আপডেট মার্চ ৪, ২০১৯

ঢাকা মঙ্গলবার, ৬ ভাদ্র, ১৪২৬ , শরৎকাল, ১৯ জিলহজ্জ, ১৪৪০

বিনোদন ‘বেশি ধুমপান করার ফল ভোগ করছি’

‘বেশি ধুমপান করার ফল ভোগ করছি’

নিরাপদ নিউজ: বাংলা লোকগানের জনপ্রিয় শিল্পী কুদ্দুস বয়াতি। খাদ্যনালিতে গুরুতর সমস্যা ও ফুসফুসের সংক্রমণ নিয়ে ভর্তি আছেন মহাখালীর বক্ষব্যাধি হাসপাতালে। চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন উন্নত চিকিৎসার জন্য। উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান এই শিল্পী। একই সঙ্গে  বিতর্কিত মন্তব্য ও তার শেষ স্বপ্ন নিয়ে কথা বলেছেন।

কুদ্দুস বয়াতির শরীরে বাসা বাঁধা রোগ নিয়ে ইতোমধ্যে কেউ কেউ বিরূপ মন্তব্য করেছেন। মদ্যপান করতেন বলে অভিযোগ তুলেছে।

এ প্রসঙ্গে কুদ্দুস বয়াতি বলেন, অনেকে অনেক ধারণা করে, বাজে বক্তব্য দেয় উনি নেশা করতেন। এজন্য ফুসফুস ও খাদ্যনালিতে অসুখ হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে তা সত্য নয়।

কুদ্দুস বয়াতি প্রশ্ন রেখে বলেন, যে আলোর জন্য ডাকে সেকি অন্ধকারে থাকতে পারে? যে আলো দেয়, সে অন্ধকারে নিভে যেতে পারে না। আমি আলো দিয়েছি। গানের মাধ্যমে কিছু মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোতে আনতে চেয়েছি।

নিজের কর্মের ফল পেয়েছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, কর্ম সবার জন্য সমান ফল বয়ে আনে। আমি বেশি বেশি সিগারেট খেতাম। তার ফল পেয়েছি। বেশি ধুমপান করার ফল ভোগ করছি।

তিনি জানান, শিক্ষার আলো ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়ার জন্য বাংলার এ প্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত ছুটেছেন। এই দিনকে সেই দিনের কাছে পৌঁছে দিতে তিনি হ্যামিলিয়নের বাঁশিওয়ালা হয়েছেন। তিনি কি নেশার অন্ধকারে থাকতে পারেন?

দেশে এক শ্রেণির শিল্পী প্রকাশ্যে নেশা করে স্টেজে গান করেন। তাদের জন্যই আজ পুরো শিল্পী সমাজ কলঙ্কিত হয়েছে। বিষয়টি উল্লেখ করে তাদের উদ্দেশে কুদ্দুস বয়াতি বলেন, এসব করো না। স্বাস্থ্য রক্ষা করো, অন্যকেও স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করো।

কুদ্দুস বয়াতির চিকিৎসার জন্য ৩০ লাখ টাকার বেশি প্রয়োজন। তবে তার হাতে টাকা না থাকলেও তিনি খুব বেশি চিন্তিত নন। দোয়া চেয়েছেন মানুষের কাছে। তিনি বিশ্বাস করেন সুস্থ হয়ে আবার এই বাংলায় ফিরে আসবেন মাইকেল কুদ্দুস হয়ে।

তিনি বলেন, ভক্তদের কাছে হাত পাততে চাই না। তাদের কষ্ট দিতে চাই না। তারা আমার মনের মানুষ। ভক্তদের কাছে কি টাকা চাওয়া যায়! প্রধানমন্ত্রী ২০ লাখ টাকা দিয়েছেন, আর বাকি টাকা আমার জমি বিক্রি করে হয়ে যাবে।

চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে অসামাপ্ত কিছু কাজ করতে চান উল্লেখ করে বলেন, চিকিৎসা শেষে মাইকেল কুদ্দুস হয়ে দেশে ফিরতে চাই। আবারও গান করে ঘুরে বেড়াতে চাই সারাদেশে। আমি আমার এই নৌকাকে অকালে ডুবাতে চাই না। সবাই দুয়া করবেন। চেষ্টা করছি নতুন করে ফিরে আসার। সোনার বাংলাদেশে আরও কিছু কাজ করে যেতে চাই।

তিনি জানান, লোকজ ইন্সটিটিউট করতে নেত্রকোনায় ৭২ লাখ টাকা খরচ করে কিছুটা কাজ করেছেন। আবারও গান করে ভক্তদের কাছ থেকে পাওয়া টাকা দিয়ে সেই ইন্সটিটিউটের কাজ শেষ করতে চান। তবে এজন্য কারো কাছে সাহায্য চান না। আর এই ইন্সটিটিউটের নামকরণ করবেন বঙ্গবন্ধু লোকজ ইন্সটিটিউট।

১৯৫৯ সালে সালের ১ জানুয়ারি নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কুদ্দুস বয়াতি। নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে জনসচেতনতামূলক ‘এই দিন দিন নয়, আরও দিন আছে’ এমন কথার একটি গান নিয়ে হাজির হন কুদ্দুস বয়াতি।

হ‌ুমায়ূন আহমেদের লেখা ও কুদ্দুস বয়াতির সুর করা এই গানটি রাতারাতি পরিচিতি এনে দেয় বয়াতিকে। এরপর হ‌ুমায়ূন আহমেদের বিভিন্ন নাটকের মধ্য দিয়েও বয়াতি ব্যাপক পরিচিত পান।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)