ব্রেকিং নিউজ
বাংলা

আপডেট অক্টোবর ২০, ২০১৮

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ , হেমন্তকাল, ৫ রবিউল-আউয়াল, ১৪৪০

জীবনযাপন, রাজশাহী বড়াইগ্রাম ট্রাজেডিঃ চার বছরেও সুস্থ জীবনে ফিরতে পারেনি বিলকিস

বড়াইগ্রাম ট্রাজেডিঃ চার বছরেও সুস্থ জীবনে ফিরতে পারেনি বিলকিস

নিরাপদ নিউজঃ ‘১০ কাঠা জমি, তিনডে গরু, একটা স্যালো মেশিন আর নগদ আয়ের উৎস হপার মেশিন (গমসহ চৈতালী ফসল সংগ্রহে ব্যবহৃত) বেইচে মেয়েডারে চিকিৎসা করাইছি, কিন্তু মেয়ে আমার এখনও সুস্থ হইলো না। প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকার ওষুধই লাগে, সংসার খরচ আছে-এসব খরচ যোগাতে এখন আমি রাস্তায় রাস্তায় ভ্যান চালাই। তবু যদি মেয়েডা আমার সুস্থ হয়’। অশ্রু মুছতে মুছতে কথাগুলো বলছিলেন ২০১৪ সালের ২০ অক্টোবর নাটোরের বড়াইগ্রামের রেজুর মোড়ে দেশের সবচেয়ে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যাওয়া চাটমোহরের ছাইখোলা গ্রামের বিলকিস খাতুনের বাবা আজাহার আলী। শনিবার বিকালে (২০ অক্টোবর) বড়াইগ্রাম উপজেলা প্রেসক্লাবে মেয়েকে সহ এসে তিনি তার দুর্দশার কথা জানিয়ে মেয়ের চিকিৎসার জন্য সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন মহলের কাছে আর্থিক সাহায্য কামনা করেন। উল্লেখ্য, এদিনের দুর্ঘটনায় ৩৮ জন নিহত ও আরো ২৫ জন আহত হন।
জানা যায়, সেদিন বড় বোন আঞ্জুয়ারা খাতুনকে ডাক্তার দেখিয়ে বনপাড়া থেকে অথৈ পরিবহণে বাড়ি ফেরার পথে রেজুর মোড়ের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বিলকিস আহত হন। পরে সেখান থেকে তাকে প্রথমে বনপাড়ায় ও পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে দীর্ঘ ৪৩ দিন সংজ্ঞাহীন থাকার পাশাপাশি তিন মাস স্মৃতিশক্তি হারানো অবস্থায় ছিলো সে। বাম পা ভেঙ্গে যাওয়াসহ শরীরের অসংখ্য স্থানে বাসের জানালার ভাঙ্গা কাঁচ ঢুকেছিল। দফায় দফায় অপারেশন আর ঔষধের ব্যায় মেটাতে ইতোঃমধ্যে একমাত্র ভিটেবাড়ি ছাড়া সব কিছু বিক্রি করে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকা খরচ করেছে বিলকিসের বাবা। কিন্তু এখনও পুরোপুরি সুস্থ নয় বিলকিস খাতুন। বর্তমানে বিলকিস রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাড়জোড় বিশেষজ্ঞ ডা. সাঈদ আহমেদ বাবুর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছে। তার পায়ের হাড় জোড়া লাগানোর জন্য প্রায় সাড়ে চার কেজি ওজনের লোহার পাত পায়ের সঙ্গে লাগিয়ে রাখা হয়েছে। দিনের অধিকাংশ সময় তাকে বিছানায় শুয়েই কাটাতে হয়। একটু হাঁটাচলা করলে পা ফুলে গিয়ে রক্ত পড়ে। প্রতি সপ্তাহে ঔষধ বাবদ তার ১২শ টাকা করে খরচ পড়ে। অসুস্থ বিলকিস কান্না চাপতে চাপতে জানায়, অর্থাভাবে আমার চিকিৎসা বন্ধের উপক্রম হয়েছে। সরকারী বা কোন সহৃদয়বান ব্যাক্তি একটু সহযোগিতা করলে সুস্থ হয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে আমি দেশ ও দশের সেবা করতে চাই। দেশের বিত্তবান ও দানশীল ব্যাক্তিরা তাকে সহযোগিতা করতে চাইলে নিরাপদনিউজ অফিসে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)