আপডেট ২৮ সেকেন্ড

ঢাকা মঙ্গলবার, ৪ পৌষ, ১৪২৫ , শীতকাল, ১০ রবিউস-সানি, ১৪৪০

সম্পাদকীয় বড় শঙ্কার কারণ রোহিঙ্গারা

বড় শঙ্কার কারণ রোহিঙ্গারা

নিরাপদ নিউজ: রোহিঙ্গা সংকট এখনই বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের শঙ্কার কারণ হয়ে উঠেছে। অদূর ভবিষ্যতে তা আরো তীব্র হয়ে উঠবে এবং এর জন্য বাংলাদেশকে অনেক মূল্য দিতে হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে অনেকেই। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ডভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড অ্যানালিটিকার বিশ্লেষণ থেকেও তেমনই আভাস পাওয়া যায়। বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে কৌশলগত পরামর্শদাতা এই প্রতিষ্ঠানের মতে, প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরির জন্য বিশ্বসম্প্রদায় মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির পাশাপাশি সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশ কী করছে, তার ওপরও নজরদারি বাড়িয়েছে। যেনতেন উদ্যোগ বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখোমুখি করতে পারে।

অন্যদিকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ এশিয়ায় জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডে রোহিঙ্গাদের সম্পৃক্ততা বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাও বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারে।অক্সফোর্ড অ্যানালিটিকার মতে, প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হওয়ায় আশ্রয়শিবির থেকে রোহিঙ্গাদের কম ঘনবসতিপূর্ণ বিভিন্ন এলাকায় স্থানান্তরের জন্য বাংলাদেশের ওপর চাপ ক্রমেই বাড়বে। নিকট-অতীতেও এমন অনেক দাবি উঠেছে। কিন্তু বাংলাদেশে তেমন জায়গা কোথায়? কক্সবাজারের বনাঞ্চলের একটি বড় অংশই এর মধ্যে ধ্বংস হয়ে গেছে।

বাকি বনাঞ্চলগুলো ধ্বংস করা হলে তার পরিণতি কী হবে? সরকার এক লাখ রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর ভাসানচরে নিতে চাইছে। দুই হাজার ৩০০ কোটি টাকা খরচ করে সেখানে তাদের আশ্রয় প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও এনজিও এর বিরোধিতা করছে। রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে না যাওয়ার জন্য উসকানি দিচ্ছে। গত ১৫ নভেম্বর মিয়ানমারে প্রথম দফা প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে রোহিঙ্গারা ফিরে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। বাংলাদেশও বলেছে, জোর করে কাউকে ফেরত পাঠানো হবে না। জানা যায়, অনেক রোহিঙ্গা ফিরে যেতে রাজি ছিল এবং সেভাবেই প্রথম দফায় প্রত্যাবাসনে ইচ্ছুকদের তালিকা করা হয়েছিল। প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, আশ্রয়শিবিরে কাজ করা এনজিওগুলো রোহিঙ্গাদের ফিরে না যাওয়ার জন্য সংগঠিত করেছে।

তা হলে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা নিয়ে কী করবে বাংলাদেশ? জাতিসংঘসহ অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থাই বলছে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার মতো পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি। রোহিঙ্গারাও দাবি করছে, পূর্ণ নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা, অবাধ চলাফেরার অধিকারসহ মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা সেখানে ফিরে যাবে না। কিন্তু বিশ্বসম্প্রদায় এমন কোনো চাপ এখনো সৃষ্টি করতে পারেনি, যাতে মনে হয় শিগগিরই মিয়ানমার সেসব দাবি মেনে নেবে। আগামি ৫০ বছরে মানা হবে কি না, তা-ও বলা সম্ভব নয়।

সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশে কি রোহিঙ্গাদের স্থায়ী করার চেষ্টা হবে এমন প্রশ্ন এখন অনেকেই করছে। ভাসানচরে স্থানান্তরেও যেসব আন্তর্জাতিক সংস্থা আপত্তি করছে, তারা অন্য কোনো দেশে এর চেয়ে ভালো কোনো স্থানে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করছে না কেন? বাংলাদেশের ভবিষ্যতের কথা বাংলাদেশকেই ভাবতে হবে। সুষ্ঠু পরিকল্পনা নিয়ে এই সংকট সমাধানে বাংলাদেশকেই এগিয়ে যেতে হবে।

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)