সংবাদ শিরোনাম

২৫শে জুলাই, ২০১৭ ইং

00:00:00 বুধবার, ১১ই শ্রাবণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ , বর্ষাকাল, ৩রা জিলক্বদ, ১৪৩৮ হিজরী
চট্টগ্রাম, সড়ক সংবাদ বেড়িবাঁধের কাজে ধীরগতি, ঘুম নেই গোমাতলীবাসীর

বেড়িবাঁধের কাজে ধীরগতি, ঘুম নেই গোমাতলীবাসীর

পোস্ট করেছেন: Nsc Sohag | প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ১৬, ২০১৭ , ৭:২২ অপরাহ্ণ | বিভাগ: চট্টগ্রাম,সড়ক সংবাদ

বেড়িবাঁধের কাজে ধীরগতি, ঘুম নেই গোমাতলীবাসীর

সেলিম উদ্দিন, ১৬ জুলাই ২০১৭, নিরাপদ নিউজ : জিও ব্যাগ পড়ে আছে বেড়িবাঁধের পাশে গত ১ মাস ধরে । বেড়িবাঁধের খুব কাছেই স্লুইচ গেইট সংলগ্ন পয়েন্ট দিয়ে জোয়ার-ভাটা আর বৃষ্টিতে বেড়িবাঁধের মাটি ধসে প্রতিদিন বাড়ছে ভাঙার পরিধি। বাঁধের পাশে খালি পড়ে আছে টেংকার। যে দুজন লোক এসব পাহারা দিচ্ছে তাদেরও নিয়মিত দেখা যায়না।

কক্সবাজার সদর উপজেলার পোকখালী ইউনিয়নের গোমাতলী পাউবো বেড়িবাঁধের ৬ নং স্লুইচ ঘাটের দৃশ্য এটি। ১ কোটি ৫৭ লাখ টাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের অধীনে এখানে কাজ শুরুর কথা ছিল গত জুন মাস থেকে । কিছু জিও-ব্যাগ খালি টেংকার ছাড়া বেড়িবাঁধে মাটি ভরাটের দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি ১ মাসেও। এখন বর্ষা মৌসুম ও বালি সংকটের অজুহাতে কাজ বন্ধ রেখেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার।

১ মাসের মধ্যে দরপত্রের শর্তানুযায়ী টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের বিষয়ে সন্দিহান এলাকাবাসী। বাপ-দাদার বসতভিটা, লবণ মাঠ-চিংড়ি ঘের ভাঙনের হাত থেকে রক্ষার চিন্তায় ঘুম হারাম অনেকের। গোমাতলী রাজঘাট এলাকার দেলোয়ার হোসাইন জানান, দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ। সাগর উত্তাল হলেই আমরা আতঙ্কে থাকি। বর্তমান সরকার বেড়িবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এটি আমাদের জন্য সুখবর হলেও বিগত ১৪ মাসেও দৃশ্যমান কাজ হয়নি। বর্তমানে বৃহত্তর গোমাতলী অরক্ষিত। জোয়ার ভাটায় ইতিমধ্যে কয়েক জায়গায় ভেঙে পানি ঢুকছে। কখন যে আমাদের জীবনের নিরাপত্তা পাব? শঙ্কা প্রকাশ করলেন দেলোয়ার।

স্থানীয় ৭নং ওর্য়াড মেম্বার মাহমুদুল হক দুখু মিয়া জানান, বেড়িবাঁধের কাজ শুরু হওয়ায় আমরা খুব খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু ধীরগতির কাজে এখন হতাশ। সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় মোরার আঘাতে বেড়িবাঁধ একাধিক জায়গা ভেঙে গেছে। তিনি বলেন, জিও ব্যাগ-খালি টেংকার রেখে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার এলাকাবাসীর সাথে প্রতারনা করেছে। আমরা চাই জীবনের নিরাপত্তা।

স্থানীয় শিক্ষানুরাগী আতাউল গনি ওসমানী জানালেন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) থেকে যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গোমাতলী এলাকার বেড়িবাঁধ নির্মাণের কার্যাদেশ পেয়েছেন তারা এলাকায় খুব একটা আসেন না। যে পরিমাণ কাজ করার কথা ছিল, তা করা হয়নি। সে তার ইচ্ছেমতো কালক্ষেপন করছে।

পোকখালী ইউপির ৮নং ওর্য়াড মেম্বার আলা উদ্দীন বলেন, যখনই সরকার বেড়িবাঁধ নির্মাণে ১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়, তখন আমাদের মাঝে স্বস্তি নেমে আসে। আমার ওয়ার্ডে প্রায় ১ হাজার মানুষ জীবনঝুঁকিতে আছে। আমরা চাই টেকসই ও মজবুত বেড়িবাঁধ।

ভাঙা বেড়িবাঁধের সি ব্লক ৬ নং স্লুইচ দিয়ে আসা জোয়ারের পানিতে দুর্ভোগে পোহাতে হচ্ছে জানিয়ে গোমাতলী মোহাজের সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এইচএম শফি উল্লাহ বলেন, আমাদের এলাকার জনসাধারণ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ। সাগর উত্তাল হলেই লোকজনের মধ্যে প্রাণ হারানোর শঙ্কা ভর করে। দীর্ঘস্থায়ী বেড়িবাঁধ না হলে আমাদের জীবনের নিরাপত্তা হবে না। বর্তমানে জোয়ার ভাটার কারনে স্কুলের শ্রেণী কার্যক্রম বন্দ রয়েছে। ১৯৯১ সালের পর থেকে এই এলাকায় বেড়িবাঁধের কোনো কাজ হয়নি বলেও জানান তিনি।

সরকারের বেড়িবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে পোকখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক আহমদ জানান, ২০ হাজারের বেশি জনসংখ্যার বৃহত্তর গোমাতলীর চতুর্দিকে সাড়ে ৬ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে উত্তর-পশ্চিমের ১ কিলোমিটার এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মিত হচ্ছে। এতে ৩ কিলোমিটার এলাকা সম্পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ। সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় মোরার আঘাতে গোমাতলীর ৭,৮ও ৯ নং ওর্য়াডে বসত বাড়ী হারিয়েছেন ১ হাজার পরিবার। তিনি আরও জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ১ মাস আগে কার্যাদেশ পেয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এখনো কোনো কাজই করতে পারেনি। আমি ইতিমধ্যে পাউবোকে বিষয়টি অবহিত করেছি। যাতে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়।

সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সুপার ভাইজার মো: জমির জানান, বেড়িবাঁধের কাজ শুরূ করতে ইতিমধ্যে জিও ব্যাগ-টেংকার নেয়া হয়েছে। বালির সংকট থাকায় আপাতত কাজ বন্দ রয়েছে।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সাবিবুর রহমান বলেন, কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৬৬/৩ নং পোল্ডারের গোমাতলী এলাকায় বেড়িবাঁধের কাজ শুরু করা হয়েছে। জরুরী বরাদ্দ দিয়ে বেড়িবাঁধের সব ভাঙনগুলো পুনঃনির্মাণ করার জন্য ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। এতে অনিয়ম হলে ব্যাবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0Digg thisShare on Tumblr0Email this to someonePin on Pinterest0Print this page

comments

Bangla Converter | Career | About Us