আপডেট ২ মিনিট ৪২ সেকেন্ড

ঢাকা শনিবার, ১০ চৈত্র, ১৪২৫ , বসন্তকাল, ১৬ রজব, ১৪৪০

টিভি প্রোগ্রাম বৈশাখী টিভির ‘প্রিয়মুখ’ অনুষ্ঠানে দেশের প্রথিতযশা নাট্য ব্যক্তিত্ব ড. ইনামুল হক

বৈশাখী টিভির ‘প্রিয়মুখ’ অনুষ্ঠানে দেশের প্রথিতযশা নাট্য ব্যক্তিত্ব ড. ইনামুল হক

নিরাপদ নিউজ: বৈশাখী টিভিতে নতুন বছর থেকে শুরু হয়েছে শোবিজ মিডিয়ার তারকাদের জীবনীভিত্তিক অনুষ্ঠান ‘প্রিয়মুখ’। ১৬ মার্চ সন্ধ্যা ৬.০০ টায় প্রচার হবে এ অনুষ্ঠানের ১১তম পর্ব। এ অনুষ্ঠানের জন্য মুখোমুখি কথা বলেছেন দেশের প্রথিতযশা নাট্য ব্যক্তিত্ব ড. ইনামুল হক। প্রথম নাটকে নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি। বললেন অজানা আরো অনেক কথা। শহিদুল ইসলাম সজীবের প্রযোজনায় অনুষ্ঠানটি গ্রন্থনা ও সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছেন দুলাল খান।

গ্রুপ থিয়েটার আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব ড. ইনামুল হক। মঞ্চ, বেতার, টেলিভিশনের গুণী অভিনেতা ও নাট্যকার, নির্দেশক, নাট্যবিষয়ক প্রশিক্ষক এবং শিক্ষাবিদ। তিনি ’৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, ’৭০’র নির্বাচন এবং ’৭১’র রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন পরম সাহসিকতায়।
নাটক সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার- বাক্যটি মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন তিনি। এ বিশ্বাস থেকেই পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে নাটককে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে রাস্তায় নামেন ১৯৬৮ সালে।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ। শৃঙ্খল ভাঙ্গার স্বপ্নে বিভোর পুরো দেশ। পাকিস্তানী শাসকচক্রের ষড়যন্ত্রে চারদিকে থমথমে পরিবেশ। সবার মাঝেই অজানা আশঙ্কা। এরই মাঝে পাকিস্তানী সরকারের বিরুদ্ধে অসীম সাহসিকতায় রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে পথনাটক করে বেড়ান ড. ইনামুল হক। দেশমাতৃকার জন্য তখন তিনি সাহসী যোদ্ধা। সেই যে শুরু তা থামেনি এখনো। নাটকেই তিনি খুঁজে পেয়েছেন তার আপন ঠিকানা। জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন যাকে তিনিও নাটকের মানুষ। নাটকের মানুষ তার দুই মেয়ে এবং তাদের জীবনসঙ্গীও।

নাটকের সাথে তার সম্পৃক্ততা দীর্ঘদিনের। তিনি ইতোমধ্যেই সাড়ম্বরে উদযাপন করেছেন নাট্যাঙ্গনে তার ৫০ বছর পূর্তি উৎসব। অক্সফোর্ড ডিকশনারির সংজ্ঞা অনুযায়ী ড. ইনামুল হক হলেন একজন জেন্টলম্যান। অতীব সজ্জন, বিনয়ী, মিষ্টভাষী ও নিরহঙ্কারি মানুষ।

তার প্রতিদিনের যাপিত জীবন অতিবাহিত হয় শিল্প পরিবার, সহকর্মী নাট্যজন, নাট্য সুহৃদ ও অগনিত ভক্তের অকৃত্রিম ভালোবাসায়। তার শিল্পের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক, কীর্তিময় জীবন ছড়িয়ে পড়–ক দিগ্দিগন্তে, বেঁচে থাকুন নাটক এবং নাটকের মানুষের মাঝেই—এমন প্রত্যাশা আমাদের।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)