আপডেট এপ্রিল ২৯, ২০১৯

ঢাকা মঙ্গলবার, ৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ , গ্রীষ্মকাল, ১৫ রমযান, ১৪৪০

ভ্রমন ভাইজাকে একাধিক মনোরম সৈকত

ভাইজাকে একাধিক মনোরম সৈকত

নাসিম রুমি, ২৯ এপ্রিল ২০১৯, নিরাপদ নিউজ: ভারতে এই রাজ্যটি ছিলো অতীতে বিশাখাপতম। এখন হয়েছে ভাইজাক। মূলত বন্দর শহর এটি। একাধিক মনোরম সৈকত রয়েছে। এখানে বিদেশি পর্যটকদের আগমন চোখে পড়ার মতো। পাহাড় সাগরের অপরূপ যুগলবন্দিতে চন্দ্রাকার সমুদ্র সৈকত, বালিতে সাগরজলের লুটোপুটি ঘন নীল জল নীল অকাশ – অদ্ভুত ভালোলাগার টানেই শীতের এক দুপুরে হাওড়া থেকে করমগুল এক্সপ্রেসে চেপে পরদিন খুব ভোরে বিশাখাপত্তনম পৌঁছলাম।বিশাখাপত্তনম অন্ধ্রপ্রদেশের বন্দরনগরী। কেউ বলেন ওয়ালটেয়ার কেউবা ভাইজাগ। স্টেশন থেকে বেরিয়ে অটোতে মিনিট পাঁচেকের মধ্যে হোটেলে পৌঁছে গেলাম।

 

রামকৃষ্ণ বিচে সাংবাদিক, লেখক ও পর্যটক নাসিম রুমি

সেদিনটা বিশ্রামে কাটিয়ে পরদিন সকাল থেকে শুরু হল ভাইজাগ সফর। এই সফর দু ভাবে হতে সময় নিয়ে ঘুরে দেখে অথবা স্থানীর পর্যটন সংস্থার প্যাকেজ ট্যুরের সাহায্য নেওয়া। সেক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য সংস্থা অন্ধ্রপ্রদেশ পর্যটন। শহরের মূল আকার্ষন রামকৃষ্ণ বিচ। অর্ধচন্দ্রকার এই সমুদ্রসৈকত দেখে মগ্ধতায় মন আবিষ্ট হয়ে গেল। বিচের বিপরীতেই দক্ষিণেশ্বর সামনে অন্তহীন বঙ্গোপসাগরের উথালপাতাল ঢেউ আর সৈকত জুড়ে বিক্ষিপ্তভাবে পড়ে থাকা পাথরখগু যেন সুন্দরের মধ্যে লুকিয়ে থাকা মৃত্যুর করাল থাবা। ইচ্ছা হলে এখানে গোসল করা যায়। বিচ রোডের ওপরেই বিশাখা মিউজিয়াম। মিউজিয়ামের অন্যতম প্রধান দ্রষ্টব্য ৩৫০ কিলোগ্রাম ওজনের জাপানি বোমা। শহরের আরও এক দ্রষ্টব্য ইন্দিরা গান্ধি জ্যুলজিক্যাল পার্ক। টয়ট্রেনে পার্ক সাফারির ব্যবস্থা রয়েছে ঘন্টায় ঘন্টায়। সময় লাগে ৪৫ মিনিট।

ভাইজাগের কৈলাসাগিরি মনোরম সৈকত

বাঘ চিতাবাঘ সিংহের সঙ্গে নানান পাখি ও সরীসৃপের সংগ্রহ দেখা বিস্মত হতে হয় । ভাইজাগ শহরের শিরোমনি কৈলাসগিরি মনোরম প্রকৃতির মাঝে নয়নলোভন পরিবেশে গড়ে উঠেছে কৈলাসগিরি। তিনদিক নীল সমুদ্র ঘেরা। পাহাড়টাও যেন সাগরের বুকে ঝুলে থেকে শোভা বাড়িয়েছে। টয়ট্রেনে পুরো কৈলাসগিরি ঘুরে দেখা যায়। আর আছে। ভাইজাগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৈকত ঋষিকোন্ডা বিচ। শহরের শেষ প্রান্তে এর অবস্থান। মুগ্ধকর এই বালিয়াড়ির একদিকে ঝাউবন, আর একদিকে পাহাড়- সামনে সুনীল সফেন বঙ্গোপসাগর। প্রকৃতির কোল প্রাচীন উপজেতি অধ্যুষিত নিরালা নির্জন এই সাগর সৈকতের আকর্ষণে বিদেশি পর্যটকরাও এখানে ভিড় করেন। একটা দিন একটা বেলা এখানে না কাটাতে পারলে অতৃপ্তি থেকে যাবে। আরও ভাল হয় যদি একটা রাত এখানে কাটাতে পারেন। সেক্ষেত্রে নিজেদের উদ্যোগেই আসতে হবে। ছায়ার ঢাকা লালমাটির দেশ আরাকু ভ্যালি। সবুজ পূর্বঘাট পাহাড় অসাধারন পথশোভা আর ছোট ছোট আদিবাসী গ্রাম নিয়ে ছবির মতোই সুন্দর এখানকার প্রকৃতি। বিশাখাপওনম থেকে রেল এবং সড়ক দু ভাবেই আরাকু পোঁছনো যায়। আরাকু যাত্রীদের প্রথম পছন্দের তালিকায় থাকে ট্রেন।

সাংবাদিক, লেখক ও পর্যটক নাসিম রুমি

পাঠকের মন্তব্য: (পাঠকের কোন মন্তব্যের জন্য কর্তৃপক্ষ কোন ক্রমে দায়ী নয়)