব লিটন এরশাদ।


চলচ্চিত্র জগতে ইলিয়াস কাঞ্চনের খুব কম সংখ্যক বন্ধু আছেন তাদের ভেতর মিজু আহমেদ অন্যতম বন্ধু ছিলেন। মিজু আহমেদ একাধারে অসংখ্য সিনেমাতে ইলিয়াস কাঞ্চনের সাথে কাজ করেছেন সেই সাথে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে শক্তিমান চলচ্চিত্র অভিনেতা মিজু আহমেদ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছিলেন। দেশ থেকে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সামাজিক এই আন্দোলনে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পদে থেকে তিনি কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন এবং সংগঠনকে গতিশীল করার অবদান রেখেছেন। বর্তমানে তিনি নিসচা’র উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে নিরাপদ সড়ক চাই একজন দক্ষ ও সফল যোদ্ধাকে হারিয়েছে, চলচ্চিত্র হারিয়েছে একজন গুণী অভিনেতাকে।


ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ক্রমবর্ধমান সড়ক দুর্ঘটনারোধে মিজু আহমেদ নিজেকে আত্মনিবেদিত রেখেছিলেন। এই সংগঠনের সকল কর্মকান্ডে সর্বাঘ্রে অবস্থান ছিল তাঁর। মিজু আহমেদ ছিলো আমার খুব কাছের একজন বন্ধু, আজ আমি আমার একজন বন্ধুকে হারালাম, একজন সহযোদ্ধাকে হারালাম আমি। নিসচা হারালো একজন দক্ষ যোদ্ধাকে।


বক্তারা মিজু আহমেদের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনায় উঠে আসে ব্যক্তিজীবনে ধর্মপরায়ণ, আপোষহীন, স্পষ্টবাদী, পরোপকারী, ন্যায়-নীতির প্রশ্নে অবিচল থাকা, জীবনযুদ্ধে সাহসিকতার পরিচয় দেয়া, কর্মজীবনে সহশিল্পী হিসেবে তাঁর মানবিক গুণাবলীর প্রতিফলনের কথা, দৃঢ় মনোবলের অধিকারী, নেতৃত্বে সফলতা অর্জন, চলচ্চিত্র শিল্পের ভূত-ভবিষ্যত নিয়ে ভাবনা- সর্বোপরি কাজে সিনসিয়ার থাকা এবং পরিবারের প্রতি নিবেদিত থেকে সবার হৃদয় জয় করে নিয়েছেন।


ইলিয়াস কাঞ্চন তাঁর বক্তব্যে বলেন, চলচ্চিত্রে আমার হাতে গোনা কয়েকজন বন্ধুর মধ্যে মিজু আহমেদ অন্যতম। মিজুর চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু ১৯৭৭ সালে, আমারও চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু ঐ সালেই। ছবি রিলিজের ক্ষেত্রে আমার ছবি ৭৭ সালে মুক্তি পেলেও মিজু অভিনীত প্রথম ছবি মুক্তি পায় ১৯৭৮ সালে। ঐ যে আমাদের পথচলা তা গত ২৭ মার্চ তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে থেমে গেল। কিন্তু অত্যান্ত দুঃখের বিষয় মৃত্যুর ঠিক মাস দুয়েক আগে ‘ও’ খুব ঘন ঘন নিসচা অফিসে আসছিল। আলাপ হতো নানা বিষয়ে। একদিন অফিস থেকে যাওয়ার সময় বললো ‘৫ এপ্রিল’ তোকে একটা গুরুত্বপূর্ণ খবর জানাবো। চলচ্চিত্র শিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে মিজু সবসময় ভাবতেন। জানি না মিজু ‘৫ এপ্রিল’ আমাকে কি বলতে চেয়েছিল। আর তা আমার শোনাও হবে না। তবে ধারণা করতে পারি হয়তো গুরুত্বপূর্ণ কোন বিষয়ের কথাই বলতো ও। কারণ ‘ও’ সারাক্ষণই চলচ্চিত্রের বর্তমান দুরাবস্থায় চিন্তিত ছিল।

