ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট অক্টোবর ২৮, ২০১৯

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ , হেমন্তকাল, ২৩ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১

অপরাধ, রংপুর বিয়ের ৩৬ দিনের মাথায় যৌতুকের দাবিতে নববধূর হাত-পায়ের রগ কেটে দিলেন স্বামী!

বিয়ের ৩৬ দিনের মাথায় যৌতুকের দাবিতে নববধূর হাত-পায়ের রগ কেটে দিলেন স্বামী!

নিরাপদ নিউজ: রংপুরের পীরগাছায় যৌতুকের দাবিতে বিয়ের ৩৬ দিনের মাথায় এক নববধূকে নির্মম নির্যাতনে অভিযোগ উঠেছে। যৌতুক দিতে না পারায় স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন মিলে ওই গৃহবধূর হাত-পায়ের রগ কেটে দিয়েছেন তারা।

আজ রোববার সকালে পীরগাছা থানা পুলিশ জানতে পেরে ওই নববধূকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় পর দু’দিন ধরে বাড়িতে ওই গৃহবধূকে আটকে রাখেন তারা। বিষয়টি নিয়ে পীরগাছা থানায় মামলা হলেও পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও পুলিশ জানিয়েছে, উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামের মুনছুর আলীর ছেলে শাহজাদা মিয়ার সঙ্গে গত ২০ সেপ্টেম্বর পাশ্ববর্তী তাম্বুলপুর ইউনিয়নের ঘগোয়া সরদারপাড়া গ্রামের ফজলুল হকের মেয়ে শিউলি বেগমের বিয়ে হয়। বিয়েতে কনের বাবা ফজলুল হক নগদ ৮৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার তার জামাইকে দেন।

মেয়ের বিয়ের মেহেদীর রঙ মুছতে না মুছতেই জামাতা শাহজাদা মিয়া আরও দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন মেয়ের বাবার কাছে। টাকা দিতে না পারায় গৃহবধূ শিউলিকে নির্যাতন করা শুরু করেন তারা। এরই এক পর্যায়ে গত ২৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া হলে স্বামী শাহজাদা মিয়া স্ত্রী শিউলিকে হত্যার উদ্দেশে নিয়ে তার স্বজনরা হাত-পায়ের রগ কেটে দেন।

এসময় প্রতিবেশিরা এগিয়ে এলে তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দেন শাহজাদা মিয়া ও তার পরিবারের লোকজন।পরে ওই রাতে স্থানীয় এক হাতুড়ে ডাক্তার এনে নববধূর পায়ে পাঁচটি এবং হাতে ১৫টি সেলাই দিয়ে বাড়িতে আটকে রাখেন তারা।

এ খবর পেয়ে মেয়ের মা রহিমা বেগম ও মামী পেয়ারা বেগম জামাইয়ের বাড়িতে গেলে তাদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেন তারা।

মেয়ের বাবা ফজলুল হক বলেন, ‘আমার মেয়ের বিয়ে ৩৬ দিনের মাথায় যৌতুকের জন্য হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়া হয়েছে।’

পরে রোববার সকালে নববধূর বাবা ফজলুল হক পীরগাছা থানা পুলিশকে বিষয়টি জানালে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিয়াজুল ইসলাম ওই বাড়ি থেকে নববধূকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে পীরগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

পীরগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আল হাদী মোহাম্মদ জানান, মেয়েটির অবস্থা আশঙ্কাজনক।  গ্রাম্য ডাক্তার দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয়েছে।  সুস্থ হতে অনেক সময় লাগবে।

পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম বলেন, ‘আমি খবর পেয়ে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি।  এ বিষয়ে মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)