মিজুর সঙ্গে আমার সর্বশেষ কথা হয় এফডিসিতে। ৩ এপ্রিলের চলচ্চিত্র দিবসের প্রস্তুতি কমিটির সভায় গত ২৩/২৫ মার্চ আমরা একসাথে সভায় মিলিত হই। একপর্যায়ে মিজু সভা থেকে চলে যায়। আমি টের পাইনি। সভা শেষে দেখলাম অফিস এসে নামাজ পড়তে গেলে ওয়াক্ত নাও থাকতে পারে। তাই রিস্ক না নিয়ে প্রযোজক সমিতিতে নামাজ পড়তে যাই। গিয়ে দেখি মিজু জুতা-মোজা পড়ছে। বললাম নামাজ পড়বে না। বললো, আমি পড়ে ফেলেছি তুই পড়। এটাই ছিল মিজুর সাথে আমার শেষ কথা। মিজু আহমেদ আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু রেখে গেছেন কর্ম এবং আদর্শ। আমরা তাঁর কর্মের মাধ্যমে তাঁকে বাঁচিয়ে রাখবো যুগ যুগ ধরে। সবাই মিজু আহমেদের পরিবারের জন্য দোয়া করবেন। মিজুর আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া করবেন।


পরিচালক শেখ নজরুল ইসলাম বলেন, মিজুর চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু আমার ‘নদের চাঁদ’ ছবি দিয়ে। কিন্তু আমার ছবিটি শেষ হওয়ার পরে সেন্সর সার্টিফিকেট পেয়েও একবছর লাগে ছবিটি মুক্তি পেতে। তার আগে মুক্তি পেয়ে যায় নারায়ণ ঘোষ মিতার ‘তৃঞ্চা’ ছবিটি। যাই হোক মিজু ছিল আমার আত্মার আত্মীয়। ও সবসময় যে কোন কাজে আমার পরামর্শ চাইতো। দোয়া নিত। এমনকি প্রথম ছবি প্রযোজনার সময় পরিচালক হিসেবে আমার নাম চূড়ান্ত করে রেখেছিল। কিন্তু ব্যস্ততার কারণে ছবিটি আমার করা হয়নি। মিজু নেই কিন্তু তাঁর কর্ম আমাদের অনুপ্রেরণা যোগাবে।


অরুণা বিশ্বাস বলেন, মিজু কাকাকে কখনই পর মনে হয়নি। সেই ছোট্টবেলায় ভারতেরশ্বরী হোমসে পড়ার সময় ছুটিতে বাসায় এলে দেখতাম দুই কাকা রাজীব ও মিজু আহমেদ আমাদের বাসায় প্রতিদিন আসতেন। বাবার সঙ্গে (যাত্রা সম্রাট অমলেন্দু বিশ্বাস) অভিনয়ের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করতেন। তাই সেই ছোটবেলা থেকেই তাদের আপনআলোয় বেঁধে ফেলেছি। আজ আমার দুই কাকা-ই নেই ভাবতে পারি না।


চিত্রনায়ক জায়েদ খান বলেন, আমার অভিভাবক ছিলেন মিজু আহমেদ। প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয়ে তিনি আমাকে উপদেশ দিতেন। আজ তিনি নেই আমি, আমরা এবং চলচ্চিত্র শিল্প অভিভাবক শূন্য হয়ে পড়লো।


নিসচা আয়োজিত স্মরণসভায় প্রয়াত মিজু আহমেদে তিন সন্তান তাছলিমা আহমেদ কেয়া, আফিয়া আহমেদ মৌ ও ছেলে হাশরাত আহমেদ এবং মেয়ে জামাই জসিম উদ্দিন জিয়া, আদরের নাতি সিয়ান উপস্থিত ছিলেন। বাবার মৃত্যুর প্রতিক্রিয়ায় ছেলে হাশরাত আহমেদ বলেন, আমরা বিশ্বাস করতে পারি না আমার বাবা নেই। মনে হয় তিনি কোন কাজে কোথাও গেছেন। ছেলে হাশরাত বাবার জন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়ে চলার পথে কোন ভুল ত্রুটি থেকে থাকলে বাবার পক্ষে সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন।
চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন মিজু আহমেদের ছেলের সাথে সূর মিলিয়ে বলেন, আমার এখনও বিশ্বাস হয়না কিংবা মনে করতে পারি না মিজু নেই।


প্রসঙ্গত উল্লেখ্য নিরাপদ সড়ক চাই সড়কের নিয়ম-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, যানমালের হেফাজত এবং সম্পদহানী রোধে নানা দাবি নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করছে। মিজু আহমেদ এই আন্দোলনের একজন সক্রিয় সৈনিক। যানজট প্রতিটি মানুষের জীবনে একটি অভিশাপ। এই অভিশাপ এতইটা মারাত্মক যে জীবনের উপরে হুমকিস্বরূপ। আমরা এখন বিশ্বাস করতে হচ্ছে সারাদিন এফডিসিতে স্যুটিং শেষে যখন বাসা থেকে দিনাজপুর যাবার উদ্দেশ্যে কমলাপুর স্টেশনের দিকে যাচ্ছিলেন তখন বাংলামটর মোড়ে যানজটে পড়েন তিনি। সময় সন্ধ্যা ৭.৪৫ মিনিট। ট্রেন ছাড়বে ৮টায়। সে যে কি চাপ। এদিকে সহযাত্রী পরিচালক কাজী হায়াৎ ও রেহেনা জলিও যানজটে আটকা পড়ে আছেন মগবাজারে। তাই কাজী হায়াতের সাথে কথা বিনিময়কালে বিরক্তির সাথে বলেছিলেন ‘আর ভাল লাগে না, এদেশ ছেড়ে চলে যেতে ইচ্ছে করছে’- কথার কথা। মিজু আহমেদ অনেকটা রিস্কে পড়েই কমলাপুরে গিয়ে ট্রেনে উঠতে পারলেও কাজী হায়াৎ এবং রেহেনা জলি ট্রেন মিস করেন। এলো মানসিক চাপ। বিরক্তি। তারপর খবর এলো তিনি আর নেই। অকস্মাৎ বিনা মেঘে বজ্রপাতের মত খবরটি ছড়িয়ে পড়লো। কাজী হায়াৎ বললেন, ‘দেশ ছেড়ে চলে যেতে চাইছিল মিজু, কিন্তু দুনিয়া ছেড়েই চলে গেল’।


কথার কথা নয়, সারাদিন স্যুটিং শেষে পরিচালক শাহাদাৎ হোসেনকে যখন বলছিলেন ‘কোন কিছু বাকী আছে কিনা দেখ আমারে আর পাবা না’- তখন আমাদের বুকটা ফেটে চৌচির হয়ে যায় তাঁর মৃত্যুর সংবাদের মধ্যদিয়ে। নিয়মের ব্যতিক্রমতো আর হবে না। মিজু আহমেদ আর ফিরে আসবেন না। তাই আপনাদের বলবো যথাসময়ে নিয়ম মেনে রাস্তার গতি প্রকৃতি দেখে যাত্রা করুন। চাপমুক্ত থাকুন। সড়কের আইন-কানুন মেনে চলুন। জীবনকে নিরাপদ করুন।


প্রয়াত নারায়ণ ঘোষ মিতার তৃঞ্চা চলচ্চিত্র দিয়ে ১৯৭৭ সালে মিজু আহমেদের চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু হলেও তাঁর প্রথম ছবি হচ্ছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক শেখ নজরুল ইসলামের ‘নদের চাঁদ’। তিনি দুইবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন কাজী হায়াতের ‘ত্রাস’ এবং ‘ওরা আমাকে ভাল হতে দিলনা’ চলচ্চিত্রের জন্য। ৮০০ এর মত চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ছবি প্রযোজনায়ও ছিলেন সফল। বন্ধু রাজীবকে (প্রয়াত) নিয়ে গড়ে তোলেন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ফ্রেন্ডস মুভিজ। ভিন্ন ভিন্ রাজনৈতিক আদর্শের সৈনিক হয়েও পাশাপাশি টেবিলে বসে সফল চলচ্চিত্র ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান। কখনই তাদের রাজনৈতিক মতাদর্শ তাদের ব্যবসায়িক এবং বন্ধুত্বের মধ্যে প্রভাব ফেলতে পারে নি।

মিজু আহমেদের ছেলে, মেয়ে, মেয়ে জামাই ও একমাত্র নাতি

বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক মিজু আহমেদ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ৮ নং সেক্টরের অধীন কুষ্টিয়ায় তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানী স্বাক্ষরিত সনদপত্রও শোভা পাচ্ছে মিজু আহমেদের বসার ঘরের দেয়ালে। মৃত্যুও তাঁকে এখন ফ্রেমে বাঁধাই করে ফেললো।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Digg thisShare on Tumblr0Email this to someonePin on Pinterest0Print this page

comments

Bangla Converter | Career | About Us